অপ্রতুল ত্রাণ সরবরাহ

শূন্যরেখার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক বিপর্যয়

  শফিক আজাদ, উখিয়া (কক্সবাজার) ২৫ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা
ছবি- সংগৃহীত

সীমান্তের তমব্রু কোনারপাড়া শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপ্রতুল ত্রাণ সরবরাহের কারণে সেখানে দেখা দিয়েছে মানবিক বিপর্যয়। এক দিকে বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢল, অন্য দিকে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অভাব রোহিঙ্গাদের সীমাহীন দুর্ভোগে ফেলেছে।

জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচি ডব্লিউএফপির আওতায় ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব রেডক্রস (আইসিআরসি) ত্রাণ বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

গত বছরের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে এসে ওই শূন্যরেখায় আশ্রয় নেয় সাড়ে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা। তারা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন ১০ মাস ধরে। এর মধ্যে মিয়ানমার সেনা ও বিজিপি হুমকি-ধমকিসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রাখে।

যাতে শূন্যরেখা ত্যাগ করে এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে চলে যায়। কিন্তু শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গারা স্থান ত্যাগ করেনি। তাদের অভিমত প্রত্যাবাসন শুরু হলে তারা সেখান থেকেই নিজ বাড়িতে ফিরে যাবে। তবে সরকার ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থা শূন্যরেখার তমব্র“ খালের পাড়ে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিয়মিত ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে আসছিল।

কথা হল বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তমব্রু শূন্যরেখায় অবস্থান করা রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদের সঙ্গে। তিনি জানান, জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচি ডব্লিউএফপির আওতায় ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব রেডক্রস (আইসিআরসি) মাসে দু’বার করে ত্রাণ দিয়ে আসছিল।

সর্বশেষ গত ২৯ মে এখানে সবার মাঝে ত্রাণ দেয়া হয়। এরপর থেকে সংস্থাটি ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে রোহিঙ্গা শিবিরে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। খাবার সংকটের সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে রোহিঙ্গা শিবিরটি তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। চরম দুর্ভোগে দিন কাটাতে হচ্ছে রোহিঙ্গাদের।

রোহিঙ্গা নেতা মৌলভী আরফাত জানান, পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি চাল, পাঁচ লিটার তেলসহ অন্যান্য সামগ্রী দেয়া হতো। কিন্তু হঠাৎ করেই সংস্থাটি এই খাদ্য সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। ঈদুল ফিতরের আগে খাদ্য দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়নি। কবে নাগাদ দেয়া হবে তাও কর্তৃপক্ষ বলছে না।

কেন রেডক্রস খাদ্য সহায়তা বন্ধ করেছে তা জানাতে না পারলেও শিবিরের রোহিঙ্গা আবদুল্লাহ ও হাবিবুল্লাহ জানান, ঈদের আগে তুরস্কভিত্তিক একটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা তাদের শিবিরে কিছু ত্রাণ দিয়েছিল। এর পর থেকেই রেডক্রস খাদ্য সহায়তা বন্ধ রেখেছে।

রোহিঙ্গাদের মাঝে অন্য সংস্থা ত্রাণ দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে রেডক্রস এমনটি করে থাকতে পারে বলেও তারা অনুমান করছেন।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ‘শূন্যরেখার রোহিঙ্গা শিবিরে খাদ্য সংকটের কথা আমিও শুনেছি। ঈদ ছুটির কারণে সহায়তা দিতে হয়তো দেরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগের চেষ্টা করছি।’

খাদ্য সরবরাহ বন্ধের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা রেডক্রসের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তাদের মুঠোফোনে অনেক চেষ্টা করলেও অপর প্রান্ত থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বন্ধ রাখার বিষয়টি সত্য নয়। হয়তো কোনো কারণে ত্রাণ বিতরণে একটু বিলম্ব হচ্ছে।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×