বরিশাল বিভাগ

সহস্রাধিক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ

দুর্ঘটনা আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

  যুগান্তর ডেস্ক ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় প্রায় সহস্রাধিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ২৭৩টি, পটুয়াখালী জেলার ৭টি উপজেলায় ১ হাজার ২২৫টি, পিরোজপুরে ৯৩টি, ঝালকাঠিতে শতাধিক, বরগুনায় ১৫১টি ও ভোলায় ১২০টি বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া এসব জেলার শতাধিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ভবনগুলোর ছাদ ও পিলারের পলেস্তারা খসে ও রড বেরিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রতিবেদনে সহযোগিতা করেছেন- যুগান্তর বরিশাল ব্যুরো, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা ও ভোলা প্রতিনিধি।

বরিশাল ব্যুরো : বরিশালের ২৭৩টি স্কুলের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠগ্রহণ করছে জেলার প্রায় অর্ধলাখ শিশু। প্রায়ই ভবনের পলেস্তারা ভেঙে পড়ে আহত হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। আবার কোথাও প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটেছে। যদিও এ বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছে গণশিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো নির্দেশনা দিয়েছে। উজিরপুরের বানকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দ্রুত সংস্কার না হলে পাঠদান বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম। এ কর্মকর্তার মতে, উপজেলার ২২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। মুলাদীর ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অতি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আরিফ খান। গৌরনদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফয়সাল খান জানান, কাশেমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পূর্ব হোসনাবাদ নবারুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এক মাস আগে সেখানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ উপজেলায় ৪০টি বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বলে শিক্ষা কর্মকর্তা জানান। বরিশাল সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, এ উপজেলায় ৪৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন আছে বাবুগঞ্জে ৯টি, বানারীপাড়ায় ৫টি, আগৈলঝাড়ায় ২৩টি ও বাকরগঞ্জে ৫০টি। সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

পিরোজপুর : জেলার ৭টি উপজেলায় জরাজীর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮৭টি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সূত্র মতে, কাউখালী উপজেলায় ১৫টি বিদ্যালয় রয়েছে যেগুলো টিনশেড কাঁচাঘর, টিনশেড আধাপাকা ঘর ও পুরাতন ভবন। নাজিরপুর উপজেলায় ২৫টি জরাজীর্ণ ভবন, সদরে তিনটি পরিত্যক্ত ও চারটি জরাজীর্ণ, ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ১৮টি জরাজীর্ণ, মঠবাড়িয়া উপজেলায় ১৫টি বিদ্যালয় রয়েছে যেগুলোর ছাদ, দেয়াল, দরজা জানালা ও মেঝে নষ্ট। স্বরূপকাঠি উপজেলায় ১৯টি বিদ্যালয় জরাজীর্ণ, মঠবাড়িয়া উপজেলায় ১৫টি জরাজীর্ণ এবং ইন্দুরকানিতে দুটি বিদ্যালয় পরিত্যক্ত এবং ১৮টি বিদ্যালয় জরাজীর্ণ রয়েছে।

বরগুনা ও বরগুনা (দক্ষিণ) : বরগুনা জেলায় ৭৯৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫১টি বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ১৫টি বিদ্যালয় পরিত্যক্ত। সদর উপজেলায় ২৩০টির মধ্যে ৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৫টি পরিত্যক্ত। বেতাগী উপজেলায় ১২৭টি প্রাথমিকের মধ্যে ১৯টি বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ। বামনা উপজেলায় ৬২ বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬টি ঝুঁকিপুর্ণ। পাথরঘাটা উপজেলায় ১৪৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪২টি বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ২০টি বিদ্যালয় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। আমতলীতে ১৫২টির মধ্যে ৬টি ঝুঁকিপূর্ণ। তালতলীতে ৭৮টির মধ্যে ২৮টি বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ। জানা গেছে, ওই সব ভবন ১৯৯০ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে নির্মাণ কর হয়। নিুমানের সামগ্রী দিয়ে স্কুল ভবণ নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।

পটুয়াখালী (দক্ষিণ) : পটুয়াখালী জেলার ৭টি উপজেলায় ১২২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্য অন্তত ২৭২টি ঝুঁকিপূর্ণ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন এসব বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান চলার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত ২৭২টি বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১২৩টি এবং মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ১৪৯টি বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২০৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২৩টি এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১১টি বিদ্যালয় ভবন। গলাচিপায় ১৯১টি বিদ্যালয়ের মধ্য ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে ৬৭টি এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে ৩৬টি। কলাপাড়ায় ১৭১টির মধ্য ঝুঁকিপূর্ণ ৪০টি এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৭টি। রাঙ্গাবালীতে ৭১টির মধ্য ১৬টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। বাউফলে ২৯৩টির মধ্য ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি। এছাড়াও মির্জাগঞ্জে ১৪২টির মধ্য ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ১৯টি এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৭টি। দশমিনায় ১৪৫টির মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ৫১টি।

ঝালকাঠি : ঝালকাঠি জেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগেই ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে মাথায় পড়ছে, কখনও পড়ছে বৃষ্টির পানি। আবার কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক অবস্থাই জারাজীর্ণ। ঝালকাঠি জেলায় মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৯৩৭টি (কিন্ডার গার্টেন বাদে)। এর মধ্যে কলেজ ২৭টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৯৩টি, কারিগরি বিদ্যালয় ১০টি, কামিল মাদ্রাসা ০১টি, অন্যান্য মাদ্রাসা ১২২টি (কওমি বাদে) এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫৮৪টি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ অত্যাধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×