নড়িয়ায় পদ্মার ভাঙন অব্যাহত

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন বিলীন

৪ লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা অনিশ্চিত

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কেএম রায়হান কবীর, শরীয়তপুর

পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে জেলার নড়িয়া উপজেলার বাড়িঘর, সরকারি-বেসরকারি ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সোমবার রাতে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনটির অধিকাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হাসপাতাল ক্যাম্পাসের একটি আবাসিক ভবনে জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ চালু রাখা হলেও প্রবেশের সড়কটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় ভয়ে কোনো রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন না। ফলে উপজেলার ৪ লক্ষাধিক লোকের স্বাস্থ্যসেবা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

শুধু নতুন ভবন নয়, ভাঙনের মুখে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরও ১১টি ভবন। এদিকে ৩ দিনে মূলফৎগঞ্জ বাজার ও আশপাশের এলাকার শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অন্তত ৬০টি বাড়িঘর পদ্মাগর্ভে চলে গেছে। এর আগে মূলফৎগঞ্জ বাজারের ৩ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানা প্রাচীর, মসজিদ, গ্যারেজ ও পার্শ^বর্তী রামঠাকুর সেবামন্দির বিলীন হয়ে যায়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তিন মাসে উপজেলার অন্তত সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষের ফসলি জমি, বাড়িঘর, বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকে এখন খোলা আকাশের নিচে, আবার কেউ রাস্তার পাশে বা অন্যের জমিতে খুপড়ি ঘর তুলে আশ্রয় নিয়েছেন। সীমাহীন কষ্ট আর চোখের জলে দিন কাটছে রাক্ষুসী পদ্মার ভাঙনে সর্বহারা এসব মানুষের।

নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৮ সালে নড়িয়া উপজেলা সদরের চার কিলোমিটার দূরত্বে মুলফৎগঞ্জ বাজার সংলগ্ন পূর্ব পাশে ৩০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। ২০১৪ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। হাসপাতাল ক্যাম্পাসে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও আবাসিক ভবনসহ ১২টি পাকা ভবন রয়েছে। রোববার সকাল থেকে উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র হাসপাতালটি গ্রাস করে পদ্মা। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নতুন ভবনটির ৭৫ ভাগ বিলীন হয়ে যায়। হাসপাতালটিতে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু চিকিৎসা নিতে আসত। আগস্ট মাসের শেষের দিকে নড়িয়া সুরেশ্বর সড়কটি পদ্মায় বিলীন হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে রোগী কমতে থাকে। এক সপ্তাহ হল হাসপাতালে প্রবেশ পথটি বিলীন হয়ে গেছে।

কেদারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ঈমাম হোসেন দেওয়ান বলেন, ‘আমরা খুবই অসহায়। আমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। হাসপাতালটি ভাঙনের মুখে পড়ায় উপজেলার লোকজনের চিকিৎসাসেবা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপদ দূরত্বে হাসপাতালের কার্যক্রম চালু রাখার দাবি জানাচ্ছি।’

নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুনীর আহমেদ বলেন, হাসপাতালের নতুন ভবনটির অধিকাংশ পদ্মায় চলে গেছে। আমরা ভবনটি নিলামে বিক্রির জন্য মাইকিং করলেও কোনো লোক আসেনি ক্রয়ের জন্য। হাসপাতালের আরও ১১টি ভবন ঝুঁকিতে রয়েছে। সীমিত পরিসরে জরুরি ও বহির্বিভাগের কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। এখনও হাসপাতালের কার্যক্রম অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াছমিন বলেন, ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকায় হাসপাতালের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখা হয়েছে। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।