বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের আরও উন্নয়ন হবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৪ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি পুনরায় সরকার গঠন করলে বাংলাদেশের আরও উন্নয়ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, ভারতে স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করলে, শক্তিশালী সরকার গঠিত হলে এবং দু’দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলে তিস্তা চুক্তি হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ওই সময় ভারতের ফল প্রকাশ কার্যক্রম চলছিল।

মন্ত্রী এর আগে চায়না ম্যানুফ্যাকচারার অ্যাসোসিয়েশন অব হংকংয়ের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান মন্ত্রী। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তাদের ব্রিফিং করে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা।

ভারতের নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির জয়ের পথে- এ তথ্য জানানোর পর আবদুল মোমেন বলেন, এটা আরও খুশির খবর। ব্যক্তিগতভাবে বলি, মন্ত্রী হওয়ার পর যখন প্রথম ভারতে গেলাম তখন নরেন্দ্র মোদি ও সুষমা স্বরাজ যেভাবে গ্রহণ করেছেন তাতে আমি খুশি। আশা করি, তারা (বিজেপি) সরকারে এলে আমাদের অবস্থার আরও উন্নয়ন হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রথমেই নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। উনি ক্ষমতায় এলে তাকেও আমরা অভিনন্দন জানাব।

টানা দ্বিতীয় মেয়াদে বিজেপি সরকারের সময়ে তিস্তা চুক্তি হবে কি না, এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বন্ধুত্ব থাকলে, সুসম্পর্ক থাকলে সবকিছু হবে। ভারত আমাদের বন্ধু, ভারতের সরকার আমাদের বন্ধু, ভারতের জনগণ আমাদের বন্ধু। শক্তিশালী সরকার থাকলে আমাদের সব হবে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবেশী সব কটি রাষ্ট্র স্থিতিশীল থাকলে সেই দেশগুলোর সরকার শক্তিশালী থাকবে। এতে আমরাও লাভবান। আমরা উন্নয়নের মহাসড়ক পাড়ি দিচ্ছি। ভারতে বিজেপি এলে ওই দলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো, অন্য যেই আসুক সেই দলগুলোর সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক ভালো। যদি কংগ্রেসের কথা বলে, সেই দলের সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক ভালো। চায়না ম্যানুফ্যাকচারের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগে কী কী সুযোগ-সুবিধা রয়েছে সেই তথ্যগুলো তাদের জানিয়েছি। বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছি। স্বচ্ছতার অভাব ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিদেশি বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সব দেশে এসব সমস্যা থাকে। গত বছর ১৫ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। সারা দুনিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। আর বাংলাদেশে বিরাট আকারে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। আমাদের কিছু দুর্বলতা আছে। এসব দুর্বলতা কমিয়ে আনতে আমরা চেষ্টা করছি।

এর আগে চায়না ম্যানুফ্যাকচারের প্রতিনিধি দলকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অগগ্রতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০০টি ইকোনমিক জোন রয়েছে। সেখানে ওয়ানস্টপ সার্ভিস দেয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। কম বেতনে বিপুল সংখ্যক জনশক্তি এ দেশে রয়েছে। পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন প্রকল্পে চীনের প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তিনি প্রতিনিধি দলকে আইসিটি, শিপ বিল্ডিং, লেদারসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি (বিডা), বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথোরিটি (বেপজা), হাইটেক পার্ক অথোরিটিসহ বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা ও বিনিয়োগের বিভিন্ন ক্ষেত্র তুলে ধরে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করে। পরে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের বিনিয়োগের পরিবেশ দেখার জন্য এসেছে। তারা সুনির্দিষ্ট কোনো খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আসেনি। তবে তাদের এ দেশে বিনিয়োগের আগ্রহ রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×