চারুকলায় মঙ্গল শোভাযাত্রার বর্ণিল প্রস্তুতি

  হক ফারুক আহমেদ ২৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসছে বাংলা নতুন বর্ষ ১৪২৬। প্রতিবছরের নিয়মে এবারও বাঙালি বরণ করে নেবে নতুন বাংলা বছরকে। বর্ষবরণের এই আয়োজনের অন্যতম অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। দেশ জাতির শান্তি সমৃদ্ধি তো বটেই, সারা বিশ্বের শান্তি ও মঙ্গল কামনায় যে শোভাযাত্রা তার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে প্রবেশ করতেই তা বুঝতে দেরি হবে না কারও। মাটির তৈরি সরা, মুখোশ তৈরি আর তাতে রংয়ের প্রলেপ দেয়া কাজটি শুরু হয়ে গেছে। সৃজন হচ্ছে চিত্রকর্ম। শুধু তাই নয়, শুরু হয়েছে এসবের বিক্রিও, যা বিক্রির টাকায় তৈরি হবে মঙ্গল শোভাযাত্রার বড় বড় শিল্পকর্ম।

২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর আমাদের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কোর মানবতার অধরা বা অস্পর্শনীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান লাভ করে। তাই মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রাথমিকভাবে স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছিল ‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে’। কিন্তু সেটি পরিবর্তন হবে। এ ব্যাপারে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, প্রাথমিকভাবে এই স্লোগানটি নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ঘটনা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে, আমাদেরকেও। সত্যিকারের আনন্দ ধারা তো বইছে না। এবারের স্লোগান নতুনভাবে আবার নির্ধারণ করা হবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তীতে কাজ করব আমরা। তবে সাধারণভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতির যে কাজগুলো থাকে সেগুলো চলমান আছে।

জানা গেছে, ১৯ মার্চ বর্ষবরণের কাজের উদ্ধোধন হয়। উদ্বোধন করেন বরেণ্য শিল্পী রফিকুন নবী। এবারের শোভাযাত্রার মঙ্গল শোভাযাত্রার সামগ্রিক কাজগুলো করছে ২১তম ব্যাচ। তবে চারুকলার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা মিলে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিল্পীদের অংশগ্রহণে চলছে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি। চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন মঙ্গল শোভাযাত্রার বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরিতে।

মূল প্রতিপাদ্য এখনও নির্ধারিত না হওয়ায় বড় শিল্পকর্ম কাঠামো আলাদাভাবে কী থাকছে সেটি নির্ধারণ না হলেও শোভাযাত্রায় পুরোভাগে মহিষ, পাখি ও ছানা, হাতি, মাছ ও বক, জাল ও জেলে, টেপাপুতুল, মা ও শিশু এবং গরুর শিল্পকাঠামো থাকবে বলে জানা গেছে। কাঠামো তৈরি শেষ হলে তাতে কাগজ জুড়ে রঙ দেয়ার কাজ শুরু করা হবে। তবে ইতিমধ্যেই মঙ্গল শোভাযাত্রার কাঠামোসহ নানা খরচের তহবিল গঠনের জন্য চিত্রকর্ম ও শিল্পকর্ম বিক্রি শুরু হয়েছে। এসব শিল্পকর্মের রয়েছে দামের ভিন্নতা। এর মধ্যে পেইন্টিং বিক্রি হচ্ছে হয় ৪-৫ হাজার টাকায়। কিছু পেইন্টিং আবার ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা। মাটির তৈরি সরা ৫০০-১০০০ টাকা, রাজা-রানীর মুখোশ (ম্যাশ) বড়টা (জোড়া) ৩০ হাজার, ছোটটা ১৫ হাজার, কাগজের মুখোশ ৫০০-১০০ টাকা, মঙ্গল প্রদীপ ১৫শ’ টাকা, পাখি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা, লকেট ১০০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এবারের আয়োজনের সমন্বয়ক আদিল হাসনাত বলেন, মাত্র কয়েকদিন আগেই ডাকসু নির্বাচন হয়ে গেল। আমরা প্রস্তুতিমূলক কাজের শুরু করেছি।

শিল্পকর্ম বিক্রি করে ফান্ড তৈরি করা হয়। এছাড়াও বর্ষবরণের এক সপ্তাহ আগে চারুকলাতে অনুষ্ঠিত হবে আর্টক্যাম্প। সেখানে বরেণ্য শিল্পীরা ছবি আঁকবেন। সেসব শিল্পকর্ম বিক্রি অর্থ দিয়েও মঙ্গল শোভাযাত্রার ব্যয় বহন করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×