ক্রোয়েশিয়ার সাফল্য যুগোস্লাভিয়ার আক্ষেপ

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৪ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রোয়েশিয়ার সাফল্য যুগোস্লাভিয়ার আক্ষেপ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব মানচিত্রে ১৯৯১ সালে আত্মপ্রকাশ করেছে ক্রোয়েশিয়া। জন্মের মাত্র নয় বছরে বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে উঠে এবং তৃতীয় হয়ে ক্রোটরা চমকে দেয় বিশ্বকে। স্বাধীনতার ২৭ বছর পর এবার আরেক যুদ্ধের সামনে দাঁড়িয়ে ক্রোয়েশিয়া। এই যুদ্ধ রাজনীতির নয়। ভূখণ্ডেরও নয়। এই যুদ্ধ ফুটবলের। ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ দলের বেশিরভাগেরই জন্ম স্বাধীনতার কাছাকাছি সময়ে। কেউ আগে কেউ পরে। দলের সবচেয়ে বেশি বয়স যার, সেই ৩৩ বছর বয়সী গোলরক্ষক দানিয়েল সুবাসিচের জন্ম যুগোস্লাভিয়া থেকে স্বাধীন হওয়ার সাত বছর আগে। বাকিরা দু’এক বছর আগে-পরে।

রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফেভারিটদের তালিকায় ক্রোয়েশিয়ার নাম রাখেনি কেউই। ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্বের সেই দেশটিই এখন বিশ্বসেরা হওয়ার অন্যতম দাবিদার। ক্রোয়েশিয়ার এমন অনন্য অর্জনে সবচেয়ে বেশি আফসোস যুগোস্লাভিয়ার। ফুটবলে ক্রোটদের উত্থানের পর থেকেই যেকোনো বড় আসরের আগেই একধরনের আক্ষেপ শোনা যায় যুগোস্লাভিয়ানদের মুখে। যার সারমর্ম হল, যদি যুগোস্লাভিয়া না ভেঙে যেত, এক দেশ থাকত, তাহলে কী দারুণ দলই না গড়ে তোলা যেত।

তবে যে যাই মনে করুক, এসব নিয়ে পড়ে থাকার মধ্যে নেই ক্রোয়েশিয়া। এসব নিয়ে ভাবার সময়ইবা কোথায় তাদের। যুগোস্লাভিয়ার ফুটবলারদের ছাড়াই ক্রোয়েশিয়া নিজেদের যোগ্যতায় নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায়। যুগোস্লাভিয়ানদের আক্ষেপের যথেষ্ট কারণ আছে। দেশভাগের আগে বসনিয়ান কোচ আইভিকা অসিমের অধীনে ’৯০ ইতালি বিশ্বকাপে দারুণ করেছিল যুগোস্লাভিয়া। কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিলেও সেই অর্জন ভোলার নয়। আক্ষেপ হলেও লুকা মডরিচদের ক্রোয়েশিয়ার ফাইনাল অর্জনের সমর্থনেই থাকছে যুগোস্লাভিয়ার মানুষ। যুগোস্লাভিয়ার ফুটবলের সোনালি অতীতের নেতা বসনিয়ান অসীমও প্রত্যাশা করছেন রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোটদের নতুন ইতিহাস গড়ার। ‘তারা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের বাইরে গিয়ে সম্মিলিত নৈপুণ্যনির্ভর দল হয়ে উঠেছে। এই গুণ সব দলে পাওয়া যায় না।’

নব্বইয়ের বলকান যুদ্ধে দেড় লাখ মানুষের প্রাণ যাওয়ার বিভীষিকা যদিও অনেকেই ভুলতে পারেনি এখনও। বিশেষ করে সার্বিয়ানরা। সার্বিয়ার সেরা ক্রীড়াব্যক্তিত্ব ১২ বারের গ্র্যান্ডস্লামজয়ী টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচ তাই ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ সাফল্য কামনা করায় নিজ দেশে তোপের মুখে পড়েছেন। জোকোভিচের তীব্র সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টুইট করেছেন সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টির নীতিনির্ধারণী নেতা ভ­াদিমির যুকানোভিচ। টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘একমাত্র গাধা হলেই ক্রোয়েশিয়ার সমর্থন করবে। নোভাক, আশা করছি এমন সমর্থনের কারণে তুমি নিশ্চয়ই লজ্জিত হয়েছ।’ মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠের মতো ক্রোট-সাফল্য নিয়ে আক্ষেপের পাশাপাশি অনেকের খুশি হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। যুদ্ধের অতীত ইতিহাসের মধ্যে না গিয়ে যেমন ক্রোয়েশিয়ার প্রতি খোলাখুলিই নিজের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন সার্বিয়ান প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুসিস, ‘প্রতিবেশীদের অভিনন্দন। ওরা দারুণ দেখিয়েছে। আমার সমর্থন নিয়ে যদি কেউ প্রশ্ন তোলে তাদের প্রতি আমার বক্তব্য হল, সার্বিয়ার সমাজব্যবস্থা গণতন্ত্রনির্ভর এবং প্রত্যেকের নিজের খুশিমতো সমর্থনের অধিকার রয়েছে।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দুর্দান্ত জয়ের পর ক্রোট সাফল্যে উচ্ছ্বসিত সার্বিয়ান নাগরিক মিওদ্রেগ বলেন, ‘আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ওদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। তোমরা দারুণ করেছ। আমাদের সার্বিয়ান ফুটবলার এবং ফেডারেশন ক্রোটদের কাছে ফুটবল শিক্ষা নেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পারে।’ ওয়েবসাইট।

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter