ফ্রান্সের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের নায়করা কে কোথায়

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

১৯৯৮-তে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল ফ্রান্স। সেবার নীল বিপ্লবের নেতৃত্বে ছিলেন দিদিয়ের দেশম। যিনি বর্তমান দলের কোচ। প্রধান সারথি ছিলেন জিনেদিন জিদান। জেনে নেয়া যাক ফরাসিদের প্রথম বিশ্বজয়ের নায়করা বর্তমানে কে কোথায়-

১৯৯৮ দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন করে ফ্রান্স। টুর্নামেন্টের অপরাজিত দল হিসেবে ফাইনালে ওঠে স্বাগতিকরা। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। দুঙ্গার নেতৃত্বে ‘পেন্টা’ জয়ের স্বপ্নে বিভোর বিশ্বকাপের অন্যতম সফল দলটি। বিপরীতে কখনও শিরোপা না জেতা ফরাসিরাও প্রস্তুত জিদানের জাদুকরী পারফরম্যান্সে। ফাইনালে ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপায় চুমু খায় ফরাসিরা। দুই গোল করেন জিদান। অপর গোলটি এমানুয়েল পেতিতের।

জিনেদিন জিদান : ফ্রান্সের বিশ্বকাপের প্রধান সারথি ছিলেন জিদান। তার নৈপুণ্যেই সেবার বিশ্ব জয় করে ফরাসিরা। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিংকে পেশা হিসেবে নেন এই কিংবদন্তি। দায়িত্ব পান ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসের। সর্বশেষ রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ছিলেন তিনি। দলটিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়ে দায়িত্ব ছাড়েন মে মাসে।

দিদিয়ের দেশম : ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক দিদিয়ের দেশম। ২০১২ সালে ফ্রান্সের কোচ হন।

লিলিয়ান থুরাম : ১৯৯৮ বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা পারফরমার ছিলেন এই ডিফেন্ডার। সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে গোল করেন তিনি। ফ্রান্সের হয়ে সর্বাধিক ১৪২ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ২০০৮ সালে অবসর নেয়ার পর ফুটবলে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে কাজ করছেন তিনি।

থিয়েরি অঁরি : ১৯৯৮ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ তিনটি গোল করেন অঁরি। খেলেছেন মোনাকো, জুভেন্টাস, বার্সেলোনা, আর্সেনালের মতো ক্লাবের হয়ে। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরে যান। বর্তমানে বেলজিয়ামের সহকারী কোচ তিনি।

এমানুয়েল পেতিত : সেবার বিশ্বকাপে দুটি গোল করেন এই মিডফিল্ডার। ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে একটি। বর্তমানে তিনি একটি স্পোর্টস ওয়েবসাইট এবং গৃহহীনদের বিশ্বকাপের ব্র্যান্ড অ্যামবাসাডর।

ফ্যাবিয়েন বার্থেজ : ফ্রান্সের গোলপোস্টের অতন্দ্রপ্রহরী ছিলেন বার্থেজ। জিতেছেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার। ২০০৭ সালের পর ফুটবল থেকে অবসরে যান তিনি। বর্তমানে মোটরস্পোর্টসে ক্যারিয়ার গড়েছেন এই তারকা।

মার্সেল দেসাই : ফিফার সর্বকালের সেরা তারকা দলে জায়গা পাওয়া দেসাই অবসরে যান ২০০৬ সালে। বর্তমানে ফুটবল বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন।

ডেভিড ত্রেজেগুয়ে : ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্য বর্তমানে ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসের হয়ে কাজ করছেন।

লরা ব্লাঁ : বিশ্বকাপে পর্তুগাল এবং ইতালির বিপক্ষে তার গোলেই পার পেয়েছিল ফ্রান্স। অবসরে যাওয়ার পর কিছুদিন জাতীয় দলের কোচ ছিলেন। বর্তমানে পিএসজির কোচের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

ভিজেন্তে লিজারাজু : ফরাসিদের বিশ্বকাপজয়ী দলের এই ডিফেন্ডার বর্তমানে একজন ফুটবল বিশেষজ্ঞ।

ক্রিস্টোফে দুগারি : ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে প্রথম গোল করা দুগারি বর্তমানে

টেলিভিশন ফুটবল বিশেষজ্ঞ।

ইউরি জোরকেয়েফ : ফ্রান্সের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত।

প্যাট্রিক ভিয়েরা : ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী দলের এই মিডফিল্ডার বর্তমানে ফরাসি ক্লাব নিসের কোচের দায়িত্বে রয়েছেন। ওয়েবসাইট।

বিশ্বকাপের রোল অব অনার

সাল চ্যাম্পিয়ন রানার্সআপ স্বাগতিক দেশ

১৯৩০ উরুগুয়ে আর্জেন্টিনা উরুগুয়ে

১৯৩৪ ইতালি চেকোস্লোভাকিয়া ইতালি

১৯৩৮ ইতালি হাঙ্গেরি ফ্রান্স

১৯৫০ উরুগুয়ে ব্রাজিল ব্রাজিল

১৯৫৪ পশ্চিম জার্মানি হাঙ্গেরি সুইজারল্যান্ড

১৯৫৮ ব্রাজিল সুইডেন সুইডেন

১৯৬২ ব্রাজিল চেকোস্লোভাকিয়া চিলি

১৯৬৬ ইংল্যান্ড পশ্চিম জার্মানি ইংল্যান্ড

১৯৭০ ব্রাজিল ইতালি মেক্সিকো

১৯৭৪ পশ্চিম জার্মানি নেদারল্যান্ডস পশ্চিম জার্মানি

১৯৭৮ আর্জেন্টিনা নেদারল্যান্ডস আর্জেন্টিনা

১৯৮২ ইতালি পশ্চিম জার্মানি স্পেন

১৯৮৬ আর্জেন্টিনা পশ্চিম জার্মানি মেক্সিকো

১৯৯০ পশ্চিম জার্মানি আর্জেন্টিনা ইতালি

১৯৯৪ ব্রাজিল ইতালি যুক্তরাষ্ট্র

১৯৯৮ ফ্রান্স ব্রাজিল ফ্রান্স

২০০২ ব্রাজিল জার্মানি দ. কোরিয়া-জাপান

২০০৬ ইতালি ফ্রান্স জার্মানি

২০১০ স্পেন নেদারল্যান্ডস দক্ষিণ আফ্রিকা

২০১৪ জার্মানি আর্জেন্টিনা ব্রাজিল

২০১৮ ফ্রান্স ক্রোয়েশিয়া রাশিয়া