ষষ্ঠ প্রয়াণবার্ষিকী

হুমায়ূনবিহীন অর্ধযুগ

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার ১৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হুমায়ূন
ছবি: সংগৃহীত

বইমেলায় এখনও সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় তার বই। লেখক-প্রকাশকরা নির্দ্বিধায় বলেন, তিনি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চেয়েও বেশি জনপ্রিয়। তার সৃষ্টিসম্ভার দিয়ে তিনি জয় করছেন অগণিত পাঠকের মন। গল্পের জাদুকরখ্যাত এ মানুষটি আমাদের সবার প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ। আজ তার ষষ্ঠ প্রয়াণবার্ষিকী। দেখতে দেখতে হুমায়ূনবিহীন কেটে গেল ৬টি বছর। ২০১২ সালের আজকের এদিনে ক্যান্সার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

নুহাশপল্লীর লিচুতলায় যেখানে হুমায়ূন আহমেদ চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। আজ তা ভরে যাবে হাজারও ভক্তের ফুলেল ভালোবাসায়। ভালোবাসার অর্ঘ্য নিয়ে আসবেন পরিবারের সদস্যরাও। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নুহাশপল্লীর পার্শ্ববর্তী এতিমখানার অনাথ শিশুদের খাওয়ানো হবে হুমায়ূন আহমেদের পছন্দের খাবার। থাকবে কোরআনখানিও।

৬ বছর আগের রাতে নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হুমায়ূন আহমেদ।

গল্প, উপন্যাস, কবিতা, আত্মজীবনী, প্রবন্ধ যাই লিখেছেন তাই পাঠক নন্দিত হয়েছে। সৃষ্টি করেছেন হিমু, মিসির আলীর মতো জনপ্রিয় চরিত্র। লেখালেখির পাশাপাশি দেশে টিভি নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণ করে নিজস্ব ধারা তৈরি করেছেন।

১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পরেই আলোচনায় চলে আসেন হুমায়ূন আহমেদ। তার লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে শঙ্খনীল কারাগার, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা ও জননীর গল্প, কবি, লীলাবতী, গৌরিপুর জংশন, নৃপতি, বহুব্রীহি, মধ্যাহ্ন, এইসব দিনরাত্রি, দারুচিনি দ্বীপ, নক্ষত্রের রাত, দেয়াল, ম্যাজিক মুন্সী অন্যতম। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- আগুনের পরশমনি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, নয় নম্বর বিপদ সংকেত ও ঘেটুপুত্র কমলা। টিভি নাট্যকার হিসেবেও হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন সমান জনপ্রিয়। তার প্রথম টিভি নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ তাকে এনে দিয়েছিল তুমুল জনপ্রিয়তা। ‘বহুব্রীহি’ ও ‘অয়োময়’ নাটক বাংলা টিভি নাটকের ইতিহাসে আলোড়ন তোলে। ধারাবাহিক ‘কোথাও কেউ নেই’র চরিত্র বাকের ভাই বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছিল টিভি দর্শকদের কাছে।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ডাক নাম কাজল। বাবা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। তিন ভাই দুই বোনের মাঝে তিনি সবার বড়।

১৯৭৩ সালে গুলতেকিন খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন এবং গুলতেকিন দম্পতির চার ছেলেমেয়ে। দীর্ঘ ৩২ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে বিয়ে করেন। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য ‘একুশে পদক’, বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

নুহাশপল্লীতে কর্মসূচি : শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে গাজীপুরের পিরুজালী এলাকার নুহাশপল্লীতে নানা আয়োজন করা হয়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter