কুয়াকাটায় এবার ছাত্রীকে হত্যার পর লাশ গুম!

রক্তমাখা ছুরি ও শরীরের দুটি টুকরো উদ্ধার

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কুয়াকাটা প্রতিনিধি

কুয়াকাটায় ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ শেষে হত্যার পর এবার একই স্কুলের ৯ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকালে ছাত্রীর শোবার ঘর থেকে রক্তমাখা দুটি ছুরি, তার ব্যবহৃত নুপুর ও শরীরের দুই টুকরা মাংস উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে কোথাও তার লাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি। কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজ সংলগ্ন ওই ছাত্রীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ছাত্রীর স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে মা নুরজাহান তার দুই সন্তান হামিম (৩) ও মহিপুর হাই স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী মরিয়মকে (১৫) নিয়ে একই খাটে ঘুমান। ঘরের দোতলায় নুরজাহানের বড় মেয়ে রেশমা তার স্বামী মাঈনুলকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন। সকালে ঘুম ভাঙলে নুরজাহান বেগম দেখেন, খাটে তার মেয়ে নেই। ঘরের মেঝে ও বেড়া রক্তে ভেসে আছে। এ সময় তার চিৎকারে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন।

মরিয়মের বড় বোন রেশমা জানান, তিনি রাত ৩টার দিকে প্রকৃতির ডাকে ঘরের বাইরে যান। পরে দোতলায় ওঠার সময় বোন মরিয়মের সঙ্গে কথা বলেন। তার কাছ থেকে একটা বালিশ নিয়ে যান তিনি।

ধারণা করা হচ্ছে, রেশমা ঘরের দরজা খোলা রেখে বাইরে যাওয়ার সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে লুকিয়ে ছিল। পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে ভোরের দিকে মরিয়মকে হত্যা করা হয়।

মরিয়ম রাতে তার মায়ের পাশেই ঘুমিয়ে ছিল, কিন্তু মা নুরজাহান বেগম কিছুই টের পাননি। এ নিয়ে তিনি বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার কি অইছেলে জানি না, ক্যা আমি কিছু ট্যার পাইলাম না।’

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘রক্তমাখা দুটি ছুরি ও দুই টুকরো মাংস ঘরের মেঝেতে পাওয়া গেছে। মেয়েটিকে হত্যা করে লাশ গুম করা হতে পারে।’

এদিকে ঘটনার পরপরই পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মো. মইনুল হোসেনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, র‌্যাব-৮, পিবিআই ও ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা মরিয়মের পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।