না’গঞ্জে মাজেদ হত্যা

কললিস্টে নৌকার মাঝির নম্বরেই মিলল খুনের ক্লু

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ১৫ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নৌকার মাঝি

এ বছরের ১০ মার্চ নিখোঁজ হন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকার ভাড়াটিয়া মাজেদ আলী। স্বামীর খোঁজে স্ত্রী নাজমা বেগম ১২ মার্চ ফতুল্লা মডেল থানায় জিডি করেন। পরদিন ১৩ মার্চ র‌্যাব-১১’র কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি লিখিত আবেদন করেন। এরপর তদন্তে নামে র‌্যাব। কিন্তু কোনো ক্লুই মিলছিল না।

৮ এপ্রিল প্রধান অভিযুক্ত আদম ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন বুলুকে (৪২) গ্রেফতার করা হলেও কোনো কূলকিনারা হচ্ছিল না। তখনই বুলুর কললিস্টে দাউদকান্দির এক নৌকার মাঝির নম্বর মিলল। কুমিল্লার গোমতী নদীর চরাঞ্চলের ছোটো ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে ওই মাঝি কেন এসেছিল মেঘনায়- এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রায় দুই মাস পর ১০ মে ওই মাঝিকে গ্রেফতারের পরই মিলল মাজেদ আলীর খুনের রহস্য।

নৌকার মাঝি সোহেল (২১) সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়, তাতে উঠে আসে কিভাবে খুন করা হয় মাজেদকে। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে হাজির করা হয় গ্রেফতার আদম ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন বুলু, নৌকার মাঝি সোহেল ও ভাড়াটে খুনি সুলতান মাহমুদ বাবু ওরফে জামাই বাবুকে। র‌্যাব-১১’র কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল কাজী শমসের উদ্দিন বলেন, মূলত বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মহিউদ্দিন বুলুকে দেয়া ২ লাখ টাকার জন্যই খুন হন মাজেদ আলী।

নাজমা বেগম যুগান্তরকে জানান, কয়েক মাস আগে পরিচয় হয় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার গোয়াগাছিয়ার মহিউদ্দিন বুলুর সঙ্গে। নাজমা তার স্বামীকে বিদেশে পাঠাতে সাহায্য চাইলে মাজেদ আলীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেয় বুলু। এরপর তাদের ফতুল্লার লামাপাড়ায় বাসাও ভাড়া করে দেন। কিন্তু বিদেশ পাঠানোর বিষয়ে কালক্ষেপণ শুরু করেন। ১০ মার্চ বিকালে বুলু ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে মাজেদকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। রাতে বুলু ফিরে এলেও মাজেদ আলী আর আসেনি।

মাজেদ আলীর কথা জিজ্ঞাসা করলে বুলু জানায়, তার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে, একপর্যায়ে মাজেদ তার হাতের আঙ্গুলে কামড় দেয়। নাজমা বুলুকে নিয়ে একটি ফার্মেসিতে চিকিৎসাও করায়। কিন্তু ওই রাতেই বুলু পালিয়ে যায় এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন জানান, ৮ এপ্রিল ফতুলার শিবু মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর বুলু বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে থাকে। পরে তার কললিস্টে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকার সোহেল নামের এক নৌকার মাঝির নাম পাই। ১০ মে দাউদকান্দি বাজার ঘাট থেকে সোহেলকে গ্রেফতার করি। সোহেলের নৌকাটি চরাঞ্চলে চলাচল করলেও সেটি মেঘনা নদীতে চলাচলের উপযোগী ছিল না- এ বিষয়ে আমাদের সন্দেহ হলে অনুসন্ধানে দেখি মাজেদ আলী নিখোঁজের দিন মাঝি সোহেলের মোবাইলটিও সেখানে অ্যাকটিভ ছিল।

পরে সোহেল জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সুলতান মাহমুদ বাবু গত ১০ মার্চ সকালে ১ হাজার টাকা ভাড়ায় সারাদিনের জন্য সোহেলের নৌকাটি ভাড়া করে। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বুলু ও মাজেদ নৌকায় উঠে। সন্ধ্যায় অন্ধকার নেমে এলে মাজেদকে নৌকার ছাউনির ভিতর নিয়ে বুলু ও বাবু কিল ঘুষি দিয়ে পাটাতনে শুইয়ে ফেলে। বুলু মাজেদের বুকের ওপর বসে এবং বাবু মাজেদের পায়ের ওপর বসে পা চেপে ধরে।

মাজেদ বাঁচাও, বাঁচাও চিৎকার করলে বুলু সোহেলকে ইঞ্জিনের শব্দ বাড়িয়ে দিতে বলে, যাতে কেউ শুনতে না পায়। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে বুলু ও বাবু নির্যাতন করে, গলাটিপে ও নাক-মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মাজেদকে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ মেঘনায় ফেলে দেয়। এরপর মঙ্গলবার গজারিয়ার গোয়াগাটিয়ার শিমুলিয়া এলাকার নিজ বাড়ি হতে সুলতান মাহমুদ বাবুকে গ্রেফতারের পর সে জানায়, মহিউদ্দিন বুলু একজনকে মারার জন্য এক লাখ টাকায় ভাড়া করেছিল তাকে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×