ভিকারুননিসা স্কুল ও কলেজ

এইচএসসি টেস্টে ফেল ২৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী!

ফরম পূরণ করিয়ে অবৈধভাবে ছাত্রীদের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা আদায়

  মুসতাক আহমদ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফেল

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষায় প্রায় ২৫ শতাংশ ছাত্রী ফেল করেছে। এই শিক্ষার্থীদের মূল পরীক্ষায় অংশ নেয়ার ব্যাপারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তাদের দিয়ে ফরম পূরণ করাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বিনিময়ে মাথাপিছু ৪ হাজার টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হচ্ছে।

এতে প্রায় ৮০ লাখ টাকা উঠছে। ফেল করা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অনেকটা নিরুপায় হয়ে এই টাকা দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে এসব অভিযোগ পাওয়া যায়। বাড়তি টাকা আদায়ের ঘটনায় ছাত্রী-অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাসিনা বেগম যুগান্তরকে বলেন, কিছু ছাত্রী টেস্ট পরীক্ষায় অ্যালাও (উত্তীর্ণ) হয়নি। কিন্তু সেই সংখ্যা কত তা এখনই বিচার্য বিষয় নয়। আমরা চাইব সব ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিক। ফরম পূরণে বাড়তি টাকা গ্রহণের বিষয়ে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। দুপুরে রাজধানীর নামি প্রতিষ্ঠানটিতে সরেজমিন গেলে ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের দৃশ্য ধরা পড়ে। তখন খোঁজ নিতে গিয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ ছাত্রীর টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করার তথ্যও পাওয়া যায়।

একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবার প্রায় ২ হাজার ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১৪৯২ জন এবং মানবিক ও বিজনেস স্টাডিজে যথাক্রমে ২০০ ও ৩০০ পরীক্ষার্থী। বিজ্ঞান বিভাগেই তিনের অধিক বিষয়ে ফেল করেছে ১১৯ জন। তাদের মধ্যে এ গ্রুপে ১৪, বি গ্রুপে ১২, সি গ্রুপে ১০, ডি গ্রুপে ১৩, ই গ্রুপে ৫, এফ গ্রুপে ১২, জি গ্রুপে ১৪, এইচ গ্রুপে ২, জে গ্রুপে ২৫ জন ফেল করেছে। বিজ্ঞানের আই গ্রুপ এবং মানবিক ও বিজনেস স্টাডিজ গ্রুপে ফেল করা ছাত্রীর পরিসংখ্যান জানা যায়নি। এক ও দুই বিষয়ে ফেল করা ছাত্রীর সংখ্যা আরও বেশি। এ সংখ্যা শতাধিক হতে পারে। সবমিলে ফেলের হার ২৫ শতাংশ বলে সূত্র জানায়। নামকরা প্রতিষ্ঠানে এত শিক্ষার্থীর ফেল করা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।

ফেল করা শিক্ষার্থীদের তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তবে এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই কেউ পরীক্ষার বাইরে না থাকুক। আমরা আশা করব তারা পরীক্ষা দিক। পাস করুক। এজন্য পরে যত্ন নেয়া হবে।’ তবে অভিভাবকদের প্রশ্ন, যেখানে ২ বছরে যত্ন নিয়েও তারা পাস করাতে পারল না, সেখানে চার মাসে কী উন্নতি ঘটাবে?

ঢাকা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের মূল পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া যাবে না। এ ব্যাপারে ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমাদের নির্দেশনা পরিষ্কার, ফেল করা কেউ বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। কোনো প্রতিষ্ঠান এই সুযোগ দিলে নিজ দায়িত্বে দেবেন।’

গত ২৯ নভেম্বর ঢাকা বোর্ডের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফরম পূরণে বিজ্ঞানে ২৪৫০ টাকা, মানবিকে ও বিজনেসে ১৮৯০ টাকা নেয়া হবে। এর বাইরে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ২৮০ টাকা আদায় করা যাবে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে হাইকোর্টের আদেশ উল্লেখ করে বলা হয়, ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ নেয়া যাবে না। কিন্তু অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাপে জানা যায়, অতিরিক্ত ৪ হাজার টাকা করে শ্রেণী শিক্ষকদের কাছে নগদে জমা দেয়ার পরই তারা ফরম পূরণের অর্থ জমার ব্যাংক-রসিদ পেয়েছেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×