মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

মাতৃভাষায় অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক পদক দেবে সরকার

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাতৃভাষা সংরক্ষণ-বিকাশে বিশেষ অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক পদক দেবে বাংলাদেশ। এ জন্য ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক নীতিমালা, ২০১৯’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে ‘বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ (সুরক্ষা) আইন, ২০১৯’ ও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) আইন, ২০১৯-এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এসব তথ্য জানান।

মাতৃভাষা পদক প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক’ নামে নতুন পদক চালু করা হচ্ছে, একুশে ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে দুই বছর পরপর এ পদক দেয়া হবে। জাতীয় ক্ষেত্রে দুটি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দুটি করে মোট চারটি পদক দেয়া হবে। পদকের মূল্যমান ধরা হয়েছে জাতীয় ক্ষেত্রে চার লাখ টাকা, আর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার ডলার। পৃথিবীর বিভিন্ন মাতৃভাষা সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন, বিকাশ, চর্চা, প্রচার ও প্রসারের জন্য এ পুরস্কার দেয়া হবে। পদক দিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটের পরিচালকের নেতৃত্বে বাছাই কমিটি থাকবে। এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মনোনয়ন কমিটি থাকবে বলেও মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের যে দিনটিতে বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল রাজপথ, সেই ২১ ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয় সারা বিশ্বে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পায়।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী জাহাজের সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী জাহাজের সুরক্ষায় নতুন আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত সায় দিয়েছে সরকার, যেখানে এসব জাহাজে ৫০ শতাংশ পণ্য পরিবহনের বিধান রাখা হয়েছে। গত ২৮ জানুয়ারি আইনের খসড়াটির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা। ১৯৮২ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী সমুদ্রপথে পরিবাহিত পণ্যের ৪০ শতাংশ পতাকাবাহী জাহাজে পরিবহনের বিধান ছিল। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মার্শাল ল’ আমলের আইনকে বাংলায় রূপান্তর করে নতুন করে করা হচ্ছে।

শফিউল আলম বলেন, নতুন আইনে সমুদ্রপথে পরিবাহিত পণ্যের ৫০ শতাংশ পতাকাবাহী জাহাজে পরিবহনের প্রস্তাব করা হয়েছে। পতাকাবাহী জাহাজ মানে বাংলাদেশে নিবন্ধিত যে কোনো জাহাজ। কোনো জাহাজ এ আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে ওই জাহাজ কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। অধ্যাদেশে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা ছিল না। জরিমানা নিয়ে সংক্ষুব্ধ হলে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করা যাবে বলেও জানান তিনি। আইনটির নীতিগত অনুমোদনের দিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছিলেন, সমুদ্রপথে ৫০ শতাংশ পণ্য বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজে পরিবহনের বিধানটি বাধ্যতামূলক নয়।

বিকেএসপি আইন অনুমোদন প্রসঙ্গে শফিউল আলম বলেন, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) আইন, ২০১৯-এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ১৯৮৩ সালের অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনে বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ সদস্য উপস্থিত থাকলে কোরাম হবে, বছরে দু’বার সভা করার বিধান রাখা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রীর দায়িত্বে যিনি থাকবেন তিনি হবেন বোর্ডের চেয়ারম্যান, ২০ সদস্যের পরিষদ হবে, মনোনীত সদস্যদের মেয়াদ হবে তিন বছর। অধ্যাদেশে অন্য যেসব বিষয় ছিল সেগুলোকে নতুন আইনে আগের মতোই রাখা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

এ ছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যে স্বাক্ষরের জন্য উপস্থাপিত সংস্কৃতি, শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তির খসড়া অনুমোদনে এর আগে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ প্রসঙ্গে শফিউল আলম বলেন, ২০১৪ সালে একটি সিদ্ধান্ত হয় স্পেন সরকার এসব ক্ষেত্রে চুক্তি করতে চায়। পরে স্পেন জানায়, তারা শুধু সংস্কৃতি বিষয়ে চুক্তি করতে চায়। শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক বিষয়ে চুক্তি করবে না। সংস্কৃতি বিষয়ে স্পেনের সঙ্গে চুক্তিটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×