সংসদে বাজেট আলোচনায় সরকারের প্রশংসা

  সংসদ রিপোর্টার ২৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেট

প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ নেতা-মন্ত্রীরা বলেছেন, স্বাধীনতাসহ বাংলাদেশের যত কিছু অর্জন ও সাফল্য সবই এসেছে জাতির পিতার হাতে গড়া রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাত ধরে।

অন্য যারা ক্ষমতায় ছিল তারা দেশকে কিছুই দিতে পারেনি। কারণ তারা এ দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিল না, ছিল পাকিস্তনের দালাল ও তল্পিবাহক। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন নিয়ে এ দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, গত ১০ বছর ধরে তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন। মাত্র ১০ বছরে শেখ হাসিনার ব্যাপক উন্নয়ন সারা বিশ্বকেই আলোড়িত করেছে।

রোববার প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাম উদ্দিন প্রামাণিক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সরকারি দলের আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, সালাম মোর্শেদী, একেএম রহমতুল্লাহ, আবিদা আনজুম মিতা, নজরুল ইসলাম বাবু, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, মোরশেদ আলম, জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান, গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ প্রমুখ। আলোচনায় বাজেটের পরিবর্তে আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিষয়ই প্রাধান্য পায়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আমির হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীন করেছিলেন বলেই আজ আমরা সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনার সুযোগ পাচ্ছি। আওয়ামী লীগের জন্মের মধ্য দিয়েই দেশের স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল। জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ এ দেশের আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছে। এ দেশের যত কিছু অর্জন ও সাফল্য সবই এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে, অন্য কেউ কিছু দিতে পারেনি। কারণ তারা ছিল পাকিস্তানের দালাল ও তল্পিবাহক। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন নিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছিলেন, ১০ বছর ধরে তারই কন্যা শেখ হাসিনা সেই স্বপ্নপূরণে কাজ করে যাচ্ছেন।

তোফায়েল আহমেদ দলের জন্মদিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হৃদয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছাড়া আর অন্য কিছু ছিল না। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাকি কাজ বাস্তবায়ন করছেন তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা যখন দেশে ফিরে আসেন, তখন আমরা দেখেছিলাম বঙ্গবন্ধুই যেন শেখ হাসিনার বেশে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। চমৎকার বাজেট হলেও কিছু কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে, তা ঠিক করতে হবে। শেখ ফজলুল করিম সেলিম আওয়ামী লীগের জন্মদিনে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা- এক ও অভিন্ন। পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলে আমাদের দুঃখ থাকত না, তাকে হত্যা করল এ দেশেরই কিছু কুলাঙ্গার বেইমান মোশতাক-জেনারেল জিয়া গং। বঙ্গবন্ধু তার জীবন দিয়ে আওয়ামী লীগকে গড়ে তুলেছেন।

গণফোরাম সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ বলেন, ৭ মার্চ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলাম। দেশে এবং বিদেশে এ সংসদ নিয়ে সন্দেহ আর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল, নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। ওইদিন আমি যদি শপথ না নিতাম তাহলে আজ বিএনপির যে ক’জনই হোক না কেন তারা শপথ নিত বলে আমার মনে হয় না। বঙ্গবন্ধুর অনুসারী হিসেবে আমি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ৫২ বছরের রাজনীতিতে যাকে দেখে রাজনীতি শিখেছিলাম তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে আমি এ সংসদে এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছিলাম।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, বিএনপি এখনও স্বাধীন বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না। এরা ক্ষমতায় থাকতে দেশের উন্নয়নে কিছুই করেনি। একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা এখনও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, জাতি হিসেবে আমরা উচ্চাভিলাষী না হতাম তবে স্বাধীন একটি রাষ্ট্র আমরা পেতাম না। তাই উচ্চাভিলাষী হতেই হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত তিন দশকে সারা বিশ্বে উন্নয়ন-অগ্রগতির ক্ষেত্রে রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে বিএনপি-জামায়াত জোট এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি। ১৬-১৭ ঘণ্টা জাতিকে অন্ধকারে রেখেছে। ছায়া সরকার হাওয়া ভবন এবং খালেদা জিয়া-তারেক-মামুনরা বল্গাহীনভাবে দুর্নীতি করেছে। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে ৬০ মন্ত্রিসভার এক-তৃতীয়াংশ বিপুল অর্থের মাধ্যমে বিক্রি করেছেন তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক তদন্তে এসব বেরিয়ে এসেছে। এ বছরের মধ্যে দেশের শতভাগ গ্রামে বিদ্যুৎ সুবিধা যাবে, প্রতিটি ঘরে আলো জ্বলবে।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সালাম মোর্শেদী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটটি শুধু ব্যবসাবান্ধব নয়, জনকল্যাণমূলক, উন্নয়নমূলক বাজেট। বিএনপির কয়েকজন সংসদ সদস্য শেষ পর্যন্ত সংসদে যোগ দিয়ে মিথ্যাচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।

জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান বলেন, ঋণখেলাপিরা ঋণ নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা সরকারকেই নিতে হবে। আর বাস্তবায়ন করা না গেলে বড় বাজেট দিয়ে কোনো লাভ হয় না। আওয়ামী লীগের একেএম রহমতুল্লাহ বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ১৯৯১ সালে এবং ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে রাজধানীর লেক ও খালগুলো গণহারে ভরাট করে গণহারে বিএনপির লোকদের প্লট দিয়েছে। আওয়ামী লীগ রাজউকের মাধ্যমে প্লট বিক্রির ক্ষেত্রে ন্যূনতম রাজনীতিকীকরণ করেনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×