আজ বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস

উপকূলে ভেষজ উদ্ভিদ বিপন্ন

  কামরুল হাসান, রাঙ্গাবালী ২৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উপকূলে ভেষজ উদ্ভিদ বিপন্ন
বাসক পাতা

ভেষজ উদ্ভিদ বাসক। লোকালয়ের সমতলভূমিতে ভালো জন্মে। হালকা হলুদ রঙের ডালপালাযুক্ত সবুজ গাছ। পাতা, কাণ্ড, ছাল, মূল, ফল সবকিছুই সর্দিকাশি, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, খোস-পাঁচড়া, জ্বর ও জীবাণুনাশে গ্রামের মানুষের মহৌষধ।

ধর্মীয় আচার-আচরণেও কাজে লাগে। বাসক ছাড়াও বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদে ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। কিন্তু উপকূলের অন্য অঞ্চলের মতো পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে মূল্যবান ও উপকারী এসব ভেষজ উদ্ভিদ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।

একসময় এ উপজেলার গ্রামগঞ্জে নানা প্রজাতির মূল্যবান ও উপকারী ভেষজ উদ্ভিদ ছিল। প্রাকৃতিকভাবেও ভেষজগুণের এ উদ্ভিদ জন্ম নিত। যে কারণে স্বল্প খরচে হেকিম-কবিরাজরা ভেষজ উদ্ভিদ সংগ্রহ করে বিভিন্ন রোগব্যাধির চিকিৎসা করত।

কিন্তু এখন সেসব ভেষজ উদ্ভিদ খুঁজে পাওয়ায়ই কষ্টসাধ্য। সংরক্ষণের কার্যকরী উদ্যোগ না থাকায় এখন ভেষজ উদ্ভিদ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। এ তালিকায় রয়েছে- উলটকম্বল, বাসক, মুক্তাঝরি, আপাঙ, ছাতিম, কালমেঘ, শতমূলি, নিম, ব্রাহ্মীশাক, নয়নতারা, থানকুনি, বাবচি, কালো ধুতরা, আয়াপান, অনন্তমূল, আশোক, মেথি, কুরচি, সর্পগন্ধা ও অর্জুনসহ অসংখ্য গাছ। এর মধ্যে হাতেগোনা ২-৩টি ছাড়া বাকি সব গাছ পাওয়া দুষ্কর।

স্থানীয়রা জানান, স্থাপনা নির্মাণসহ নানা কারণে ঝোপঝাড় পরিষ্কার, আবহাওয়ার বিরূপ প্রতিক্রয়া ও অসচেতনতার কারণে এ উপজেলা থেকে বর্তমানে ভেষজ গাছপালা হারিয়ে যাচ্ছে। তাই কবিরাজ চিকিৎসাও মহাসংকটে পড়েছে।

উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের তক্তাবুনিয়া গ্রামের প্রকৃতিপ্রেমিক শাহ আলম বলেন, ‘গ্রামগঞ্জে আগে অনেক ভেষজ গাছ দেখা যেত। স্থানীয় হেকিম-কবিরাজরা ওইসব গাছ থেকে উপাদান সংগ্রহ করে মানুষের রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করত। কিন্তু সেই গাছগাছলা জঙ্গল মনে করে মানুষ ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই ভেষজ চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে হেকিম-কবিরাজরাও পেশা বদল করছে।’

এদিকে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইন্সটিটিউটের রাঙ্গাবালী বন গবেষণা কেন্দ্রের প্লান্টেশন ট্রায়েল ইউনিট বিভাগের উদ্যোগে বিলুপ্তের পথে থাকা কিছু ভেষজ উদ্ভিদ পরীক্ষামূলক সংরক্ষণ করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, নিম, শিমুল, অর্জুন, ছাতিয়ান, বহেড়া, কদম, কাঠবাদাম, বটসহ ১২টি প্রজাতির ভেষজ গাছের নার্সারি রয়েছে। সেখানে নিবিড়ভাবে বীজ, চারা ও কলম উৎপাদন হয়েছে। তবে এটি কেবল পরীক্ষামূলক।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী বন গবেষণা কেন্দ্রের প্লান্টেশন ট্রায়েল ইউনিট বিভাগের গবেষক এমএ কুদ্দুস যুগান্তরকে বলেন, ‘উপকূলে ভেষজ উদ্ভিদ অনেটাই কমে গেছে। এজন্য আমরা কিছু গাছ সংরক্ষণ করে দেখছি।

এসব গাছে ভালো কাঠ না হওয়ায় মানুষ এগুলোকে জঞ্জাল মনে করে। কারণ ভেষজ উদ্ভিদ সম্পর্কে মানুষের ধারণা কম। তিনি আরও বলেন, ‘বাণিজ্যিক দিক বেশি দেখার ফলে ভেষজ গাছের প্রতি মানুষের আগ্রহ নেই।

তাদের ধারণা, রেন্ট্রি কিংবা মেহগনি গাছ লাগালেই ১০ বছরের মধ্যে বিক্রি করে লাভবান হওয়া যায়। অথচ এটা চিন্তা করে না যে, বাংলাদেশে আয়ুর্বেদিক নিয়ে যারা কাজ করে, তারা কৃষক লেভেল থেকে উপাদান সংগ্রহ করে। যার মূল্য অনেক। তাছাড়া ভেষজ গাছ পরিবেশের জন্যও খুব উপযোগী।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×