আলোচিত দশ ২০১৭

  মুসতাক আহমদ ০১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আজকের সূর্যাস্তের মাধ্যমে বিদায় নিচ্ছে ঘটনাবহুল ২০১৭। কালের গর্ভে চিরতরে হারিয়ে যাবে আরেকটি বছর, ভালো থাকার স্বপ্ন নিয়ে যা শুরু হয়েছিল ৩৬৪ দিন আগে। এরপর কালের ঘূর্ণাবর্তে এক-একটি দিন আসে নতুন নতুন ঘটনা নিয়ে। এসবের কোনোটি ছিল ইতিবাচক, কোনোটি লোমহর্ষক। বিদায়ী বছরে জাতীয় জীবনে এমন অন্তত ১০টি ঘটনা চিহ্নিত করা যায়- যা দেশবাসী মনে রাখবে অনেকদিন।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর ২৫ আগস্ট থেকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। ইতিহাসের ন্যক্কারজনক গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, বাস্তচ্যুতকরণ চালায় তারা। দাতব্য সংস্থা মেডিসিন সান ফ্রন্টিয়ার্স জানায়, প্রথম মাসেই অন্তত ৬ হাজার ৭০০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এতে জীবনরক্ষার তাগিদে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত (চার মাসে) ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আগে থেকেই ছিল আরও চার লাখের বেশি। সবমিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার ভার বইতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

দরিদ্র দেশ এবং জনসংখ্যার চাপ সত্ত্বেও নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণ রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ত্রাণ তৎপরতা চালায়। প্রতিদিনই উখিয়া-টেকনাফে ত্রাণ নিয়ে ভিড় করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যাওয়া মানুষ। নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদাহরণে দেশের মানুষ ও সরকার পায় বিশ্ববাসীর অভিনন্দন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ অভিধায় ভূষিত হন। তবে এ বাড়তি চাপ পরিবেশ-প্রতিবেশ, সামাজিক, অর্থনৈতিক, পারিপার্শ্বিক ও নিরাপত্তার উপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববাসীর সমালোচনার মুখে রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চুক্তি স্বাক্ষর করতে শুরু করেছে মিয়ানমার। কিন্তু এখনও রোহিঙ্গারা আসছে।

রোবট সোফিয়া ঢাকায় : প্রাত্যহিক জীবনে টেকনোলজির ব্যবহার মানবসভ্যতায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে। ইন্টারনেট অব থিংস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, জৈবপ্রযুক্তি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও স্মার্ট প্রযুক্তির কারণে এ বিপ্লব ঘটছে। একে বলা হচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব। তারই এক নির্মাণ রোবট সোফিয়া। হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হ্যানসন রোবটিক্স এটি তৈরি করেছে। নির্মাতা ডেভিড হানসন। এ বছরই রিয়াদে এ তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনীতে সোফিয়ার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় মুগ্ধ হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে নাগরিকত্ব দিয়েছিল।

প্রথম নাগরিকত্ব পাওয়া বাক্সবন্দি হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছে ঢাকায়। তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৬ ডিসেম্ব^র মানুষের মুখোমুখী হয় সে। কথা বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও। যমুনা টেলিভিশন রোবটটির সরাসরি সাক্ষাৎকার প্রচার করে।

রোবটটির সঙ্গে ঢাকায় এসেচিলেন এর নির্মাতাও। তিনি বলেন, রোবটটিকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে সে মানুষের ব্যবহারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ও শিখতে পারে এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারে।

পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশ : পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক কেন্দ্র। এর নাম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। নির্মাণস্থলে যে ভিত্তির ওপর পারমাণবিক চুল্লি তৈরি হবে, তাতে ৩০ নভেম্বর ডিসেম্বর কংক্রিট ঢালাই শুরু করে এই কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে বিশ্ব পরমাণু ক্লাবে ৩২তম দেশ হিসেবে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। পাশাপাশি স্বাধীনতার ৪৭বছর পর পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করল প্রিয় মাতৃভূমি।

শিক্ষায় দুর্নীতি, পাঠ্যবই ও কোচিং বাণিজ্য : শিক্ষায় বছরের শুরুটা হয়েছে বিতর্ক দিয়েই। শিশুদের হাতে তুলে দেয়া হয় ভুল ও বিতর্কিত তথ্য ও বিষয়সংবলিত বই। শুধু তাই নয়, নিন্মমানের কাগজ, বাঁধাই এবং কালিতে ছাপানো বই দেয়া হয়। এ ছাড়া যেসব দেশ-িবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়, তারা সময় মতো সব বই সরবরাহ করেনি। ফলে মার্চ মাসেও দেশের কোথাও বই পাঠানো হয়েছে। বইয়ে বিশেষ করে বাংলায় একটি ধর্মভিত্তিক সংগঠনের দাবির মুখে কবিতা-গল্প-প্রবন্ধে পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটে বিদায়ী বছরে। এসব নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির প্রতিবেদনে কতটি সুপারিশ ছিল তা জানা যায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তার একটি ছিল কর্মকর্তাদের পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে সরিয়ে দেয়া। কয়েকজনকে সরানো হলেও বাকিরা আছে বহাল। যে কারণে আসন্ন বছরের বই নিয়েও সিন্ডিকেট করা, নানা অনিয়মের মাধ্যমে টেন্ডার কাজ দেয়া, নিন্মমানের কাগজ-কালিতে বই ছাপানোসহ নানা ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

