সপ্তাহ শেষে শেয়ারবাজারে বড় দরপতন

  যুগান্তর রিপোর্ট ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দরপতন

সপ্তাহ শেষে শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে।

ফলে দিনশেষে ডিএসইর সূচক কমেছে ৭৩ পয়েন্ট এবং সিএসইর সূচক কমেছে ২০৩ পয়েন্ট। এছাড়া উভয় শেয়ারবাজারেই এদিন লেনদেনও কমেছে। এ বড় দরপতনের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ পাওয়া যায়নি। তবে বাজার সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, মুদ্রানীতির কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তবে বাজারের আরেকটি পক্ষ বলছে, এটি যৌক্তিক নয়। কারণ মুদ্রানীতির সঙ্গে শেয়ারবাজারের খুব বেশি সম্পর্ক নেই। তাদের মতে, টানা ১ মাসের ঊর্ধ্বগতির পর এটি স্বাভাবিক মূল্যসংশোধন। অন্যদিকে পুরো সপ্তাহে লেনদেন ও মূল্যসূচক কমেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার ডিএসইতে ৩৪৬টি কোম্পানির ২৬ কোটি ৩ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৯৯২ কোটি টাকা। আগের দিনের চেয়ে যা ৩২ কোটি টাকা কম। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৮৪টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ২৩৬টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইর ব্রডসূচক আগের দিনের চেয়ে ৭৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮২১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সিএসই ৩০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ২৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩১০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে কমে ৪ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

সিএসই : চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ২৬৬টি কোম্পানির ১ কোটি ৩০ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৩৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ১৭৯টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ২০৩ পয়েন্ট কমে ১৭ হাজার ৮৯০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সিএসই ৩০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ২২৯ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৪০৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সিএসইর বাজারমূলধন আগের দিনের চেয়ে কমে ৩ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বুধবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর বৃহস্পতিবার ছিল প্রথম লেনদেন। ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে কেউ কেউ বলছেন, মুদ্রানীতিতে আগামী ৬ মাসের জন্য বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমানো হয়েছে। বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রানীতির সঙ্গে শেয়ারবাজারের খুব বেশি সম্পর্ক নেই। ২০১০ সালে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেছিলেন, ফটকা বাজারের লাগাম টেনে ধরা হবে। এরপর কয়েকদিন শেয়ারবাজারে টানা পতন হয়েছিল। এরপর থেকে মুদ্রনীতির সঙ্গে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের একটি মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। মুদ্রনীতি এলেই তারা শেয়ারবাজারের সম্পর্ক খোঁজেন।

গত সপ্তাহে ৫ দিনে ডিএসইতে ৫ হাজার ১৭১ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৩৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে ৫ দিনে ৪ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। প্রতিদিন গড়ে ৯৬৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। এ হিসাবে গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৩৪৪ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে যা ৭ দশমিক ১২ শতাংশ। আর প্রতিদিনের গড় লেনদেন কমেছে ৬৯ কোটি টাকা। তবে আলোচ্য সময়ে মূল্যসূচক ১২৯ পয়েন্ট এবং বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার কোটি টাকা। এদিকে সপ্তাহজুড়ে শীর্ষ দশ কোম্পানির ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ২০ শতাংশের বেশি। একক কোম্পানি হিসেবে গত সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ইউনাইটেড পাওয়ার। গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির ১৯৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১৬২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এরপর ধারাবাহিকভাবে গ্রামীণফোনের ১৩৩ কোটি, ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ১২৯ কোটি, ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের ৮২ কোটি, স্কয়ার ফার্মার ৭৮ কোটি, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স ৭২ কোটি, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল ৭১ কোটি, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স ৬৩ কোটি এবং বিবিএস ক্যাবলের ৬৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×