শহীদ মিনারে একুশের অনুষ্ঠানমালা শুরু

উচ্চ আদালতসহ সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলন দাবি

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলা ভাষা

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত অনুষ্ঠানের স্লোগান ‘একুশ আছে জয়োদ্ধত একুশ বাঁচে অবিরত’। শুক্রবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের চৌদ্দ দিনব্যাপী একুশের অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

উদ্বোধনী আয়োজনে গান, কবিতা, পথনাটক ও নৃত্য পরিবেশনার সঙ্গে উচ্চারিত হয়েছে উচ্চ আদালতসহ সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের দাবি। সেই সঙ্গে উঠে এসেছে শহীদ মিনারকে পূর্ণাঙ্গ নকশায় রূপান্তর এবং ভাষাসংগ্রামীদের একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের দাবি। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলবে একুশের অনুষ্ঠানমালা। এরপর ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠানটি স্থানান্তরিত হবে ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবরে।

ভাষাশহীদদের স্মরণ করে প্রতিদিন গাওয়া হবে গান, পাঠ করা হবে কবিতা। এছাড়াও পরিবেশিত হবে নৃত্য, শিশু-কিশোর পরিবেশনা এবং মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনসহ বহুমাত্রিক বিষয়ভিত্তিক পথনাটক।

বিকালে শহীদ মিনারের বেদিতে ভাষাশহীদদের স্মরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। জোট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানান কবি, আবৃত্তিশিল্পী, নাট্যকর্মীসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। এরপর পালন করা হয় এক মিনিটের নীরবতা। মৌনতা শেষে গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের শিল্পীদের কণ্ঠ ভেসে বেড়ায় ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানের সুর। জাতীয় সঙ্গীতের পর গীত হয় একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’।

গান শেষে পরিবেশিত হয় একুশের স্মৃতি নিবেদিত নাচ। ‘রক্ত শিমুল রক্ত পলাশ/দিলো ডাক সুনীল ভোরের’ গানের নাচ নৃত্য পরিবেশন করে স্পন্দনের শিল্পীরা। ভাষাশহীদদের নিবেদিত অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী। জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। উদ্বোধনী আলোচনায় অংশ নেন একুশে অনুষ্ঠান উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক নাট্যব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী। স্বরচিত একুশের কবিতা পাঠ করেন কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি তারিক সুজাত। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী আহ্্কাম উল্লাহ্্।

সর্বস্তরের বাংলা ভাষা চালু না হওয়ার ক্ষোভ ছিল কামাল লোহানীর উদ্বোধনী বক্তব্যে। তিনি বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রথম দাবি ছিল রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। দ্বিতীয় দাবিটি ছিল, সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন। তৃতীয় দাবিটি ছিল, সকল আঞ্চলিক ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। সেই চেতনাকে ধারণ করেই আজও বেঁচে আছি। অথচ আজ রাস্তাঘাটে বের হলে বাংলার বদলে ইংরেজি লেখা সাইনবোর্ড দেখে চরমভাবে হতাশ হতে হয়।

সভাপতির বক্তব্যে গোলাম কুদ্দুছ বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা প্রদান করা হয়। অথচ সেই সংবিধানকে লংঘন করে উচ্চ আদালতে ইংরেজিতে কার্যক্রম চলছে। একইভাবে উচ্চশিক্ষায়ও বাংলা ভাষার প্রবর্তন নেই। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অনুবাদের মাধ্যমে বাংলা ভাষা প্রচলনের উদ্যোগ নিতে হবে রাষ্ট্রকে। হীনম্মন্যতা পরিহার করে বাংলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। ‘ফাগুন দিন আঁকি’ শীর্ষক স্বরচিত একুশের কবিতা পাঠ করেন কবি তারিক সুজাত। আলোচনা শেষে ছিল গান, কবিতা ও পথনাটকে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×