বিদায়ী বছরে টিআইবি (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) এনসিটিবির ওপর একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে এনসিটিবিতে ১৬ স্তরে ১৭ ধরনের দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে। কিন্তু ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ক্লাসরুমে ঠিকমতো না পড়িয়ে শিক্ষার্থীকে কোচিংয়ে বাধ্য করছেন বেশির ভাগ শিক্ষক। এ ক্ষেত্রে নামকরা বা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

শিক্ষা নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য দুদকও (দুর্নীতি দমন কমিশন) পেয়েছে। যে কারণে গত ৩ ডিসেম্বর দুদক শিক্ষায় দুর্নীতি বন্ধ করাতে ৩৯টি সুপারিশ পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবেও সংস্থাটি ওই সুপারিশ হস্তান্তর করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে।

সর্বস্তরে প্রশ্ন ফাঁস ও পরীক্ষায় দুর্নীতি : ২০০৯ সালের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠছিল। সমান্তরালে ছিল বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষায় দুর্নীতি। কিন্তু বিদায়ী বছরের তা মহামারীর আকার নেয়। বছর শেষে এসে এতটাই সর্বগ্রাসী পর্যায়ে নেমে যায় যে, দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়।

এক সময়ে প্রশ্ন ফাঁস হতো পরীক্ষার বেশ কয়েকদিন আগে। অর্থের লোভে কোনো মহল প্রশ্ন ফাঁস করে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বিক্রি করতো। সমাজের বিশেষ করে অভিভাবকদের চোখে তা ছিল নিন্দনীয়। কিন্তু পরে সেটাই ওপেন সিক্রেটে পরিণত হতে থাকে। এই অপরাধে শিক্ষার্থীর সঙ্গে একশ্রেণীর শিক্ষক ও অভিভাবক যুক্ত হয়। কিছু শিক্ষক হাতেনাতে ধরাও পড়ে। এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ পর্যন্ত অসহায় আত্মসমর্পণ করে বলেন, যেখানে শিক্ষকরাই প্রশ্ন ফাঁস করে, সেখানে ফাঁস রোধে অন্য ব্যবস্থা নিয়ে কী হবে! দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ সরকারি প্রেস (বিজি প্রেস), ট্রেজারি ও পরীক্ষা কেন্দ্র প্রশ্ন ফাঁসের উৎস। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু কর্মকর্তা তা করে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কোচিং সেন্টার, প্রতারক শিক্ষক ও বিভিন্ন অপরাধীচক্র।

বছর জুড়েই গুম আতঙ্ক : বিদায়ী বছরে গুমের ঘটনা ভয়াবহ আতঙ্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আলোচিত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এক অদৃশ্য শক্তির হাতে একের পর এক গুম হয়ে যাচ্ছিলেন। কাউকে দিনের আলোতে আবার কাউকে রাতে তুলে নেয়া হয়। প্রায় সব ঘটনারই ছিল একই চিত্রনাট্য। কে বা কারা তাদের মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে গেছে। বছরের শেষের দিকে অবশ্য কয়েকজনের হদিস মেলে। এরমধ্যে কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেফতার দেখায়, বাকিদের রাজধানী ও এর আশপাশে ফেলে যাওয়া হয়। গুম-ফেরতরা প্রায় একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। এভাবে কয়েকজনের হদিস মেলায় গুম হওয়া বাকিদেরও জীবিত ফেরারআশা তৈরি হয়েছে পরিবারে। কিন্তু আদৌ তারা ফিরবেন কিনা সে প্রশ্নের উত্তর কারো কাছে নেই।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবে এ বছরে নভেম্বর পর্যন্ত ৭৫ জন নিখোঁজ হন। এর মধ্যে ১৬ জনকে পরে গ্রেফতার দেখিয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী, ১৯ জন ফিরেছেন, লাশ পাওয়া গেছে ৭ জনের। এখনও খোঁজ নেই ৩৩ জনের। ৪ ডিসেম্বর ধানমণ্ডির বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। ১৭ ডিসেম্বর ধানমণ্ডি থেকে ‘অপহৃত’ হন লন্ড্রি ব্যবসায়ী সিরাজুল হক মিন্টু। সর্বশেষ ২৭

ডিসেম্বর নিখোঁজ হন ব্র্যাক ব্যাংক কর্মকর্তা নাইমুল ইসলাম সৈকত। এদের কারোরই হদিস নেই।

গত ৭ নভেম্বর ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক মোবাশ্বার হাসান সিজারকে কে বা কারা তুলে নিয়েছিল। ২১ ডিসেম্বর রাত ১টার দিকে তাকে ঢাকার কাছে একটি মহাসড়কে ফেলে যাওয়া হয়। নিখোঁজ হওয়ার ৪৪ দিন পর ফিরে সাংবাদিকদের কাছে সিজার বলেছিলেন, কেন তাকে অপহরণ করা হয়েছিল তা তিনি জানেন না। তবে তার মনে হয়েছে টাকার জন্যই তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। এভাবে নিখোঁজ হওয়ার ৭০ দিন পর ফিরে আসেন সাংবাদিক উৎপল দাস। অপহরণের কারণ জানাতে পারেননি তিনিও।

