রাজধানীর নামকরা ৪ স্কুল

অবশেষে কোচিংবাজ ৭২ শিক্ষককে শোকজ

আগে শোকজ করা হয় ২৫ জনকে * কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তারা

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোচিংবাজ হিসেবে চিহ্নিত রাজধানীর চার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭২ শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ রোববার এসংক্রান্ত নোটিশ জারি করে। কোচিং বন্ধ নীতিমালা- ২০১২ অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না- জবাব দিতে বলা হয়েছে নোটিশে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। তা না হলে মন্ত্রণালয় একতরফা ব্যবস্থা নেবে।

স্কুলগুলো হল- আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল মডেল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এর মধ্যে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩৬, মতিঝিল মডেল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৪, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ এবং রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান ও সুপারিশে ৭২ শিক্ষকের নাম উঠে এসেছে। এসব শিক্ষক ‘মহাকোচিংবাজ ও শিক্ষার্থীদের আতঙ্ক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। কোচিং না করলে তারা শিক্ষার্থীদের নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল, নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর ১১১ কোচিংবাজ শিক্ষককে চিহ্নিত করে দুদক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠায়। ১৮ অক্টোবর যুগান্তরে সেই তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকায় রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল, স্কুল ও কলেজের ৮৬ জন শিক্ষক ছিলেন। তবে রহস্যজনক কারণে ১৪ শিক্ষক শোকজ থেকে রক্ষা পেয়ে যান। এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) একটি সিন্ডিকেট নেপথ্যে কাজ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তালিকার ২৫ শিক্ষক সরকারি স্কুলের। তাদেরকে ৩০ জানুয়ারি শোকজ করে মাউশি। স্বল্প বেতনের চাকুরে হলেও কোচিংবাজ এসব শিক্ষক রাজধানীতে কোটি কোটি টাকার প্লট-ফ্ল্যাটের মালিক বনে গেছেন। অনেকে গ্রামের বাড়িতেও অনেক ভূ-সম্পত্তি এবং আলিশান বাড়ি গড়ে তুলেছেন বলে দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

১১১ কোচিংবাজ শিক্ষকের তালিকা : দুদকের অনুসন্ধানে যে ১১১ জন কোচিংবাজ শিক্ষক চিহ্নিত হয়েছেন তাদের মধ্যে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজেরই ৩৬ জন। তারা হলেন- নিজাম উদ্দিন কামাল (ইংরেজি), আবদুল মান্নান (রসায়ন), উম্মে ফাতিমা (বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়), মো. আজমল হোসেন (বাংলা), গোলাম মোস্তফা (গণিত), আশরাফুল আলম (রসায়ন), বাবু সুবাস চন্দ্র পোদ্দার (রসায়ন), লাভলী আখতার, তাসমিন নাহার, মতিনুর (ইংরেজি), উম্মে সালমা (ইংরেজি), আবদুল জলিল (ব্যবসায় শিক্ষা), মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন (রসায়ন), মনিরা জাহান (ইংরেজি), ফাহমিদা খানম পরী (গণিত), লুৎফুন নাহার (গণিত), হামিদা বেগম (গণিত), নাজনীন আক্তার (গণিত), তৌহিদুল ইসলাম (ইংরেজি), সুরাইয়া জান্নাত (ইংরেজি), সফিকুর রহমান-৩ (গণিত ও বিজ্ঞান), শফিকুর রহমান সোহাগ (গণিত ও বিজ্ঞান), নুরুল আমিন (গণিত), মনিরুল ইসলাম (ইংরেজি), রফিকুল ইসলাম (সমাজবিজ্ঞান), অহিদুজ্জামান (বাংলা), মাকসুদা বেগম মালা, আলী নেওয়াজ আলম করিম, আবুল কালাম আজাদ ও আবদুর রব এবং বনশ্রী শাখার মো. শফিকুল ইসলাম (ইংরেজি), মাহবুবুর রহমান (পদার্থবিজ্ঞান), মোয়াজ্জেম হোসেন (গণিত) ও আবদুল হালিম (গণিত)। আইডিয়ালের এসব কোচিংবাজ শিক্ষকের রক্ষক ও প্রশ্রয়দাতা হিসেবে ‘স’ আদ্যাক্ষরের একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক ও ‘শ’ আদ্যাক্ষরের একজন প্রধান শিক্ষক আছেন বলে দুদক ও গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এ দু’জনের মধ্যে শেষের জনের বিরুদ্ধে আমেরিকায় ছেলের কাছে টাকা পাচারের অভিযোগ আছে।

মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৪ জনের মধ্যে রয়েছেন- সহকারী প্রধান শিক্ষক এনামুল হক, মেজবাহুল ইসলাম (ইংরেজি), সুবীর কুমার সাহা (গণিত), সাইফুল ইসলাম, মোহনলাল ঢালী, বাসুদেব সমদ্দার, বকুল বেগম, আসাদ হোসেন (ইংরেজি), প্রদীপ কুমার বসাক, আবুল খায়ের, শারমীন খানম, কবীর আহমেদ, খ. ম. কবির আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন, মাও. কামরুল হাসান, রুহুল আমিন-২, কামরুজ্জামান, শেখ শহীদুল ইসলাম, শুকদেব ঢালী, হাসান মঞ্জুর হিলালী, আমান উল্লাহ আমান, হামিদুল হক খান, রমেশ চন্দ্র বিশ্বাস ও চন্দন রায়।

মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২ শিক্ষক রয়েছেন তালিকায়। তারা হলেন- প্রভাতি শাখার সহকারী শিক্ষক আবুল হোসেন মিয়া (ভৌতবিজ্ঞান), মোখতার আলম (ইংরেজি), মাইনুল হাসান ভূঁইয়া (গণিত), মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন (গণিত), মুহাম্মদ আফজালুর রহমান (ইংরেজি), ইমরান আলী (ইংরেজি), দিবা শাখার সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ কবীর চৌধুরী, এবিএম ছাইফুদ্দীন ইয়াহ, মিজানুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, জহিরুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক জামাল উদ্দিন বেপারি।

মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫ জনের নাম এসেছে তালিকায়। তারা হলেন- প্রভাতি শাখার সহকারী শিক্ষিকা নূরুন্নাহার সিদ্দিকা (সামাজিক বিজ্ঞান), দিবা শাখার সহকারী শিক্ষক শাহ মো. সাইফুর রহমান (গণিত), শাহ আলম (ইংরেজি), মোসা. নাছিমা আক্তার (ভূগোল)। খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের রয়েছেন একজন। তিনি হলেন সহকারী শিক্ষক নাছির উদ্দিন চৌধুরী। এ প্রতিষ্ঠানের আরও কিছু শিক্ষকের নাম যাচাই করা হচ্ছে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ জনকে শনাক্ত করেছে দুদক টিম। তাদের কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন- প্রভাতি শাখার সহকারী শিক্ষক কামরুন্নাহার চৌধুরী (ইংলিশ ভার্সন), ড. ফারহানা (পদার্থবিজ্ঞান), সুরাইয়া নাসরিন (ইংরেজি), লক্ষ্মী রানী, ফেরদৌসী ও নুশরাত জাহান।

এছাড়া মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ১৪ জনের নাম এসেছে কোচিং ব্যবসায়ীর তালিকায়। তারা হলেন- প্রভাতি শাখার সহকারী শিক্ষক যোবায়ের মাহমুদ (গণিত), নুরুদ্দিন (গণিত), মেহেদী হাসান (গণিত), শহীদুল ইসলাম (ইংরেজি), তুহিনুর রহমান (রসায়ন), ফেরদৌস হাসান (ইংরেজি), শামসুন্নাহার (বাংলা), মাছুদ আলম, (ইংরেজি), দিবা শাখার সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন (ইংরেজি), মোখলেছুর রহমান (গণিত), নূরুজ্জামান (রসায়ন), সাইফুল্লাহ (ইংরেজি), তাজুল ইসলাম (বাংলা) ও সহীদুর রহমান বিশ্বাস (ইংরেজি)। গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের ৮ জনের নাম এসেছে অনুসন্ধানে। তারা হলেন- শাহজাহান সিরাজ (গণিত), মোহাম্মদ ইসলাম (গণিত), জাকির হোসেন (গণিত), শাহজাহান (গণিত), আবদুল ওয়াদুদ খান (সামাজিক বিজ্ঞান), আলতাফ হোসেন খান (ইংরেজি), আযাদ রহমান (ইংরেজি) ও রণজিৎ কুমার শীল (গণিত)। আর রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ৫ জনের সম্পৃক্ততা মিলেছে। তারা হলেন- মইনুল ইসলাম (গণিত), আলী আকবর (গণিত), রেজাউর রহমান (গণিত), মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম (ইংরেজি) ও মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (রসায়ন)।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত