ঢাবি ছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ

যুবক গ্রেফতার

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ এবং ব্ল্যাকমেইল করে ল্যাপটপসহ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে আবদুল হাই ওরফে রাজু (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। থানার উপ-পরিদর্শক সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, রাজু কালীগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের বাজার রহিমপুর গ্রামের শেখ রওশান আলীর ছেলে।

মামলার এজাহারে জানা যায়, ৫ মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রীর এক বন্ধু উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের কলিযোগা গ্রামের সিদ্দিক ঢালীর ছেলে রোকনুজ্জামান (২৫) ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।

ওই সময় অসুস্থ বন্ধুকে দেখতে গেলে আবদুল হাই ওরফে রাজুর সঙ্গে পরিচয় হয় ওই ছাত্রীর। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ও রাজু তাদের অসুস্থ বন্ধু রোকনুজ্জামানের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য গ্রহণ করেন।

এভাবে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে। ১৪ এপ্রিল ওই ছাত্রী ঢাকা থেকে বাসে বাড়ি যাওয়ার পথে রাজু ওই ছাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে নলতায় তার এক অজ্ঞাতপরিচয় বোনের বাড়িতে নিয়ে যায়।

সেখানে রাজু ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিলে রাজি না হওয়ায় তাকে মারপিট করে। একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে রাজু ধারালো চাকু দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে ধর্ষণ করে এবং মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। পর দিন ওই ছাত্রী বাড়িতে আসার পর রাজু তাকে মোবাইলে হুমকি দিয়ে বলে এ ব্যাপারে কাউকে কিছু বললে সে ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে। মান-সম্মানের ভয়ে ওই ছাত্রী এসব ঘটনা কাউকে বলেনি। পরবর্তীতে রাজু ধারণকৃত ভিডিও চিত্র দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে তার কাছ থেকে এক লাখ সত্তর হাজার টাকা এবং একটি ল্যাপটপ হাতিয়ে নিয়েছে।

সর্বশেষ ২২ মে রাজু ওই ছাত্রীর কাছে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে ছাত্রী বিষয়টি তার পরিবারকে জানান এবং সোমবার থানায় মামলা করেন। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে থানার ওসি (তদন্ত) এসএম আজিজুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল করে ল্যাপটপসহ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।