২৬ আগস্ট নয়াপল্টন থেকে সাভারের আমিনবাজারে বাসার উদ্দেশে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছেন কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান। প্রায় ৪ মাস পর গত ২৩ ডিসেম্বর তাকে তিন বছর আগের এক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। লেখক-কবি ফরহাদ মজহারের দাবি, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। পরে তিনি মুক্তি পান। যদিও এ নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য আছে। এ ঘটনাটি ব্যাপক আলোচিত হয়েছে।

পোপের ঢাকা সফর : শান্তি ও সম্প্রীতির বাণী নিয়ে এবং ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে সেবা করার আহ্বান জানাতে ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সফরে আসেন ক্যাথলিক খ্রিস্ট ধর্মাবলম্ব^ীদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের ক্যাথলিক বিশপের আমন্ত্রণে তিনি ওই সফরে আসেন। বাংলাদেশে আসার আগে তিনি মিয়ানমারে যান। সেখান থেকে সরাসরি ঢাকায়। রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যে তার এই সফর নিয়ে দেশের মানুষের বিশেষ আগ্রহ ছিল। বাংলাদেশে এসে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যেই ঈশ্বর আছেন। তার আগে ১৯৮৬ সালে পোপ দ্বিতীয় জন পল বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। ঢাকায় পোপকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ইউনেস্কো স্বীকৃতি : জাতির জনকের যে ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে বাঙালি প্রাণ বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে সেটা এক অমরগাঁথা। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দেয়া সেই ভাষণের বিশ্বস্বীকৃতি মিলেছে বিদায়ী বছরে। ৩০ অক্টোবর প্যারিসে জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কোর হেডকোয়ার্টারে এ সংক্রান্ত ঘোষণাটি দেন মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা। তিনি জানান, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে মেমোরি অব দ্য ওয়াার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রার-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু ও উন্নয়ন প্রকল্প : জনগণের কাছে বর্তমান সরকারের গর্ব করে বলার মতো যে কটি বিষয় আছে তার অন্যতম উন্নয়ন। দেশব্যাপী এর ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। এর মধ্যে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ও ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে উল্লেখযোগ্য। রাজধানীর যানজট নিরসনে ইতিমধ্যে মগবাজার ফ্লাইওভারের সবক’টি দিক খুলে দেয়া হয়েছে। কাঁচপুর ব্রিজের পাশে হচ্ছে বিকল্প ব্রিজ।

নানা কাঠখড় পুড়িয়ে শুরু হয় পদ্মা সেতুর কাজ। এ বছরই এর দুটি পিলারের মধ্যে বসে একটি স্প্যান। দৃশ্যমান হয় সেতু। ২৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পদ্মা সেতুর কাজ ৫০ভাগ শেষ হয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যে এই সেতু চালুর ব্যাপারে সরকারের প্রাক-ঘোষণা আছে।

প্রধান বিচারপতির বিদায় : বিদায়ী বছরে নানা কারণে আলোচিত ছিল বিচারাঙ্গন। তবে সব আলোচনাকে ম্লান করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার পদত্যাগ। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি। এরপর বিচার বিভাগের নানা প্রসঙ্গ, রাজনীতি, শাসনব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশ্য বক্তৃতা করে বারবার আলোচনার জন্ম দেন। শেষ পর্যন্ত তিনি সরকারে অস্বস্তির বড় কারণ ছিলেন।

উচ্চ আদালতে বিচারকদের অপসারণ সংক্রান্ত ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রকাশের পর এসকে সিনহার সঙ্গে সরকারের দূরত্বের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে বিচার ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠে। এ পরিস্থিতিতে ৮ সেপ্টেম্বর ছুটি নিয়ে কানাডা ও জাপান সফরে যান তিনি। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে দেশে ফেরেন। সুপ্রিমকোর্টের ২৫ দিনের অবকাশ শেষে প্রথম কার্যদিবস ছিল ৩ অক্টোবর। কিন্তু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আগেরদিন এক মাসের (৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত) ছুটি চেয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে চিঠি পাঠান প্রধান বিচারপতি। রাষ্ট্রপতি ওই ছুটি মঞ্জুরও করেন। পরে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সরকারি আদেশ প্রসঙ্গ এলে এসকে সিনহা রাষ্ট্রপতির কাছে আবারও আবেদন করে জানান, তিনি ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে চান। ১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধান বিচারপতি। তার দেশত্যাগের পরদিন সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন থেকে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ তুলে বিবৃতি দেয়া হয়।

১০ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়া থেকে সিঙ্গাপুরে যান প্রধানবিচারপতি। সেখানে বাংলাদেশের হাইকমিশনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি। আসছে ৩১ জানুয়ারি এসকে সিনহার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার ৮১ দিন আগেই তিনি বিদায় নেন।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter