নজররাখুন গোলপ্রহরীদের দিকে

  স্পোর্টস ডেস্ক ১২ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

থিবো কুতোর্য়া (বেলজিয়াম), ডেভিড ডি গিয়া (স্পেন), ওজিচিক সজেনি (পোল্যান্ড)

সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যবশত যাই হোক না কেন, ক্যারিয়াসকে বিশ্বকাপ দলে ডাকেননি জার্মান কোচ জোয়াচিম লো। কিন্তু ডেভিড ডি গিয়া, ম্যানুয়েল নুয়ার এবং কেইলর নাভাসের মতো অন্য গোলরক্ষকদের দেশের হয়ে সেরা পারফরম্যান্সের সুযোগ থাকছে বিশ্বকাপে।

আগের দুটি বিশ্বকাপ আসরে গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ইকার ক্যাসিয়াস ও ম্যানুয়েল নুয়ার। এ বছর ইনজুরির কারণে মৌসুমের বেশিরভাগ সময় খেলতে পারেননি বায়ার্ন মিউনিখের গোলকিপার নুয়ার। ক্যাসিয়াস এবার স্পেনের বিশ্বকাপ দলেই জায়গা পাননি।

কিন্তু তার উত্তরাধিকারী ডি গিয়া সমান কঠিন প্রতিপক্ষ। তেমনি পাঁচজন গোলরক্ষকের দিকে তাকানো যাক; বিশ্বকাপে জ্বলে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে যাদের-

থিবো কুর্তোয়া (বেলজিয়াম)

লিভারপুলের সিমন মিগনোলেট থাকার পরও থিবো কুর্তোয়াই বেলজিয়ামের একনম্বর গোলরক্ষক। বেলজিয়ামের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী গোলরক্ষক হিসেবে অভিষেক হওয়ার পর দেশের জার্সিতে ৫৫টি ম্যাচ খেলেছেন ২৬ বছরের এই গোলপ্রহরী। ব্রাজিল বিশ্বকাপেও প্রতিটি ম্যাচে দলের প্রথম একাদশে ছিলেন কুর্তোয়া।

গত আসরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়া বেলজিয়াম এবার আরও বেশি শক্তিশালী। এ বছর আরও সামনে এগোতে পারে হ্যাজার্ড-লুকাকুদের দল। ৬ ফুট ৬ ইঞ্চির কুর্তোয়া বিশ্বকাপের লম্বা গোলরক্ষকদের একজন। সেট পিস এবং বাতাসে ভেসে বল আটকানোর দুর্দান্ত ক্ষমতা আছে তার। বেলজিয়াম তাই বিনা দ্বিধায় প্রতিটি ম্যাচে কুর্তোয়াকে প্রথম একাদশে রাখবে।

অ্যালিসন বেকার (ব্রাজিল)

ব্রাজিল দলে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটিতে দুর্দান্ত অভিষেক মৌসুম কাটানো এডারসন। সদ্যসমাপ্ত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে সিটি। তারপরও বিশ্বকাপ মঞ্চে একনম্বর পছন্দ হিসেবে সেলেকাওদের গোলপোস্ট সামলাবেন অ্যালিসনই। এএস রোমার হয়ে নিজের দ্বিতীয় মৌসুম দারুণ কাটিয়েছেন তিনি।

সেরি-এ লিগের তথ্য মতে, গত মৌসুমে ৩৪ ম্যাচে দলের গোলপোস্ট সামলেছেন অ্যালিসন। তাতে ১৫ ম্যাচেই ক্লিনশিট পেয়েছেন তিনি। ম্যাচপ্রতি গোল হজমের গড় মাত্র ০.৭৯। প্রতি ম্যাচে গড়ে ৩.৪৯টি করে গোল সেভ করেছেন। সফলতার হার ৮৩%।

তার দাবি, গোল সেভের ক্ষেত্রে সফলতার হার ৯০% বেশি। রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলে অ্যালিসন নিজেকে আরও বেশি প্রতিষ্ঠিত করবেন। এরই মধ্যে তিনি প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর নজরে আছেন। লিভারপুল তাকে দলে নিতে আগ্রহী। রোমায় নজরকাড়া মৌসুম কাটানোর পর এখন বিশ্বকাপ মঞ্চে নজরেই থাকবেন অ্যালিসন।

