প্রেস ব্রিফিংয়ে সিইসি

বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার বন্ধে চিঠি দেবে ইসি

ড. কামালের ওপর হামলা ফৌজদারি অপরাধ, তদন্তের পর ব্যবস্থা * নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়েছে * সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা নয়, তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে গ্রেফতার করতে পারবে * ভোটকক্ষ নয় ভোট কেন্দ্র থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফৌজদারি অপরাধে জড়িত না থাকলে প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের কর্মীদের বিনাওয়ারেন্টে অহেতুক হয়রানি ও গ্রেফতার বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইজিপিকে চিঠি দেবে ইসি। কাল-পরশুর মধ্যেই চিঠি দেয়া হবে। শনিবার প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা এ কথা বলেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলার ঘটনাকে দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করেন সিইসি। তিনি বলেন, এ হামলা ফৌজদারি অপরাধ। ঘটনাটি নির্বাচনী তদন্ত কমিটিতে পাঠানো হবে। কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা মনে করি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়েছে। সব প্রার্থী প্রচার চালাতে পারছেন। প্রচারে তাদের কোনো বাধা নেই। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হবে না। তবে বিশেষ পরিস্থিতি হলে তারা গ্রেফতার করতে পারবেন। আইনে যেভাবে আছে সেভাবেই তারা দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অহেতুক কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা বলা যাবে না। হয়তো তাদের বিরুদ্ধে মামলা মোকাদ্দমা ও ওয়ারেন্ট থাকতে পারে। সে কারণে তাদের গ্রেফতার করে থাকতে পারে। এটা তাৎক্ষণিক বলতে পারব না। তবে কাউকে যাতে অহেতুক হয়রানি বা গ্রেফতার করা না হয় তা বলে দেয়া হবে।

শনিবার সকালে কমিশনাররা বৈঠক করেন। এতে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণ অনুমোদন এবং আচরণবিধি প্রতিপালনে বিজ্ঞাপন প্রচারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই বৈঠকের পর বিকালে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সিইসি। এ সময় তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকক্ষ (বুথ) থেকে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকেরা সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন না। তবে তারা ভোটকক্ষের ছবি তুলতে এবং চিত্র ধারণ করতে পারবেন। বুথের বাইরে ভোট কেন্দ্রের বারান্দা বা মাঠ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে ভোট কেন্দ্রে সীমিত আকারে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক প্রবেশ করতে পারবেন। ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে সিইসি বলেন, ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলার ঘটনাটি দুঃখজনক। তিনি একজন সিনিয়র সিটিজেন ও একজন প্রখ্যাত ব্যক্তি। তার ওপর হামলা হওয়াটা কখনোই প্রত্যাশিত নয়, কাক্সিক্ষত নয়। এ ক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধ হয়েছে। ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে যেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয় তা করা হবে। তারা (ঐক্যফ্রন্ট) আমাদের কাছে বিষয়টি দেখার জন্য আবেদন করেছে। আমরা এটা দেখার জন্য নির্বাচনী তদন্ত কমিটির কাছে পাঠাব। তারা রিপোর্ট দিলে সেই অনুসারে ব্যবস্থা হবে। সিইসি বলেন, ভোটের সময় মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ফোরজি থেকে টুজিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়নি। সাংবাদিকদের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোটকক্ষ থেকে কোনো দৃশ্য সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা যাবে না। ভোটকক্ষ থেকে বাইরে এসে বারান্দায় বা মাঠে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকরা সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন। সাংবাদিকদের প্রতিটি কেন্দ্রে সীমিত আকারে যেতে হবে। একসঙ্গে অনেকে গেলে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বিঘœ ঘটে। সে ক্ষেত্রে কতজন একসঙ্গে যেতে পারবেন তা নির্বাচন কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা বিবেচনা করে অনুমোদন দেবেন। তিনি বলেন, সাংবাদিক ও ভোটাররা বুথে মোবাইল নিয়ে যেতে পারবেন। তারা মোবাইল ফোনে ভোটকক্ষে ছবি তুলতে পারবেন। কিন্তু মোবাইলে কথা বলতে পারবেন না। সাংবাদিকদের মতো নির্বাচন পর্যবেক্ষকদেরও একই ধরনের নির্দেশনা মানতে হবে। সিইসি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনী কর্মকর্তারা যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করা। প্রিসাইডিং অফিসারের ব্যবস্থাপনা মানতে হবে। তিনি (প্রিসাইডিং অফিসার) কক্ষের ধারণক্ষমতা বিবেচনা করে যতজনকে অনুমোদন দেন সেটা অনুসরণ করতে হবে। এ সময় সিইসির পাশে থাকা নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবেন না।

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আমরা মনে করি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়েছে। প্রার্থীরা তাদের প্রচারণা চালাতে পারছেন। প্রচারে তাদের কোনো বাধা নেই। স্থানীয়ভাবে ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হলে সে ক্ষেত্রে তারা মামলা করবে বা আমাদের কাছে পাঠাবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হবে না। তবে বিশেষ পরিস্থিতি হলে তারা গ্রেফতার করতে পারবে। যদি ম্যাজিস্ট্রেট থাকে বা কোনো একটি এলাকা/কেন্দ্রে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে, ইমিডিয়েট হস্তক্ষেপ করার দরকার হয়, সেটা আইনেই বলা আছে। সিআরপিসিতে আইনে যেভাবে আছে সেভাবেই তারা দায়িত্ব পালন করবে।

নির্বাচনে আচরণবিধি লংঘন ও হামলার ঘটনায় ইসির পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সিইসি বলেন, আচরণবিধি লংঘনে কতজনকে সাজা দেয়া হয়েছে সে তথ্য নেই। আমাদের কাছে আচরণবিধি ভঙ্গের যেসব অভিযোগ আসছে তা ইলেকট্রোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে পাঠিয়ে দেব। কিছু রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাব। তারা এগুলো স্থানীয়ভাবে দেখবেন। স্থানীয়ভাবে আচরণবিধি লংঘন করে রিটার্নিং অফিসার তার ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়া নির্বাচনী ম্যাজিস্ট্রেট আছে তারাও দেখবে। আমরা ১২২টি নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তারা বিষয়গুলো দেখছে।

এ সময় সিইসির পাশে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, কবিতা খানম ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×