দেশি শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় সম্পূরক শুল্ক কাঠামোতে পরিবর্তন আসছে না

প্রকাশ : ২৪ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

দেশি শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সম্পূরক শুল্ক কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। আগের কাঠামোই বহাল রাখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ও ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সপ্তাহে আসন্ন বাজেট নিয়ে এনবিআর কর্মকর্তা ও বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তিন দফা বৈঠক করেছেন। এতে অর্থমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এমনভাবে বাজেট প্রণয়ন করতে হবে, যাতে কোথাও কোনো রকম করের বোঝা না বাড়ে। বাজেটের প্রভাবে যাতে কোনো ক্রমেই সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার না হয়।’

জানা গেছে, পুরাতন ভ্যাট আইনে ১ হাজার ৪৫১টি পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক আরোপিত রয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরের কথা রয়েছে। বিদেশি দাতা সংস্থার পরামর্শে শুরুতে সম্পূরক শুল্ক আরোপিত পণ্যের সংখ্যা ব্যাপক হারে কমিয়ে ২৫৬ট করার কথা ছিল। অর্থাৎ ১ হাজার ১৯৬টি পণ্যের ওপর কোনো সম্পূরক শুল্ক উঠে যেত। কিন্তু পরবর্তীতে দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের আপত্তির মুখে ২০১৭ সালে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের সময় সম্পূরক শুল্কের নতুন তফসিল জারি করা হয়। সেখানে সম্পূরক শুল্ক আরোপিত পণ্য সংখ্যা বাড়ানো হয়।

দেশের উদ্যোক্তারা বলছেন, ঢালাওভাবে সম্পূরক শুল্ক হ্রাস করা হলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আরোপিত সম্পূরক শুল্কের বেশির ভাগই রয়েছে আমদানি পণ্যের ওপর। এগুলোর ওপর থেকে সম্পূরক শুল্ক তুলে নেয়া হলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সম্পূরক শুল্ক দিয়ে যেসব পণ্য আমদানি হয় সেগুলোর খরচ বেশি পড়ে। অপরদিকে একই পণ্য যেগুলো দেশে উৎপাদিত হয়, সেগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকে। ফলে দেশীয় পণ্য বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে। এজন্য ব্যবসায়ীরা সম্পূরক শুল্ক আগের হার বহাল রাখার সুপারিশ করেছেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল আইএমএফের শর্ত ছিল- নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে সম্পূরক শুল্ক তুলে দিতে হবে। কিন্তু সরকার দেশীয় শিল্পের স্বার্থে এ শর্তটি বাস্তবায়ন করছে না। এ বিষয়টি ইতিমধ্যে আইএমএফকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আগে বিভিন্ন পণ্যের ওপর ১১টি স্তরে সম্পূরক শুল্ক আরোপিত ছিল। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এটি ৮টি স্তরে নামিয়ে আনা হয়। এগুলো হল- ২৫, ৫০, ১০০, ১৫০, ২০০, ২৫০, ৩৫০ ও ৫০০। উচ্চ মাত্রার শুল্ক বিশেষ করে বিলাসী পণ্য যেমন- মদ, গাড়ি আমদানিতে আরোপিত রয়েছে।