বায়তুল মোকাররম মার্কেট

স্ত্রীর দোকান বড় করতে পিলার সরিয়েছেন আ’লীগ নেতা

তদন্ত প্রতিবেদনের ৩ মাস পরও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের গুরুত্বপূর্ণ পিলার রাতের আঁধারে ভেঙে অপসারণ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা। স্ত্রীর মালিকানাধীন দোকান বড় করতেই তিনি ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটির ভার বহনকারী মূল দুটি পিলারের একটি এবং এর সঙ্গে যুক্ত ১৫ ফুট দেয়াল ভেঙে সরিয়ে ফেলেছেন। আওয়ামী লীগ নেতার নাম মো. সোহরাব হোসেন গাজী। তিনি বায়তুল মোকাররম ইউনিট সভাপতি। তার স্ত্রীর নাম শায়লা আক্তার। এ নিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়; গঠন করা হয় একাধিক তদন্ত কমিটি। তদন্তে বিষয়টির সত্যতা মিলেছে। তারপরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের বিরুদ্ধে। তবে ডিজি আফজাল অভিযোগ অস্বীকার করে শনিবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন। গণপূর্তের প্রকোশলী দিয়ে আমরা তদন্ত করেছি। নিজেরাও তদন্ত করেছি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। বায়তুল মোকাররমের পিলার ভাঙার ঘটনায় গত বছরের ৮ নভেম্বর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের পিডি মো. শফিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ১৪ নভেম্বর ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পায়। কমিটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়।

কমিটির সুপারিশে বলা হয়, পিলারটি অপসারণের ফলে মূল মসজিদ ভবনের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ভাড়াটিয়ার এহেন কার্যকলাপ চুক্তিপত্রের ১৫ এবং ৩৪-এর মারাত্মক লঙ্ঘন। চুক্তির শর্তভঙ্গের কারণে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রয়োজনে ওই দোকানের বরাদ্দ বাতিল করা যেতে পারে।

তবে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র যুগান্তরের কাছে অভিযোগ করেছে, এ ঘটনা ঘটেছে ২০১৮ সালের অক্টোবরে। তদন্ত কমিটি সুপারিশ দিয়েছে ফেব্রুয়ারিতে। দোষী প্রমাণিত হওয়ারও প্রায় ৩ মাস পার হয়েছে। এখনও বহালতবিয়তে রয়েছেন অভিযুক্তরা। অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্তরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্তাব্যক্তিকে ম্যানেজ করেছে। এ কারণে তদন্ত কমিটির সুপারিশ থাকলেও দোকানের বরাদ্দ বাতিল করা হচ্ছে না। অভিযুক্তরা তদন্ত কমিটির সদস্যদের নানাভাবে হয়রানি করছে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইফার ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজাল বলেন, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হতে সময় লেগেছে। শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

একই কথা বলেছেন ইসনলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন তার দোকানের বরাদ্দ বাতিল করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তাকে উচ্ছেদ করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল স্বাক্ষরিত যে প্রতিবেদনটি ধর্ম মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে- গত বছরের ১৬ অক্টোবর মধ্যরাতে বায়তুল মোকাররম মসজিদ-মার্কেট কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনকালে নৈশপ্রহরীরা ইলেকট্রনিক্স মার্কেটে বিকট শব্দ পেয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু সব গেট ভেতর থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান তারা। অনেক অনুরোধ করলেও ব্যবসায়ীদের নিয়োগ করা গার্ডরা ভেতর থেকে তালা খোলেননি। সকালে খোঁজ নিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, বায়তুল মোকাররমের অভ্যন্তরে অবস্থিত মসজিদ ভবনের মূল লোড বহনকারী একটি পিলার অপসারণ করে নিউ সুপার মার্কেটের এইচ-৬ নম্বর দোকানের আয়তন বড় করা হয়েছে। রাতের আঁধারে নিয়মবহির্ভূতভাবে দোকানটির ছাদে প্লাস্টার ও চুনকাম করা হয়েছে; ফ্লোরে বসানো হয়েছে টাইলস। এ বিষয়ে ২৪ অক্টোবর পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও মার্কেটের সিকিউরিটি সুপারভাইজার মো. নুরুল হক। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দোকানটির ভেতরে ২৪ দশমিক ৭৭ বর্গফুট ব্যাসের একটি লোড বিয়ারিং পিলার ছিল। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পিলারটি অপসারণ করা হয়। এ পিলারের সঙ্গে সংযুক্ত ১৫ ফুট লোড বিয়ারিং দেয়ালটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। যে পিলারটি ভেঙে ফেলা হয়েছে এটির সমান্তরালে উত্তর পাশে আরেকটি পিলার রয়েছে। মূলত এ দুটি পিলারের ওপরই মসজিদ ভবনটির লোড পড়েছে। পিলার ও দেয়াল অপসারণের ফলে মূল মসজিদ ভবনের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা।

তদন্ত কমিটির সদস্য এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক (মসজিদ ও মার্কেট বিভাগ) মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, পিলার ভেঙে অপসারণের বিষয়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে প্রমাণ মিলেছে সুপার মার্কেট নিউ’র দোকান নম্বর এইচ-৬ এর অভ্যন্তরে যে লোড বিয়ারিং পিলার ছিল, সেটি রাতের বেলা অবৈধভাবে অপসারণ করেছেন দোকানসংশ্লিষ্টরা। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, পিলার ভাঙার অভিযোগে অভিযুক্ত সোহরাব হোসেন গাজী বায়তুল মোকাররম মার্কেট ইউনিটের আওয়ামী লীগ নেতা। তার স্ত্রীর নামে কেনা দোকানের এ কাণ্ড। দোকানের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে ৩টি দোকান ভেঙে ৫টি দোকান করেছে; যা অবৈধ। এ নেতা ভুয়া প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে সোনালী ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×