ম্যানুয়েল নুয়ার (জার্মানি)

ইনজুরির কারণে সদ্যসমাপ্ত মৌসুমে মাত্র চারটি ম্যাচ খেলেছেন নুয়ার। এক ম্যাচে গোল হজম করতে হয়েছে তাকে। তার জায়গা নিতে প্রস্তুত বার্নড লিনো ও মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন। জার্মান কোচ অবশ্য নুয়ারের দক্ষতার ব্যাপারে নিঃসংশয়।

তবে বিশ্বকাপের মূল একাদশে খেলতে হলে বায়ার্ন তারকাকে অবশ্যই পুরোপুরি ফিট হতে হবে। গত কনফেডারেশন্স কাপে দলের গোলবার পাহারায় ছিলেন স্টেগেন। অনেক সমর্থক তাই বার্সেলোনা কিপারকেই বিশ্বকাপ মঞ্চে দেখতে চাইবেন। তারপরও অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে জার্মান কোচ জোয়াচিম লো ৩১ বছরের নুয়ারের ওপরই আস্থা রাখবেন বলে জানিয়েছেন। কারণও আছে, কোচ লোর অধীনেই ২০১৪ বিশ্বকাপ জিতে গোল্ডেন গ্লোভ জিতেছিলেন নুয়ার।

ওজিচিক সজেনি (পোল্যান্ড)

ইতালিয়ান কিংবদন্তি গোলকিপার গিয়ানলুইগি বুফনের জন্য জুভেন্টাসে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি ওজিচিক সজেনি। তবে এবার বুফন ক্লাব ছাড়লে নিশ্চিতভাবেই জুভদের একনম্বর কিপার হবেন তিনি। তার দেশ গত দুটি আসর মিস করলেও এবার বিশ্বকাপ অভিষেক হচ্ছে সজেনির। ২০০৬ বিশ্বকাপের ব্যাকআপ কিপার হিসেবে অভিজ্ঞতায় সজেনির চেয়ে এগিয়ে আছেন আর্সেনালে থাকার সময় তারই সতীর্থ লুকাজ ফ্যাবিনাস্কি। তারপরও বিশ্বকাপ আসরে দেশের একনম্বর ভরসা হবেন সজেনিই। ২৮ বছরের পোলিশ গোলকিপার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে চাঙ্গা সময়ে আছেন। ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় আর্সেনালে কাটিয়েছেন। গানারদের সঙ্গে থাকার সময় ডেসিংরুমে ধূমপান করা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। ধারে জুভেন্টাসে যাওয়ার পর পরিপক্ব হয়েছেন। পেনাল্টি সেভ করার কৌশলের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন। রাশিয়ায় নজরে থাকবেন সজেনিও।

ডেভিড ডি গিয়া (স্পেন)

রাশিয়া বিশ্বকাপে সেরা গোলরক্ষকের অ্যাওয়ার্ড জয়ের অন্যতম দাবিদার ডেভিড ডি গিয়া। ১৮ ম্যাচে গোল হজম না করে গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের সেরা হয়েছেন তিনি। পেপে রেইনা ও ইকার ক্যাসিয়াসকে পেছনে ফেলে স্পেনের ২৩ সদস্যের দলে নাম উঠেছে তার।

দূরপাল্লার শট সেভ করতে দারুণ দক্ষ ডি গিয়া। প্রিমিয়ার লিগে এই মৌসুমে ম্যাচপ্রতি গড়ে ৩.৫৮টি করে গোল সেভ করেছেন। সফলতার হার ৮৬%। ইংল্যান্ডে যেটা সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানটাও খুব একটা খারাপ নয় ডি গিয়ার। স্পেনের জার্সি গায়ে ২৭ ম্যাচে গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে ১৪ ম্যাচেই ক্লিন শিট পেয়েছেন। স্পেনের স্বপ্নসারথি হয়ে এবার বিশ্বসেরা হওয়ার সুযোগ ডি গিয়ার সামনে।

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter