ফের মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের পাল্টা কমিটি

ব্যক্তি স্বার্থ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান অন্য পক্ষের * আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা

  ঢাবি প্রতিনিধি ২০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুক্তিযোদ্ধা

মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য সব ধরনের সরকারি চাকরিতে প্রিলিমিনারি থেকে ৩০ শতাংশ কোটা বহালের বহুধাবিভক্ত আন্দোলনে ফের পাল্টা কমিটি দেয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিনকে আহ্বায়ক (মুখপাত্র) ও নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের ছেলে আসিবুর রহমান খানকে সদস্য সচিব করে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’র এ কমিটি করা হয়।

শুক্রবার গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি আসে। অন্যদিকে এ কমিটির বিষয়ে কিছুই জানেন না উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনেছে মঞ্চের অন্য একটি পক্ষের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান। অপরদিকে আরেকটি পক্ষ বলছে, তারা এ দু’গ্রুপের কারও সঙ্গেই নেই।

আন্দোলনের শুরু থেকেই সংগঠনগুলোর মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও একপর্যায়ে তা প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়ির পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়েও তৈরি হয় ধোঁয়াশা। এর আগে নৌমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কয়েকটি সংগঠন।

পৃথক পৃথক কর্মসূচিও দিয়েছিল তারা। যার ফলে সামগ্রিক আন্দোলনে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটার দাবিতে বৃহৎ ঐক্যের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়েছে। এসব কারণে ঢাকাকেন্দ্রিক আন্দোলনে ভঙ্গুর অবস্থা সৃষ্টি হয় এবং সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের আন্দোলনেও তেমন সাড়া দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান যুগান্তরকে বলেন, নতুন নেতৃত্বের যে কথা বলা হচ্ছে সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘জামাল সাহেব এর আগেও এ মঞ্চকে বিলুপ্ত করেছেন, হ্যান্ডওভার করেছেন।

তিনি দু-তিনটা সংগঠন নিয়ে বসে এটি করেন। এর আগে শাজাহান খান (নৌমন্ত্রী) সাহেবের বাসায় গিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসে নিজেকে আহ্বায়ক ও শাজাহান খানের ছেলেকে সদস্য সচিব ঘোষণা করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাকে (জামাল উদ্দিন) বলেছি ইতিমধ্যে আপনার নীতি-নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আপনি সবার মতামতের ভিত্তিতে কাজ করলে আছি, তা না হলে আমি নেই।’

তিনি জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘তিনি বিশ্বাসঘাতকতার চরম পর্যায়ে পৌঁছেছেন এবং একটা কৌশল অবলম্বন করছেন। তিনি ব্যক্তি স্বার্থের জন্য নাকি আবার শুনছি অর্থনৈতিক বিষয়।

তিনি বলেছেন, আন্দোলনের জন্য কার কাছ থেকে যেন ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন, উল্টো তিনি আবার মাইকের জন্য আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিলেন। আমি সব কিছু শুনে চুপচাপ। কারণ এরা তো আর সাংগঠনিক লোক না।

এদের জন্ম হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ যেদিন হয়েছে, সেদিন এসে বসছে। আর আমরা মুক্তিযুদ্ধ পরিবার ও তাদের জন্য ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছি।’ সব সংগঠন যারা মাঠে কাজ করছে তাদের বাইরে যেতে পারবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে মঞ্চের নবগঠিত নেতৃত্বের সঙ্গে আছেন এমন একজন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রায় ২৫টি সংগঠনের উপস্থিতিতে এ কমিটি করা হয়। মেহেদী হাসান সেখানে সদস্য সচিব প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু ৯৮ ভাগ ভোট পেয়ে সদস্য সচিব নির্বাচিত হন আসিবুর রহমান খান। কমিটিতে তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। ফলে হেরে গিয়ে তিনি এসব কথা বলছেন। এর আগেও তিনি এভাবে নিজেকে আহ্বায়ক দাবি করেন। এটা খুবই হাস্যকর।’ মেহেদী হাসানের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব তার ভুল ধারণা।’

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী আরেকটি সংগঠন ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’-এর সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, নৌপরিবহনমন্ত্রী আমাদের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মাধ্যমে ডেকে এ কমিটির (জামাল-আসিব) বিষয়ে বলেন।

পরে আমরা তাকে বলে দিয়েছি, আমরা আমাদের ব্যানারেই আন্দোলন করব, আমরা মন্ত্রী মহোদয়ের ডাকে যাব না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কোটা নিয়ে ১৫ বছরসহ ১৯ বছর ধরে আন্দোলন করছি। এখনও আমরা আমাদের মতো করেই আন্দোলন করব। আমরা কোনো পক্ষের সঙ্গেই নেই।’

এর আগে মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সচিব কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিসভা এমন সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৯ থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে, যেখানে চাকরিতে কোনো কোটা থাকবে না।

সেদিন রাতেই এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের সমন্বয়ে গঠিত কয়েকটি সংগঠন। গঠিত হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’। সোমবার পর্যন্ত এ মঞ্চের ব্যানারেই আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছিল। এর আহ্বায়ক হিসেবে শুরুতে দায়িত্ব পালন করছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ড. আ ক ম জামাল উদ্দিন।

ঘটনাপ্রবাহ : কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×