সোহেল তাজের ভাগ্নেকে অপহরণের দাবি পরিবারের

এক সপ্তাহেও সন্ধান মেলেনি

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে চাকরির সিভি জমা দিতে গিয়ে নিখোঁজ তরুণ সৈয়দ ইফতেখার আলম ওরফে সৌরভের খোঁজ এক সপ্তাহেও মেলেনি। পরিবারের দাবি তাকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করানো হয়েছে। সৌরভ সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের ভাগ্নে। সৌরভের পরিবার চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা। সৌরভ ব্র্যাক ও ইউনিসেফের ডুকুমেন্টধারী জনসচেতনতামূলক শর্টফ্লিম বানাতেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাসেম ভূঁইয়া জানান, সৌরভ নিখোঁজের ঘটনায় তদন্ত হচ্ছে। প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। প্রেমঘটিত কারণে নিখোঁজ হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সৌরভের স্বজনরা জানান, ৯ জুন চাকরির সিভি জমা দিতে গিয়ে নগরীর আফমি প্লাজার সামনে থেকে নিখোঁজ হয় সৌরভ। তাকে একটি কালো রঙের প্রাডো জিপে তুলে অপহরণ করা হয় বলে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ থেকে স্বজনরা জানতে পারে। ঘটনার পরদিন সৌরভের বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ ইদ্রিস আলম পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তিনি জানান, তার ছেলে লেখাপড়া করত, পলিটিক্স করত না। তার কোনো ব্যবসা-বাণিজ্যও নেই। তিনি আরও জানান, সওদা নামে একটি মেয়ের সঙ্গে সৌরভের সম্পর্ক ছিল। মেয়েটির বাপের বাড়ি চট্টগ্রামে এবং মায়ের বাড়ি বরিশাল। তারা ঢাকায় থাকতেন।

ইদ্রিস আলম বলেন, এর আগেও সৌরভকে প্রাণে মেরে ফেলবে, গুণ্ডা পাঠিয়ে নিয়ে যাবে, গুম করে ফেলবে- এ ধরনের নানা হুমকি-ধমকি দিয়েছিলেন ওই মেয়ের বাবা। গত ৭ এপ্রিল রাতে তিনি বাসায় লোক পাঠিয়ে সৌরভকে শাসিয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। ওই মেয়ের বাবা ৬ মাস ধরে সৌরভকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারাও হুমকি দিয়েছেন। র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে ডেকে নিয়ে মোবাইলের সিম পরিবর্তন করতে এবং ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার জন্য বলেন সেখানের কর্মকর্তারা। এর দু’দিন পর ঢাকার বনানী থানায় সৌরভকে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ওসি। পরে একটি ভুয়া স্টেটমেন্ট নিয়ে তাকে ছেড়ে দেন। ওসির কথা মতো স্টেটমেন্ট না দিলে অস্ত্র কিংবা ইয়াবা মামলায় আসামি করার ভয় দেখানো হয়। গুণ্ডা-মাস্তান দিয়েও সৌরভকে দেয়া হচ্ছিল অনবরত হুমকি-ধমকি।