সরু ব্রিজে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল
jugantor
সরু ব্রিজে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল
সিরাজদিখানের মালপদিয়া মালখানগর সড়ক

  সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি  

১৮ জুন ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিরাজদিখানের মালপদিয়া-মালখানগর সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ দুটি ব্রিজ দিয়ে প্রতিনিয়ত চলছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনসহ অধিবাসীরা।

মধ্যপাড়া ৭ ও ০২ নম্বর ওয়ার্ডের মালপদিয়া ও মালখানগর গ্রামে অবস্থিত ওই দুটি সেতু দিয়ে প্রতিদিন পণ্য ও যাত্রীবাহী বিভিন্ন যানবাহনসহ কয়েকটি গ্রামের হাজারও মানুষ চলাচল করেন।

বিকল্প রাস্তা না থাকায় এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি না থাকায় বাসিন্দারা এ বিষয়ে নানা প্রশ্নও তুলছেন। পুরাতন ঢালাই ভেঙে পড়া সেতুর ওপর কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়ে নির্মাণ করা ও চলাচলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত এই দুই সরু সেতুর ওপর দিয়ে অসংখ্য ভারি যানবাহন চলাচল করছে। ফলে যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এছাড়াও ব্রিজ দুুটি সরু হওয়ায় দুই দিক থেকে ছেড়ে আসা যানবাহন ও পথচারীদের পারাপারের সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় সাত বছর ধরে ব্রিজ দুটি বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। জরুরি ভিত্তিতে এগুলো মেরামত করা না হলে যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে। অন্যদিকে ব্রিজ দু’টি ভেঙে নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন যানবাহনের চালকসহ এলাকাবাসী। সরেজমিন দেখা গেছে, এলজিইডি বিভাগ নির্মিত এ দুটি ব্রিজের উভয় পাশের গার্ডারে বেশ কয়েক বছর ধরেই মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। মালপদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের রাস্তার সেতুর দুই পাশের রেলিংগুলো ভেঙে গেছে, এমনকি একপাশের রেলিং একবারেই নেই। শুধু রডগুলো কোনো মতে ঝুলে আছে। আরেক পাশেরও অর্ধেক রেলিং নেই। হালকা-ভারি কোনো যান উঠলেই সেতু দুটি কাঁপতে থাকে। বেশ কয়েক বছর ধরেই সেতুগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ। এ অবস্থার মধ্যেও বাধ্য হয়ে হাজারও এলাকাবাসীসহ হালকা-ভারি যানবাহন চলাচল করছে ওই সেতু দুটি দিয়ে। আরও দেখা গেছে, মরণফাঁদে পরিণত হওয়া ব্রিজ দু’টির ওপর দিয়ে প্রতিনিয়তই চলছে লরি, মালবাহী ট্রাক ও নসিমন-করিমন, সিএনজি, লেগুনাসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় যানবাহন। এলাকার কৃষিপণ্য সরবরাহকারী পিকআপ, ট্রাক লরির নিত্যদিনের যাতায়াতের কারণে ব্রিজ দুটি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক আগেই ওই দুটি সেতুতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে বলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। মধ্যপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী শেখ আবদুল করিম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ দুই ব্রিজ মালপদিয়া নামক স্থানে অবস্থিত। অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে সেতু দুর্বল হলে সেতুর ঢালাই ভেঙে পড়ে। দুই পাশের বিমে ফাটল ধরে এবং সেতুর নিচে পিলারের মাঝ থেকে ইট খুলে খুলে পড়ে যায়। এতে সেতু ভেঙে পড়ার উপক্রম। ব্রিজের মাঝখানে ক্ষয় হয়ে হয়ে যাওয়ায় ব্রিজের রেলিং খসেপড়ায় ওই স্থান গাড়ি নিয়ে অতিক্রমকালে ভয়ে বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে। এ ছাড়া সড়কে কোনো বাতি না থাকায় রাতে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ে প্রাণহানি ঘটতে পারে। কয়েকবার বিষয়টি এলজিইডি প্রকৌশলী বিভাগকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। সিরাজদিখান উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এবং স্থানীয় লোকজনের কাছে পুরাতন ব্রিজ দুটির তেমন তথ্য পাওয়া না গেলেও ব্রিজ দুটি ত্রিশ বছর পূর্বে নির্মাণ করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।

মালপদিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ দুটি ব্রিজের ওপর দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য ভারি বাস, মালবাহী ট্রাক, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মালপদিয়া-মালখানগর, আদাবাড়ি চলাচল করে। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশের পিকআপ, স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী বহনকারী গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এজন্য আমাদের সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। ব্রিজ দুটি ভেঙে কখন যে কী হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌলী শোয়াইব বিন আজাদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বরাদ্দ এলে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দুটির স্থানে নতুন ব্রিজ নির্মাণ হবে।

