রাকিতিচের প্রেম-কাহিনী

  স্পোর্টস ডেস্ক ১৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপ

সিনেমায় প্রেমের গল্প তো অনেক দেখেছেন। ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলার ইভান রাকিতিচের জীবনে আছে এমন এক প্রেমের গল্প, যা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। সময়টা ২০১১। রাকিতিচের বয়স তখন সবে ২১। চার বছর জার্মান ক্লাব শালকেতে খেলার পর স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়া কিনে নেয় তাকে।

সেভিয়ার সঙ্গে চুক্তি করার জন্য ভাই দেজানকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবারের মতো স্পেনে আসেন রাকিতিচ। ভাইকে সঙ্গে নিয়ে যখন হোটেলে এসে উঠলেন, রাত তখন প্রায় ১০টা। পরের দিন সেভিয়ায় গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে।

নতুন দেশে খেলতে এসে কিছুটা নার্ভাস রাকিতিচ ভাইকে নিয়ে বারে গেলেন। তখন কী আর তিনি জানতেন, এই বারে গিয়েই তিনি খুঁজে পাবেন তার ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গীকে! ভাইয়ের সঙ্গে বসে গল্প করছেন, এমন সময় হোটেল বারে এক নারী ওয়েটারকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন রাকিতিচ।

নিজের মনেই বলে উঠলেন, ‘এত সুন্দরও কোনো মানুষ হতে পারে!’ মেয়েটিকে দেখিয়ে ভাইকে বললেন, ‘ওই মেয়েটিকে দেখেছ? ওর জন্যই আমি সেভিয়ায় খেলব। ওকে বিয়ে করব।’ ভাই পাত্তা দিলেন না রাকিতিচের কথায়, কিন্তু প্রথম দর্শনে রাকিতিচ সত্যিই প্রেমে পড়ে যান সেই ওয়েটারের।

এরপর শুরু হল রাকিতিচের জীবনের ‘সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়’। বাড়ি ভাড়া পাওয়ার আগে তিন মাস ওই হোটেলে ছিলেন রাকিতিচ, তিন মাসের প্রতিটি দিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই তিনি হোটেল বারে চলে আসতেন সেই ওয়েটারকে দেখার জন্য। কফি আর অরেঞ্জ জুসের অর্ডার দিয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতেন তার দিকে।

মেয়েটির সঙ্গে টুকটাক কথা বলার চেষ্টা করতেন, কিন্তু স্প্যানিশ ভাষা না জানায় হাই হ্যালোর বেশি এগোতে পারতেন না। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, মেয়েটির নাম রাকুয়েল। কিন্তু সমস্যা হল, মেয়েটি ইংরেজি জানে না। রাকিতিচ স্প্যানিশ জানেন না। পছন্দের মেয়েটির সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তাই স্প্যানিশ শেখার জন্য উঠেপড়ে লাগলেন তিনি।

সারা দিন স্প্যানিশ টিভি প্রোগ্রাম ও রেডিও শুনে যতটুকু স্প্যানিশ রপ্ত করলেন, সেটুকু দিয়েই কথা বলা শুরু করলেন রাকুয়েলের সঙ্গে। রাকিতিচের এমন কাণ্ডে মজা পেতে শুরু করলেন রাকুয়েল। কিছুটা চেনাজানা হলে রাকুয়েলকে বাইরে কফি খেতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন রাকিতিচ। কিন্তু ২০-৩০ বার প্রস্তাব দিলেও কোনো না কোনো অজুহাতে বারবার সেটি এড়িয়ে যান রাকুয়েল।

শেষমেশ একদিন রাকিতিচের জোরাজুরিতে বলেই ফেললেন ডেটে না যাওয়ার কারণ। পেশাদার ফুটবলার রাকিতিচ যদি সামনের মৌসুমে অন্য কোথাও চলে যান, সেই ভয়েই তার সঙ্গে জড়াতে চান না রাকুয়েল।

একথা শোনার পর রাকিতিচ ভাবলেন, রাকুয়েল তাকে এতটাই খারাপ খেলোয়াড় ভেবেছেন যে, সেভিয়া তাকে পরের মৌসুমেই ছেড়ে দিতে পারে, এমন আশঙ্কা করছেন তিনি! রাকুয়েলের মন জয়ের জন্য তাই ক্লাবের হয়ে দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে শুরু করলেন তিনি, যেন অন্তত বছর কয়েকের জন্য ক্লাবটিতে নিয়মিত হতে পারেন।

এরপর একদিন অপ্রত্যাশিতভাবে রাকিতিচের ভাগ্য খুলে গেল। সেভিয়ায় এসেছেন সাত মাস হয়েছে। শহরের অনেকেই তাই রাকুয়েলের প্রতি রাকিতিচের দুর্বলতার কথা জানত। একদিন হঠাৎ অপরিচিত এক নম্বর থেকে রাকিতিচের মোবাইলে একটি এসএমএস আসে। লেখা ছিল, ‘রাকুয়েল আজ কাজে নেই, বোনের সঙ্গে এক বারে কফি খেতে গেছে।’

এই খবর শোনার পর রাকিতিচকে আর পায় কে! দ্রুত এক বন্ধুকে নিয়ে চলে গেলেন সেই বারে। হঠাৎ রাকিতিচের উপস্থিতি চমকে দিল রাকুয়েলকে। রাকিতিচও গিয়ে রাকুয়েলের বোনের সামনেই তাকে ডেটে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বসলেন! সাত মাস ধরে ‘না’ করে এলেও এদিন আর রাকিটিচকে ফেরাতে পারেননি রাকুয়েল। সেদিন থেকেই দু’জনের প্রণয়, সেই প্রণয় পরে রূপ নিয়েছে পরিণয়ে। পছন্দের মানুষকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন রাকিতিচ। দুটি ফুটফুটে মেয়ে

তাদের। রাকিতিচ পরে বলেছিলেন, রাকুয়েলকে রাজি করানোর সাত মাস তার কাছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার চেয়েও কঠিন ছিল! রোমান্টিক কাহিনী যে শুধু সিনেমার পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও হতে পারে, তার প্রমাণ বার্সেলোনার এই ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার! ওয়েবসাইট।

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter