খেলাপি ঋণ পরিশোধের সুযোগ

সুদহার ‘৭’ থেকে ‘৯’ করলেন অর্থমন্ত্রী

আগামী বাজেটে ১ টাকাও কর বাড়ানো হবে না, তবে করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো হবে

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সুদহার ‘৭’ থেকে ‘৯’ করলেন অর্থমন্ত্রী

সাত শতাংশ সরল সুদে খেলাপি ঋণ পরিশোধের যে সুযোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, তাতে কিছুটা পরিবর্তন এনেছেন তিনি।

মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই সুদের হার ৯ শতাংশে সংশোধন করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এর আগে ৭ পানসেন্ট ছিল, এটা এখন ফাইনালি ৯ পারসেন্ট করা হয়েছে। ৯ হল বেঞ্চমার্ক, এখন কেউ আপত্তি করবে না। ৭ কম ছিল, এখন ৯ করে দিয়েছি।’

যারা ব্যাংক থেকে ধার করে টাকা শোধ করেননি, তাদের ঋণখেলাপি তকমা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এ সুযোগ দেয়ার কথা ক’দিন আগেই জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।

এই সুযোগ নিয়ে যারা ঋণ শোধ করতে না পারার ‘যৌক্তিক’ কারণ ব্যাখ্যা করতে পারবেন, তাদেরকে মোট ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে ১২ বছরে ওই টাকা পরিশোধের সুযোগ দেয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ভালো ঋণগ্রহীতা, চেষ্টা করছেন দেয়ার জন্য, তাদেরকে আমরা রিলিফ দিচ্ছি। রিলিফটি হল তারা ২ পারসেন্ট ডাউন পেমেন্ট দিয়ে আর সরল সুদে ৯ পারসেন্ট হারে এই টাকার সুদ দিতে হবে।’

সুদের হার ৯ শতাংশ হলে ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতা উভয়ই লাভবান হবেন বলে মনে করেন মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এবার সবাই লাভবান হবে। ব্যাংকও লাভবান হবে, ব্যাংকের কস্ট অব ফান্ড যা আছে সেটাও রিকভার করতে পারবে। আর যারা টাকা দিচ্ছেন, তারাও সুন্দরভাবে টাকা দিতে পারবেন।’

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল পুঁজিবাজার শক্তিশালী করতে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেয়ার আশ্বাসও দেন। তিনি বলেন, ‘দেশের পুঁজিবাজার শক্তিশালী না হওয়ার কারণ আমার পুরোপুরি জানা নেই। হতে পারে যে কাজগুলো করা দরকার, তা আমরা করতে পারছি না; হতে পারে দেশের বাজারের খেলোয়াড়রা সুশিক্ষিত নন।’ পুঁজিবাজারকে আর্থিক ও রাজস্ব দু’ধরনেরই সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারের সঙ্গে প্রতি মাসে একবার বৈঠক করা হবে। ইউনিভার্সিটির মতো ক্লাস হবে। অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব পুঁজিবাজার বিষয়ক এই ক্লাস নেবেন।’

পুঁজিবাজার শক্তিশালী করতে সরকারি কোম্পানিগুলোর শেয়ার ছাড়ার কথা বলেন মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক মৌলভিত্তি শক্তিশালী হলে বাজারও শক্তিশালী হবে, যদিও এখনকার বাজার স্থিতিশীল আছে। হইচই হচ্ছে না।’ আগামী অর্থবছরের বাজেট এবারের চেয়ে ৮০-৯০ হাজার কোটি টাকা বেশি হবে বলে আভাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। প্রথমবারের মতো জাতীয় বাজেট দিতে যাওয়া মুস্তফা কামাল এই অর্থ জোগানে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে হবে, কারণ চাহিদা বেশি। এনবিআর ও নন-এনবিআর মিলিয়ে কত আদায় হয় দেখব।’

তবে কর না বাড়ানোর আশ্বাস দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এক টাকাও কর বাড়ানো হবে না। তবে করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো হবে। করের আওতা বাড়ানোর অনেক সুযোগ রয়েছে। সে সুযোগগুলো আমরা কাজে লাগাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী বাজেটে একটা স্বচ্ছ নীতি উপহার দেয়া হবে, যাতে বিদেশিরাও জানতে পারেন আমাদের আইন-কানুনগুলো কী কী।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×