সরু ব্রিজে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল

সিরাজদিখানের মালপদিয়া মালখানগর সড়ক
 সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি 
১৮ জুন ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিরাজদিখানের মালপদিয়া-মালখানগর সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ দুটি ব্রিজ দিয়ে প্রতিনিয়ত চলছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনসহ অধিবাসীরা।

মধ্যপাড়া ৭ ও ০২ নম্বর ওয়ার্ডের মালপদিয়া ও মালখানগর গ্রামে অবস্থিত ওই দুটি সেতু দিয়ে প্রতিদিন পণ্য ও যাত্রীবাহী বিভিন্ন যানবাহনসহ কয়েকটি গ্রামের হাজারও মানুষ চলাচল করেন।

বিকল্প রাস্তা না থাকায় এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি না থাকায় বাসিন্দারা এ বিষয়ে নানা প্রশ্নও তুলছেন। পুরাতন ঢালাই ভেঙে পড়া সেতুর ওপর কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়ে নির্মাণ করা ও চলাচলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত এই দুই সরু সেতুর ওপর দিয়ে অসংখ্য ভারি যানবাহন চলাচল করছে। ফলে যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এছাড়াও ব্রিজ দুুটি সরু হওয়ায় দুই দিক থেকে ছেড়ে আসা যানবাহন ও পথচারীদের পারাপারের সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় সাত বছর ধরে ব্রিজ দুটি বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। জরুরি ভিত্তিতে এগুলো মেরামত করা না হলে যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে। অন্যদিকে ব্রিজ দু’টি ভেঙে নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন যানবাহনের চালকসহ এলাকাবাসী। সরেজমিন দেখা গেছে, এলজিইডি বিভাগ নির্মিত এ দুটি ব্রিজের উভয় পাশের গার্ডারে বেশ কয়েক বছর ধরেই মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। মালপদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের রাস্তার সেতুর দুই পাশের রেলিংগুলো ভেঙে গেছে, এমনকি একপাশের রেলিং একবারেই নেই। শুধু রডগুলো কোনো মতে ঝুলে আছে। আরেক পাশেরও অর্ধেক রেলিং নেই। হালকা-ভারি কোনো যান উঠলেই সেতু দুটি কাঁপতে থাকে। বেশ কয়েক বছর ধরেই সেতুগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ। এ অবস্থার মধ্যেও বাধ্য হয়ে হাজারও এলাকাবাসীসহ হালকা-ভারি যানবাহন চলাচল করছে ওই সেতু দুটি দিয়ে। আরও দেখা গেছে, মরণফাঁদে পরিণত হওয়া ব্রিজ দু’টির ওপর দিয়ে প্রতিনিয়তই চলছে লরি, মালবাহী ট্রাক ও নসিমন-করিমন, সিএনজি, লেগুনাসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় যানবাহন। এলাকার কৃষিপণ্য সরবরাহকারী পিকআপ, ট্রাক লরির নিত্যদিনের যাতায়াতের কারণে ব্রিজ দুটি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক আগেই ওই দুটি সেতুতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে বলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। মধ্যপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী শেখ আবদুল করিম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ দুই ব্রিজ মালপদিয়া নামক স্থানে অবস্থিত। অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে সেতু দুর্বল হলে সেতুর ঢালাই ভেঙে পড়ে। দুই পাশের বিমে ফাটল ধরে এবং সেতুর নিচে পিলারের মাঝ থেকে ইট খুলে খুলে পড়ে যায়। এতে সেতু ভেঙে পড়ার উপক্রম। ব্রিজের মাঝখানে ক্ষয় হয়ে হয়ে যাওয়ায় ব্রিজের রেলিং খসেপড়ায় ওই স্থান গাড়ি নিয়ে অতিক্রমকালে ভয়ে বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে। এ ছাড়া সড়কে কোনো বাতি না থাকায় রাতে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ে প্রাণহানি ঘটতে পারে। কয়েকবার বিষয়টি এলজিইডি প্রকৌশলী বিভাগকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। সিরাজদিখান উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এবং স্থানীয় লোকজনের কাছে পুরাতন ব্রিজ দুটির তেমন তথ্য পাওয়া না গেলেও ব্রিজ দুটি ত্রিশ বছর পূর্বে নির্মাণ করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।

মালপদিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ দুটি ব্রিজের ওপর দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য ভারি বাস, মালবাহী ট্রাক, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মালপদিয়া-মালখানগর, আদাবাড়ি চলাচল করে। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশের পিকআপ, স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী বহনকারী গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এজন্য আমাদের সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। ব্রিজ দুটি ভেঙে কখন যে কী হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌলী শোয়াইব বিন আজাদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বরাদ্দ এলে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দুটির স্থানে নতুন ব্রিজ নির্মাণ হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন