ঢাকায় গরু বিক্রি করতে এসে নিখোঁজ ২ কৃষক

একজনের লাশ সিরাজগঞ্জে সন্ধান নেই আরেকজনের

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্র্রতীকী ছবি

ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় গরু বিক্রি করে ট্রেনযোগে বাড়ি ফিরছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানার মনোহারদিয়া ইউনিয়নের কন্দর্পদিয়া গ্রামের আজিজুল মণ্ডল ও একই এলাকার লালটুসা। কিন্তু পথেই তারা নিখোঁজ হন। ঈদের পরদিন সকালে আজিজুর মণ্ডলের লাশ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার ঢাকা-ঈশ্বরদী রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় না মেলায় বৃহস্পতিবার তার লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে সিরাজগঞ্জ জিআরপি থানা পুলিশ। অপরজন লালটুসা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

পরিবারের সদস্যদের ধারণা গরু বিক্রির দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে দু’জনকেই হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় দুই পরিবারে শোকের মাতম চলছে।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, আজিজুল মণ্ডল ও লালটুসু মনোহারদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম মালিথার একটি গরু বিক্রি করতে ২১ আগস্ট গাবতলী হাটে যান। সন্ধ্যার পর তারা গরুটি ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বিক্রি করে ট্রেনযোগে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে গাবতলী হাট থেকে বের হন। সর্বশেষ ঢাকার তেজগাঁও থেকে রাত সাড়ে ৯টায় আওয়ামী লীগ নেতা এসএম মালিথার স্ত্রী মঞ্জুআরা বেগমের সঙ্গে মোবাইলে লালটুসার কথা হয়। এরপর থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। তিন দিন তাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করতে পারেনি।

এসএম মালিথা বলেন, ২৩ আগস্ট সকালে ইন্টারনেটে দেখতে পাই সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া রেলওয়ে পুলিশ অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে। ছবি দেখে মনে হচ্ছিল এটা আজিজুলের লাশ। আমি একটি মাইক্রো ভাড়া করে ছেলেসহ ওদের পরিবারকে উল্লাপাড়া পাঠাই। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে ফেলেছে রেলওয়ে পুলিশ। লাশের ছবি ও গায়ের পোশাক দেখে লাশ শনাক্ত করেন আজিজুল মণ্ডলের পরিবারের সদস্যরা। তিনি জানান, গরু বিক্রির ২ লাখ টাকা নিয়ে তারা বাড়ি ফিরছিলেন। তাদের সঙ্গে আমার স্ত্রীর সর্বশেষ কথা হয়। আমার স্ত্রী তাদের বলে, টাকা-পয়সা নিয়ে সাবধানে চলে এসো। তারা জবাব দেয় কোনো সমস্যা নেই, আমরা চলে আসছি।

এসএম মালিথার ছেলে সজিব মালিথা জানান, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি আজিজুল মণ্ডলের লাশ রেললাইনের পাশে পড়েছিল। তার লুঙ্গি লাশের পাশে পড়ে ছিল। যদি ট্রেন থেকে পড়ে যেত তাহলে তার লাশ ওভাবে পড়ে থাকত না এবং লুঙ্গিও পাশে থাকত না। এতেই প্রমাণিত হচ্ছে তাকে হত্যা করে লাশ ওখানে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে টাকা লুট করে আজিজুলকে হত্যা করে লাশ ওই স্থানে ফেলে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা।

সিরাজগঞ্জ জিআরপি থানার এসআই রফিক বলেন, ঈদের দিন বুধবার ভোরে উল্লাপাড়া থানা পুলিশ আনুমানিক ৪০ বছর বয়সের অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জিআরপি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। লাশের পরিচয় না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। এখন লাশ নিতে হলে আবেদন করতে হবে। তারপর সব খরচ বহন করে লাশ নিয়ে যেতে পারবে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইবি থানার ওসি (তদন্ত) জহরুল আলম বলেন, ঘটনাটি ইবি থানার মধ্যে নয়। তারপরও আমরা নিখোঁজ আজিজুল মণ্ডল ও লালটুসা পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছি।