রাজশাহীতে আ.লীগ নেতা কালুকে জিজ্ঞাসাবাদ
jugantor
গভীর রাতে বাসায় গুলি
রাজশাহীতে আ.লীগ নেতা কালুকে জিজ্ঞাসাবাদ

  রাজশাহী ব্যুরো  

১২ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় গুলি ছোড়ার ঘটনায় কিনারা পাচ্ছে না পুলিশ। ৭ আগস্ট গভীর রাতে বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান ওরফে কালুর রানীবাজার মুন্সিডাঙ্গার বাসায় গুলি বর্ষণ করেন দুই অস্ত্রধারী। ঘটনার রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ উপশহরের একটি ভবন থেকে তাদের গ্রেফতার করে। এদিকে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান কালুকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আরএমপির সদর দপ্তরে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ ঘটনায় গ্রেফতার ওয়াহিদ মুরাদ জামিল ওরফে লিঙ্কন (৫৬) ও তার গাড়িচালক সজল আলীকে (২৬) বুধবার আদালতে উঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে রাজশাহী মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট-২ আদালতের বিচারক তাদের দুজনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন।

আতিকুর রহমান কালু পুলিশকে জানিয়েছেন, অস্ত্রধারী ওয়াহিদ মুরাদ জামিল লিঙ্কনকে চেনেন না। আগে কোনোদিন এর সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটেনি এবং যোগাযোগও ছিল না। কেন লিঙ্কন গভীর রাতে তার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাকে গুলি করে মারতে চেয়েছিল, তাও বুঝতে পারছেন না। পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, আতিকুর রহমান কালু দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীর সিটি হাটের অন্যতম ইজারাদার।

অন্যদিকে ঘটনা তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, কালুর বাসায় গুলি বর্ষণের ঘটনার পেছনে এমন কোনো ঘটনা আছে, যা কোনো পক্ষই প্রকাশ করছে না। এতে বেধেছে বিপত্তি। পুলিশ গুলি ছোড়ার ঘটনার কোনো কূলকিনারা পাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার ওয়াহিদ মুরাদ জামিল লিঙ্কন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, কালুর কাছে তিনি ১০ কোটি টাকা পাবেন। এই টাকা হুন্ডির। অনেকদিন ধরে টাকা চেয়ে পাননি বলে ওই রাতে ক্ষোভ থেকে তিনি তার বাসায় গুলি করেছিলেন। কিন্তু এই তথ্যেরও সত্যতা নিশ্চিত হতে পারছে না পুলিশ। কারণ কালু গ্রেফতার লিঙ্কনকে কোনোদিন দেখেননি বলে প্রথম থেকেই দাবি করে আসছেন।

বোয়ালিয়া থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার মুরাদ লিঙ্কন একজন আমেরিকান নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ঢাকার মিরপুরে তার বাসা রয়েছে। রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা এলাকায় তার আদি বাড়ি। রাজশাহী ও ঢাকায় ডেভেলপার হিসাবে তার বিনিয়োগ আছে। বিভিন্ন অপরাধে লিঙ্কনের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও পুলিশের হাতে তেমন কোনো প্রমাণও নেই। আওয়ামী লীগ নেতা কালুর সঙ্গে লিঙ্কনের কীসের বিরোধ, সেটাই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া লিঙ্কনের বাসায় পাওয়া অস্ত্র ও গুলির লাইসেন্স রয়েছে। মূলত কোনো পক্ষই প্রকৃত সত্য প্রকাশ করছে না। এ কারণে ঘটনার রহস্য নিয়ে পুলিশ বিপাকে পড়েছে।

গভীর রাতে বাসায় গুলি

রাজশাহীতে আ.লীগ নেতা কালুকে জিজ্ঞাসাবাদ

 রাজশাহী ব্যুরো 
১২ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় গুলি ছোড়ার ঘটনায় কিনারা পাচ্ছে না পুলিশ। ৭ আগস্ট গভীর রাতে বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান ওরফে কালুর রানীবাজার মুন্সিডাঙ্গার বাসায় গুলি বর্ষণ করেন দুই অস্ত্রধারী। ঘটনার রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ উপশহরের একটি ভবন থেকে তাদের গ্রেফতার করে। এদিকে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান কালুকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আরএমপির সদর দপ্তরে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ ঘটনায় গ্রেফতার ওয়াহিদ মুরাদ জামিল ওরফে লিঙ্কন (৫৬) ও তার গাড়িচালক সজল আলীকে (২৬) বুধবার আদালতে উঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে রাজশাহী মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট-২ আদালতের বিচারক তাদের দুজনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন।

আতিকুর রহমান কালু পুলিশকে জানিয়েছেন, অস্ত্রধারী ওয়াহিদ মুরাদ জামিল লিঙ্কনকে চেনেন না। আগে কোনোদিন এর সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটেনি এবং যোগাযোগও ছিল না। কেন লিঙ্কন গভীর রাতে তার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাকে গুলি করে মারতে চেয়েছিল, তাও বুঝতে পারছেন না। পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, আতিকুর রহমান কালু দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীর সিটি হাটের অন্যতম ইজারাদার।

অন্যদিকে ঘটনা তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, কালুর বাসায় গুলি বর্ষণের ঘটনার পেছনে এমন কোনো ঘটনা আছে, যা কোনো পক্ষই প্রকাশ করছে না। এতে বেধেছে বিপত্তি। পুলিশ গুলি ছোড়ার ঘটনার কোনো কূলকিনারা পাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার ওয়াহিদ মুরাদ জামিল লিঙ্কন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, কালুর কাছে তিনি ১০ কোটি টাকা পাবেন। এই টাকা হুন্ডির। অনেকদিন ধরে টাকা চেয়ে পাননি বলে ওই রাতে ক্ষোভ থেকে তিনি তার বাসায় গুলি করেছিলেন। কিন্তু এই তথ্যেরও সত্যতা নিশ্চিত হতে পারছে না পুলিশ। কারণ কালু গ্রেফতার লিঙ্কনকে কোনোদিন দেখেননি বলে প্রথম থেকেই দাবি করে আসছেন।

বোয়ালিয়া থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার মুরাদ লিঙ্কন একজন আমেরিকান নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ঢাকার মিরপুরে তার বাসা রয়েছে। রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা এলাকায় তার আদি বাড়ি। রাজশাহী ও ঢাকায় ডেভেলপার হিসাবে তার বিনিয়োগ আছে। বিভিন্ন অপরাধে লিঙ্কনের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও পুলিশের হাতে তেমন কোনো প্রমাণও নেই। আওয়ামী লীগ নেতা কালুর সঙ্গে লিঙ্কনের কীসের বিরোধ, সেটাই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া লিঙ্কনের বাসায় পাওয়া অস্ত্র ও গুলির লাইসেন্স রয়েছে। মূলত কোনো পক্ষই প্রকৃত সত্য প্রকাশ করছে না। এ কারণে ঘটনার রহস্য নিয়ে পুলিশ বিপাকে পড়েছে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন