মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া খেয়াঘাট

পাঁচ টাকার টোল ৪৫ টাকা!

  মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ২৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পিরোজপুর
ছবি- যুগান্তর

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বলেশ্বর নদের বড়মাছুয়া আন্তঃবিভাগীয় খেয়াঘাটে নির্ধারিত টোলের চেয়ে ইজারাদার ও তার লোকজন ৮-১০ গুণ অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে।

অতিরিক্ত টাকা দিতে ব্যর্থ হলে ইজারাদার ও তার লোকজন যাত্রীদের নদীতে ফেলে দেয়ার হুমকি, দুর্ব্যবহার এমনকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখারও অভিযোগ রয়েছে।

আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে সরকার নির্ধারিত টোলের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করার ঘটনায় ওই খেয়ায় চলাচলকারী যাত্রীসাধারণের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও কোনো সাড়া মিলছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। ফলে ইজারাদার ও আদায়কারীদের অত্যাচারের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে।

জানা গেছে, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় হতে বাংলা ১৪২৫ সালের জন্য বড়মাছুয়া আন্তঃবিভাগীয় খেয়াঘাটটি ২২ লাখ ৩২ হাজার ৭৮০ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইউপি সদস্য কাইয়ূম হাওলাদার ইজারা বন্দোবস্ত পায়। তবে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে ইজারাদার কাইয়ূম ঘাটটি প্রকাশ্যে ডাক দিয়ে সাব-লিজ দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সরকারি চাকুরীজীবী সামসুল হক মৃধা, মৎস্য আড়তদার ফারুক তালুকদারসহ একাধিক এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, খেয়াঘাট সাব-লিজ দেয়ার নিয়ম না থাকলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, ইদ্রিস বেপারি, আ. ছালাম হাওলাদার ও ডালিম ফিডারের কাছে ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা লাভে প্রকাশ্যে সাব-লিজ দেয় ইজারাদার।

বলেশ্বর নদীর দুই পাড় উপকূলীয় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ও বাগেরহাটের শরণখোলার রায়েন্দায় এ খেয়াঘাট অবস্থিত। ফেরি পারাপার অথবা সড়ক বা বিকল্প পথে যোগাযোগের ব্যবস্থা না থাকায় এ খেয়াঘাট থেকে প্রতিদিন খুলনা, মোংলা, চালনা, বাগেরহাট, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, বরগুনা, পাথরঘাটা, বামনা ও মঠবাড়িয়াসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার প্রায় সহস্রাধিক মানুষ যাতায়াত করে।

খেয়া পারাপারে সরকার নির্ধারিত টোল জনপ্রতি ৫ টাকার স্থলে ৪৫ টাকা এবং মোটরসাইকেল চালকসহ ১০ টাকার স্থলে ইজারাদারের লোকজন মোট ১০০ থেকে ১১০ টাকা করে আদায় করছে।

এছাড়াও লিজ গ্রহণকারী ইজারাদারের ঘাট নির্মাণ ও সংরক্ষণের নিয়ম থাকলেও নিজস্ব ঘাট না থাকায় বড়মাছুয়া ও রায়েন্দার সরকারি পন্টুন ব্যবহার করায় খেয়ার প্রতি যাত্রীকে অতিরিক্ত ৫ টাকা গুনতে হচ্ছে।

বরগুনা সদরের বাসিন্দা মোংলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ জানান, তিনি গত এক বছর ধরে মোংলা থানায় চাকরির সুবাদে ওই খেয়ায় মোটরসাইকেলসহ পার হয়ে থাকেন।

তিনি নিজের ভাড়া ৪০ এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৬০ টাকা করে মোট ১০০ টাকা ইজারদারকে প্রদান করেন। ঘাট ইজারাদার ও বড়মাছুয়া ইউপি সদস্য কাইয়ূম হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিগগিরই খেয়াঘাটে টোল চার্ট টানানো হবে।

পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু আহাম্মদ ছিদ্দিকী বলেন, খেয়া পারাপারকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.