কালিয়াকৈরে সালিশ নিয়ে উত্তেজনা

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকায় সালিশকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ফুলবাড়িয়া এলাকা। ওই সালিশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও ফের বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ নিয়ে ফুলবাড়িয়াবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সালিশ-পরবর্তী হামলা সংঘর্ষের ঘটনায় কালিয়ােৈকর থানায় পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। রোববারও ওই ঘটনা নিয়ে এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের রামচনদ্রপুর এলাকায় রামচন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের কয়েকজন ছাত্রের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ আনেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক সবদুল হোসেন ও রেজাউল করিম রতন। পরে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ জানুয়ারি ছাত্রাবাসের দুই ছাত্র সাত্তার ও রনিকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে ওই দিনই তাদের আবার পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনা হয়।

এ নিয়ে ১৫ জানুয়ারি রামচন্দ্রপুর বিদ্যালয় মাঠে এক সালিশের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, প্রধান শিক্ষক, রেজাউল করিম রতন ও স্থানীয় ফুলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতে সালিশ শুরু হয়। সালিশে ওই ছাত্র সাত্তার ও রনির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোনো প্রমাণ না পেয়েও কেন ওই দুই ছাত্রকে পুলিশে দেয়া হল এ নিয়ে জবাব চায় সালিশে উপস্থিত জনতা।

দুই ছাত্রকে বিনা অপরাধে পুলিশে দেয়ায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম রতনকে সালিশে উপস্থিত জনতার কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন তারা। এছাড়া সারোয়ার নামে এক অভিভাবককে ১০ জুতার বাড়ির দেয়ার রায় ঘোষণা করেন। এ সময় জুয়েল নামে এক ব্যক্তি প্রতিবাদ করে বলেন, একই ঘটনায় সভাপতি, প্রধান শিক্ষক যদি ক্ষমা পায় তাহলে সারোয়ারকে কেন জুতাপেটা করা হবে। এ কথা বলার পর চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম ও তার ভাগিনা বজলুর রহমানসহ চেয়ারম্যানের লোকজন জুয়েলের ওপর চড়াও হয়। এ নিয়ে দু’পক্ষের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে দু’পক্ষের কমপক্ষে ১০ আহত হয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় পৃথক অভিযোগ করেছে।

এদিকে ফুলবাড়িয়া বাজারের মারমারিকে কেন্দ্র করে ঘটনার পরের দিন ১৬ জানুয়ারি ফুলবাড়িয়া টেম্পোস্ট্যান্ডে সাঈম সরকার রিফাতের ওপর চেয়ারম্যানের ভাগিনা বজলুর রহমান তার লোকজন নিয়ে এসে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এতে রিফাত গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় সাঈম সরকার বাদী হয়ে বজলুর রহমানসহ ৪-৫ জনকে আসামি করে কালিয়াকৈর থানায় অভিযোগ করেছেন। এরই মধ্যে ওই এলাকার জুয়েল সরকার ও সাঈম সরকার রিফাত এবং বজলুর রহমান বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় পৃথক তিনটি মামলা করেছেন।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, সালিশে ছাত্রদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয় ছাত্ররাই তা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে। তাছাড়া আমরা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি এবং শিক্ষকরা ছাত্রদের ঠিকমতো শাসন করতে না পারার কারণে বিচারে আমরা ক্ষমা চেয়েছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবদুলের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয় নিয়ে কোনো কিছু লেখার দরকারই বলেই ফোন কেটে দেন।