একাদশ শ্রেণীতে মিনিটে ভর্তির আবেদন ১৩৭টি

কারিগরি বোর্ডের ভর্তি কমিটিতে বেসরকারি পলিটেকনিকের মালিকপক্ষের লোক! * বিস্তারিত ভর্তি নির্দেশিকা ও নীতিমালা ওয়েবসাইটে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৩ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভর্তি

কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার রাত দেড়টা থেকে শিক্ষার্থীরা অনলাইন এবং এসএমএসে একযোগে আবেদন করতে পারছে। রোববার বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত প্রথম ১৬ ঘণ্টায় আবেদন পড়েছে এক লাখ ৩৭ হাজার। সেই হিসাবে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৩৭ শিক্ষার্থীর আবেদন পড়েছে।

এদিন একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিভিন্ন সরকারি পলিটেকনিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আবেদন নেয়া শুরু হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানেও আবেদন নেয়া শুরু হয় শনিবার রাত ১২টার পর। প্রথম ১৮ ঘণ্টায় দুই শিফটে আবেদন পড়েছে চার হাজার ৪৯৪টি। একই সঙ্গে বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে আবেদন নেয়ার কথা। কিন্তু রোববার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখাকালে তা শুরু করতে পারেনি এ আবেদন কার্যক্রমে কারিগরি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বুয়েট।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীদের জিম্মি করা এবং ভুয়া আবেদন ঠেকাতে এবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আবেদনের সঙ্গে বাবা অথবা মায়ের এনআইডি নম্বর দিতে হচ্ছে।

আবেদনের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভর্তিতে কারিগরি সহায়তা দানকারী প্রতিষ্ঠান বুয়েট গত ৫টি ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তারা আবেদনে এ জটিলতার বিষয়টি জানার পরও আগেভাগে ব্যবস্থা না নিয়ে নির্লিপ্ত থেকেছে। ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, ভর্তিতে আগে টাকা জমা নেয়া হচ্ছে। টাকা জমা দেয়াকালে শিক্ষার্থী এসএমএসে যে তথ্য সরবরাহ করে, তার সঙ্গে বোর্ডের বা বুয়েটের সার্ভারে সংরক্ষিত তথ্যও যাচাই করতে হয়।

এরপর ফিরতি এসএমএস যায়। তা ছাড়া একসঙ্গে প্রচুর শিক্ষার্থী আবেদন করছে। এসব প্রক্রিয়ায় আবেদন কাজ শেষ করতে শিক্ষার্থীর কিছুটা সময় লাগছে।

এবার পঞ্চমবারের মতো অনলাইন ও এসএমএসে আবেদন নিচ্ছে সরকার। রোববার দুপুরে আবেদন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এ সময় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম ছায়েফউল্যাসহ বুয়েটের অধ্যাপক এবং টেলিটকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভর্তির জন্য এবারও (www.xiclassadmission.gov.bd) শীর্ষক ওয়েবসাইটে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে ভর্তির নির্দেশিকা দেয়া আছে।

ভর্তিসংক্রান্ত সব তথ্য, সময়সূচি, ভর্তি নির্দেশিকা, আবেদনের নিয়মাবলীও উল্লিখিত ওয়েবসাইটে এবং ১০টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও জানা যাচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এবার একাদশ শ্রেণীর সব আসনেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে মেধায়। কোটার আবেদন প্রতিষ্ঠানের মোট আসনের বাইরে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।

কমিটিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক রাখায় ক্ষোভ : দেশের সব পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, ইন্সটিটিউট অব গ্লাস অ্যান্ড সিরামিকস, গ্রাফিক্স আর্টস ইন্সটিটিউট, ফেনী কম্পিউটার ইন্সটিটিউট, বিভিন্ন সার্ভে ইন্সটিটিউট, ভোকেশনাল টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট এবং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিপ্লোমা ইন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রমও শনিবার রাত ১২টায় শুরু হয়েছে। একটানা ৮ জুন পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। ফল প্রকাশ করা হবে ১৫ জুন।

রোববার কারিগরি বোর্ডে সরেজমিন গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা যায়। অন্যান্য বছরের মতো এবারও ভর্তি কার্যক্রমে মিরপুরের আইডিয়াল ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (আইআইএসটি) মালিকপক্ষের একজন শেখ আবু রেজাকে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে এ নিয়ে নানা অভিযোগ জানাচ্ছেন।

তাদের একজনের অভিযোগ, কমিটিতে থাকার সুবাদে ওই ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান ভর্তিচ্ছুদের সবধরনের তথ্য আগাম পেয়ে যায়। এ কারণে সরকারি পলিটিকেনিক ইন্সটিটিউটে ভর্তি শেষ হওয়ার আগেই ছাত্রছাত্রীদের নানা প্রলুব্ধকর তথ্য দিয়ে ওই ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান থেকে ফোন ও এসএমএস করা হয়।

শুধু তাই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানকে নানাভাবে অসহযোগিতা করারও অভিযোগ আছে। আরেকজন অভিযোগ করেন, তার প্রতিষ্ঠানে গত বছর ভর্তি হওয়া ৩১ শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন রোববার পর্যন্ত দেয়া হয়নি। ওইসব শিক্ষার্থীকে আইআইএসটি থেকে ভর্তির জন্য ফোন করা হয়েছিল। তারা ভর্তি হয়নি বলে এমনটি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখাও (কারিকুলাম) রহস্যজনক কারণে নীরব আছে বলে অভিযোগ।

শেখ আবু রেজা যুগান্তরকে বলেন, আইআইএসটির মালিক হলেন তার ছোট ভাই, তিনি নন। ভর্তিসংক্রান্ত কাজে তিনি কেবল নীতিনির্ধারণী দিক দেখভাল করেন। আবেদনকারীর তথ্য তার কাছে থাকে না। সুতরাং কাউকে ভর্তির জন্য ফোন করার অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, ভর্তিসংক্রান্ত জটিলতার কারণে একটি প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশনের যে সমস্যা হয়েছে তাতে তার কোনো হাত নেই। বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোরাদ হোসেন মোল্লা বলেন, কয়েক দিন আগে তিনি যোগদান করেছেন।

ফলে গত বছরের ভর্তির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। ভর্তি কমিটিতে বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের কোনো সদস্য থাকায় তা যদি হার্মফুল (ক্ষতিকর) হয় তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×