মা-বাবার খোঁজে সুইজারল্যান্ড থেকে কুড়িগ্রামে

সাদা-কালো একটি ছবিই সম্বল তার

  কুড়িগ্রাম ও চিলমারী প্রতিনিধি ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্বল

হারানো বাবা-মায়ের খোঁজে কুড়িগ্রামের উলিপুর ও চিলমারীর পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন রওফি ওরফে খোদেজা। সুদূর সুইজারল্যান্ড থেকে ছুটে এসেছেন বাংলাদেশে। কারণ এই মাটিই যেন তার শিকড়।

এক সপ্তাহ ধরে বাবা-মাকে অনুসন্ধান করে কোনো সূত্র না পেয়ে হতাশ তিনি। তারপরও হাল ছাড়েননি। তার বিশ্বাস বাবা-মাকে খুঁজে পাবেন তিনি। মেয়েটি জানান, দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তিনি। বিদেশ বিভুঁইয়ে মানুষ হয়েছেন দত্তক সন্তান হিসেবে। কোনো কিছুর ঘাটতি রাখেননি সেই বাবা-মা। তারপরও হৃদয়ে রক্তক্ষরণ। সংসার-স্বামী-সন্তানকে নিয়ে সুখে থাকলেও একটা বিনা সুতোর টান অনুভব করতেন মনের খাঁচায়। বড় হয়ে যখন জানলেন তার দেশ সুইজারল্যান্ড নয়, বাংলাদেশে। তখন থেকেই খচখচ করছিল মনটা।

এক সময় স্বামীকে বলেই ফেললেন আরাধ্য কথাটি। স্বামীও রাজি হলেন তার কথায়। তারপর বাবা-মাকে খুঁজতে বাংলাদেশে আসা। খোদেজা এখন চষে বেড়াচ্ছেন কুড়িগ্রামের উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জ। তার সফরসঙ্গী ও অন্য লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় সাড়ে ৩ বছর বয়সী খোদেজাকে উলিপুর উপজেলার থেতরাই বাজারে কাঁদতে দেখে পার্শ্ববর্তী চিলমারীতে অবস্থিত বেসরকারি শিশু সংগঠন টেরেডেস হোমসের একটি নোঙ্গরখানায় নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানেই ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ছিল সে।

এরপর সুইজারল্যান্ডের রওফি পরিবার তাকে দত্তক নেয়। ছোট্টবেলার স্মৃতি একটি সাদাকালো ছবি নিয়ে সে নতুন বাবা-মায়ের সঙ্গে পাড়ি দেয় জেনেভা শহরে।

সেখানেই সন্তান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পড়াশোনা শেষ করে জেনেভার সাইকেল ডেলা গোলেহে স্কুলের শিক্ষক হিসেবে ২০০১ সাল থেকে কাজ করছেন। মা-বাবা হারানোর সময়ের স্মৃতি হিসেবে তার কোনো কিছু মনে নেই। তবে এতটুকু মনে আছে তিনি তখন অন্য কোনো শহরে চলে এসেছেন। এতদিন পরে তিনি নিজের জন্মভূমিতে এসেছেন শুধুমাত্র প্রকৃত মা-বাবার খোঁজে। কিন্তু তিনি নাম-ঠিকানা কিছুই জানেন না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×