বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস আজ

দেশে বছরে ৫ হাজার শিশু পায়ের পাতা বাঁকা নিয়ে জন্মায়

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রাশেদ রাব্বি

ক্লাবফুট বা মুগুর পা দিবস আজ। এ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নানা কর্মসূচি পালিত হবে। চিকিৎসাধীন ক্লাবফুট শিশু ও তাদের অভিভাবকদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে।

এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়–য়া। ক্লাবফুট বা মুগুর পা (পায়ের পাতা বাঁকা) সারা বিশ্বে জন্মগত ত্রুটির নাম। এই ত্রুটির প্রভাব শিশুর এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন ও কার্যকলাপে সাময়িক কিংবা স্থায়ীভাবে পড়তে পারে। আমেরিকায় বছরে প্রতি হাজারে একজন শিশু ক্লাবফুট নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৫ হাজার শিশু এ সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ক্লাবফুট নিয়ে জন্মগ্রহণ করলে তার একটি বা উভয় পা ভেতরের দিকে বা নিচের দিকে বাঁকানো থাকবে। হাড়ের সঙ্গে মাংসের সংযোগ ঠিকঠাক রাখতে টেন্ডন নামক এক ধরনের টিস্যু কাজ করে। টেন্ডনের দৈর্ঘ্য স্বাভাবিকের চেয়ে কম হলে পায়ের এ ধরনের বিকৃতি দেখা যায়। এ ছাড়াও শিশুর পায়ের হাড়, জোড়ার হাড় কিংবা মাংসের কোনো সমস্যার কারণেও ক্লাবফুট হতে পারে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্প বা উচ্চমাত্রায় শিশুদের ক্লাবফুট ত্রুটি হয়ে থাকে। তবে এতে শরীরে কোনো ব্যথা হয় না, শিশু দাঁড়ানো কিংবা হাঁটতে শুরু করার আগ পর্যন্ত সে তেমন কোনো সমস্যারও সম্মুখীন হয় না। তবে সময়মতো চিকিৎসা না করানো হলে শিশুর হাঁটতে সমস্যা হবে। যথাসময়ে ক্লাবফুট নিরাময় না করা হলে আর্থ্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। এতে শরীরে জোড়ায় জোড়ায় স্বল্প ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, শক্ত হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসা যত দ্রুত শুরু করা যায়, ততই শিশুর জন্যে মঙ্গল। হতে পারে সেটা শিশুর ১ সপ্তাহ বয়স থেকেই। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হলে, শিশু স্বল্পসময়ে জুতা পরতে, হাঁটতে অর্থাৎ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের (নিটোর) অধ্যাপক ও ক্লাবফুট সুপারভাইজার ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাদের দেশে বছরে প্রায় ৫ হাজার শিশু ক্লাবফুট সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে ক্লাবফুটের চিকিৎসা দেয়া হয়। এ ছাড়া স্বল্পমূল্যে এর চিকিৎসা করানো সম্ভব। সপ্তাহে মাত্র দেড়শ’ টাকা ব্যয় করে ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ নিয়মিত প্লাস্টার করালে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। তিনি বলেন, ক্ষেত্রবিশেষে কোনো কোনো শিশুর অস্ত্রোপচার করার প্রয়োজন হয়। সেটির খরচও ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে। অধ্যাপক জাহাঙ্গীর বলেন, একটা সময় ছিল যখন অজ্ঞানতার কারণে দেশে বেশিরভাগ মানুষ একে চিকিৎসার অযোগ্য, ভাগ্যের পরিহাস বলে মনে করে। ফলে অনেক শিশুই চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতো।