রামেক হাসপাতাল

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাকে জোরপূর্বক ছাড়পত্র

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রাজশাহী ব্যুরো

ছাত্রলীগ নেতাদের হামলায় আহত কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা (রাবি) শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম তারেক ও তার ভাঙ্গা হাড়ের স্ক্যান

ছাত্রলীগ নেতাদের হামলায় আহত কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম তারেককে সুস্থ হওয়ার আগেই ছাড়পত্র দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে তাকে জোর করে ছাড়পত্র দেয়া হয়। এ ধরনের অভিযোগ করেছেন তারেকের পরিবারের সদস্যরা। তারেক ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সুন্দরখোলে তার বাড়ি। তারেকের ভাই তৌহিদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র আমাদের না দিয়ে পুলিশকে দিয়েছে। এরপর পুলিশ আমাদের কাছে ছাড়পত্র দিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আমাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেয় পুলিশ।

তবে এ ব্যাপারে মতিহার থানার ওসি শাহাদত হোসেন খান বলেন, এটা মেডিকেল কর্তৃপক্ষের বিষয়। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। তারেক সাংবাদিকদের বলেন, বিছানার এক পাশ থেকে অন্য পাশে নড়াচড়া করতে পারছি না। মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই রয়েছে। সব সময় ব্যথা অনুভব করি।

মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের ফলে সবকিছু মনেও রাখতে পারছি না। বিছানায় শুয়ে যে বিশ্রাম নেব সেটাও পারি না। নড়াচড়ার প্রয়োজন হলে দু-তিনজনের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব হয় না। আর হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর জন্য ডান পায়ের পুরো হাড় ভেঙে গেছে। তিনি পুলিশের প্রতি অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ আমাকে সবার সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না। তারেককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়ার পর নগরীর রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সেখানে চিকিৎসা নেয়ার পর আবারও রামেকে ভর্তি করা হবে বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তাদের প্রতি এ ধরনের নির্দেশনা রয়েছে। তবে এ ধরনের নির্দেশনা কারা দিয়েছেন এ ব্যাপারে তারেকের পরিবারের সদস্যরা কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, আমরা চিকিৎসকের ওপর দিয়ে কোনো কথা বলতে পারব না। তারা যদি তারেককে রিলিজ দেয়, তাহলে দেবে। এটা তো ডাক্তারেরই কাজ। তারা যা ভালো মনে করেন তাই করবেন।

ছাড়পত্র দেয়ার ব্যাপারে জানার জন্য তারেকের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা অর্থোপেডিক বিভাগের দুই নম্বর ইউনিটের প্রধান ডা. সুব্রত কুমার প্রামাণিকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।