সংসদে রেলমন্ত্রী

আসছে দ্রুতগতির বুলেট ও ইলেকট্রিক ট্রেন

৫৭ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম

  সংসদ রিপোর্টার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসছে দ্রুতগতির বুলেট ও ইলেকট্রিক ট্রেন

দেশে প্রথমবারের মতো বুলেট ও ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। বুলেট ট্রেন চালু হলে মাত্র ৫৭ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে পারবেন যাত্রীরা।

এরইমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদে পৃথক দুটি প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামানের এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী সুজন জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম ভায়া কুমিল্লা/লাকসাম দ্রুত গতির রেলপথ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন’ শীর্ষক একটি সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ১৮ মার্চ সমীক্ষা প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। গত বছরের ৩১ মে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। বর্তমানে সমীক্ষাটি চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে মাত্র ৫৭ মিনিট এবং বিরতি দিয়ে ৬৯ মিনিটে যাওয়া সম্ভব হবে।

এছাড়া ঢাকা-খুলনা ও ঈশ্বরদী-রাজশাহী রুটে এবং জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ও জয়দেবপুর-টাঙ্গাইলে এলিভেটেড রেলওয়ে নির্মাণে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইলেকট্রিক ট্রেন রেলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, দেশে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর জন্য রেলওয়ের গৃহীত মহাপরিকল্পনার আওতায় টঙ্গী-চট্টগ্রাম সেকশনে ইলেকট্রিক ট্রাকশন প্রবর্তনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর, আখাউড়া-সিলেট, জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী-খুলনা এবং ঈশ্বরদী-পার্বতীপুর সেকশনে ইলেকট্রিক ট্রাকশন প্রবর্তনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দিদারুল আলমের অপর এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট এক লাখ আট হাজার ৬১৬ কোটি ব্যয়ে ৮১টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪টি প্রকল্প শেষ হয়েছে।

২০১৮-১৯ সালে আরএডিপিতে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ৪৫টি বিনিয়োগ ও তিনটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী বলেন, রেলওয়েকে যুগোপযোগী গণপরিবহনে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে।

২০ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি চারটি ফেজে ২০৩০ সালের জুনে শেষ হবে। এ জন্য দুই লাখ ৩৩ হাজার ৯৪৪ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৩৫টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ মাস্টারপ্ল্যানটি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং গত বছরের ২৯ জানুয়ারি তাতে সরকার অনুমোদন দিয়েছে।

নতুন অনুমোদিত এ মহাপরিকল্পনায় ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০৪৫ সালের জুন পর্যন্ত ছয়টি ফেজে বাস্তবায়নের জন্য ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ কোটি ব্যয়ে মোট ২৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২০২৫ সালে রেল যাবে পায়রা বন্দরে : আরেক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে।

এ ধারাবাহিকতায় বরিশাল জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্যে ভাঙা হতে বরিশাল হয়ে পায়রা সমুদ্র বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশদ নকশা প্রণয়নসহ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদন পায়।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গত বছরের ১৯ জুন তারিখে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে সমীক্ষা চলছে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৪০ শতাংশ।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষে প্রস্তাবিত অ্যালাইনমেন্ট ও বিশদ নকশা অনুযায়ী বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণ করে বরিশাল জেলাকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে এবং তা পায়রা বন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে।

২০২৫ সাল নাগাদ ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে বরিশালের পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপিত হবে বলে জানান রেলমন্ত্রী।

সব মহাসড়ক পর্যায়ক্রমে ২ থেকে ৪ লেনে উন্নীত করা হবে : দেশের সব মহাসড়ক পর্যায়ক্রমে দুই থেকে চার লেনে উন্নীতকরণসহ অপ্রশস্ত মহাসড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। শফিকুল ইসলাম শিমুলের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমান সরকার দেশের মহাসড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×