আসন বণ্টন নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি আ’লীগ

শনিবার দল ও মহাজোটের প্রার্থী ঘোষণা : কাজী জাফর উল্লাহ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এই মুহূর্তে মহাজোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আসন বণ্টন নিয়ে সোমবার পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি দলটি। যদিও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে বলা হচ্ছিল- সোমবারের মধ্যে দল ও মহাজোটের আসন চূড়ান্ত হবে। এদিন আসন বণ্টন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরকারী বাসভবন গণভবনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের আলোচনার কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তবে এদিন আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলটির সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্যের সঙ্গে রাতে কথা বলে জানা যায়, দলের ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও তা নিয়ে পুনঃআলোচনা হয়। শুক্রবার পর্যন্ত এই আলোচনা ও তালিকায় স্থান পাওয়া বেশ কিছু প্রার্থীর পর্যালোচনা অব্যাহত থাকবে। এর মধ্যে জোট ও মহাজোটের আসন বণ্টনের কাজটিও সেরে ফেলবে আওয়ামী লীগ। মহাজোটের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে শুক্রবারের মধ্যে আলোচনা করবে দলটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ সোমবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, আমরা এখনও মহাজোটের আসন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারিনি। শুক্রবার পর্যন্ত আসন বণ্টন নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার দলের ও জোটের পৃথক তালিকা প্রকাশ করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জোট বা মহাজোটের যেসব আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নাম ওঠে আসবে তাদের সেখান থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। এর আগে শনিবার রাতে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করে। সেদিন বৈঠকে উপস্থিত একাধিক শীর্ষ নেতা যুগান্তরকে জানান, দলীয় মনোনয়ন তালিকায় অনেক নতুন মুখ স্থান পেয়েছে। বাদ পড়েছে প্রভাবশালী এমপি-মন্ত্রী। এই তালিকায় আছেন কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতা।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক সূত্র জানা যায়, প্রথম দিকে দলের কয়েকটি আসন নিয়ে আলোচনার পর মহাজোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টি ও একেএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের আসন বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন বোর্ডের সদস্যরা। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেননি তারা।

সূত্র আরও জানায়, আরেক দফা বৈঠকে বসে আসন বণ্টনের খসড়া তালিকা প্রণয়নের পর জাতীয় পার্টি ও যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারে আওয়ামী লীগ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপের ভিত্তিতে তাদের হাতে থাকা সব আসনগুলোর প্রকৃত চিত্র তাদের সামনে তুলে ধরে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি সমাধান করতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। তবে শুধু জোট-মহাজোটের স্বার্থে পরাজয় নিশ্চিত এমন কোনো প্রার্থীকে ছাড় দিয়ে আসন হারানোর কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না আওয়ামী লীগ। সোমবার রাতের বৈঠকে এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। জানা গেছে, মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকে সোমবার দিনভর আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা, মন্ত্রী-এমপি গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেন। বেশির ভাগ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ না পেলেও কয়েকজন তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। এ সময় তারা মনোনয়নের ক্ষেত্রে তাদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানালে প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে নৌকা মার্কার বিজয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন বলেও জানা গেছে। সূত্র জানায়, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় বিভিন্ন আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম প্রকাশ হলেও সংসদীয় বোর্ডের কোনো সদস্যই তা নিশ্চিত করেননি। বরং প্রকাশিত তালিকাকে মনগড়া এবং বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সংসদীয় বোর্ডের সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, আমরা এখনও কারও মনোনয়ন চূড়ান্ত করিনি, যা করেছে তা মিডিয়াই করেছে। তবে সংসদীয় বোর্ডের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে মনোনয়নের ক্ষেত্রে একটি চমকের আভাস দেন। তিনি জানান, এবারের মনোনয়নে বেশকিছু চমক থাকছে। টানা ১০ বছর মেয়াদে নিজেদের জনপ্রিয়তা এলাকায় ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং বার্ধক্যজনিত কারণে এবার বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি মনোনয়ন তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন। তার ভাষায় চমকটি হচ্ছে, আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদান করে চট্টগ্রামের মেয়র হওয়া মনজুরুল আলম এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন। চট্টগ্রাম-৪ আসন থেকে তার মনোনয়ন নিশ্চিত বলেই আভাস দেন তিনি। এটি হলে মনোনয়নবঞ্চিত হবেন ওই আসনের বর্তমান এমপি দিদারুল আলম। ওই সদস্য অবশ্য এও বলেন, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে অনেক কিছুই পরিবর্তন হতে পারে। এছাড়া ঢাকা-১৩ আসনে ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা, ফরিদপুর-১ আসন থেকে কাজী সিরাজ নির্বাচন করবেন বলে দলের মনোনয়ন বোর্ডের একটি সূত্র যুগান্তরকে জানিয়েছে। এ দুটি আসনে আওয়ামী লীগের দু’জন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বর্তমান এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×