বাজেট আলোচনায় বিএনপির কঠোর সমালোচনা

অর্থনীতির ধারা অব্যাহত রাখতে হলে জঙ্গির দোসর বিএনপিকে রাজনীতির ময়দান থেকে মাইনাস করতে হবে -ইনু * সালসা ও আজিজ মার্কা নির্বাচন দেশবাসী কখনও ভুলবে না -দীপু মনি * রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় কারাগারে খালেদা জিয়া -উকিল আবদুস সাত্তার

  সংসদ রিপোর্টার ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপিকে জঙ্গির দোসর ও সাম্প্রদায়িক শক্তি আখ্যায়িত করেছেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেছেন, এ ধরনের রাজনৈতিক শক্তিকে ক্রেন দিয়ে তুলে বিরোধী দলে বসানো দেশের জন্য ও গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক নয়। উন্নয়ন ও অগ্রগতির অর্থনীতির ধারা অব্যাহত রাখতে হলে বরং বিএনপির মতো সাম্প্রদায়িক জঙ্গির দোসর রাজনৈতিক দলকে রাজনীতির ময়দান থেকে মাইনাস করতে হবে।

প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে সোমবার বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় আরও অংশ নেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, সরকারি দলের ডা. ইউনুস আলী সরকার, মনোরঞ্জন শীল গোপাল, মাহফুজুর রহমান, শাহে আলম, জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, এলডিপির মাহী বি. চৌধুরী, বিএনপির উকিল আবদুস সাত্তার প্রমুখ।

হাসানুল হক ইনু বলেন, এখন রাজনীতির স্পেস নাই বলে কথা বলা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। শান্তির শত্রুদের জন্য কোনো রাজনৈতিক স্পেস দেয়া যায় না। গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে যারা গণতন্ত্রের পিঠে ছোবল মারে তাদের জন্য মায়াকান্না গণতন্ত্রকে ধ্বংসই করে। তিনি বলেন, অর্থনীতির সমৃদ্ধির জন্য রাজনীতির শান্তি দরকার। শেখ হাসিনা সরকারকে অনেক মূল্য দিয়ে সেই শান্তি অর্জন করতে হয়েছে। তাই অশান্তির হোতাদের কোনো ছাড় নেই। দমন ওদের করতেই হবে। আগুনসন্ত্রাস, জঙ্গি, অন্তর্ঘাত, খুনি, যুদ্ধাপরাধী ও দুর্নীতির বিচার প্রতিহিংসা না। এসব ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া উচিত না। এমনও রাজনৈতিক শক্তি সামরিক শাসন আমলের রাজনৈতিক বিষবৃক্ষ হিসেবে কাজ করছে।

ইনু বলেন, বিএনপি হচ্ছে সেই দল, যে দলে খুনি, জঙ্গি, সাম্প্রদায়িক চক্রমহলের রাজনৈতিক ছায়া। এটি সাম্প্রদায়িক দল। সংসদে বা বাইরে যেখানেই থাকুক না কেন বিএনপি এখনও যুদ্ধাপরাধের বিচার মানে না, বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা মানে না। সংবিধানের চার নীতি মানে না। স্বাধীনতার ঘোষণা মানে না। ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন তত্ত্ব হিসেবে পালন করে। জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বলার চেষ্টা করে। এ ধরনের রাজনীতির শক্তিকে ক্রেন দিয়ে তুলে বিরোধী দলে বসানো দেশের জন্য এবং গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক না।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন, লুটপাট, অগ্নিসন্ত্রাস, শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা দেশবাসী কখনও ভুলে যাবে না। যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার বন্ধ করেছিল, বিচারপতির দরজায় লাথি মেরেছিল, হাজার হাজার সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে, তাদের মুখে আইনের শাসনের কথা মানায় না। এখন বাজেটের টাকা তারেক রহমানের হাওয়া ভবন ও খোয়াব ভবনের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হয় না বলেই দেশের সব ক্ষেত্রে উন্নতি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর পদে থেকে খালেদা জিয়া কালো টাকা সাদা করেছেন। বিএনপির আমলে সালসা ও আজিজ মার্কা নির্বাচনও দেশবাসী কখনও ভুলবে না।

এমপিওভুক্তিকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। কাউকে বঞ্চিত করা সরকারের লক্ষ্য নয়। যারা অযোগ্য বিবেচিত হয়েছে তাদের প্রতি আমাদের লক্ষ রয়েছে যাতে তারা আগামীতে যোগ্য হয়ে ওঠে।

বিএনপির উকিল আবদুস সাত্তার কারাবন্দি খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে বলেন, খালেদা জিয়াকে যে মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে, তা জামিনযোগ্য। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত নানা ওসিলায় তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।

বিএনপি নেতাদের নামে দায়েরকৃত গায়েবি মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট ধনীকে আরও ধনী করবে, গরিবকে আরও গরিব করবে। বাজেট প্রতিবছর বাড়লেও বাস্তবায়ন কমছে। ঘাটতি মেটাতে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বাড়ছে। ফলে বিনিয়োগ বাড়ছে না। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান হবে না, কর্মসংস্থান না হলে রাজস্ব আদায়ও বাড়বে না। শেয়ারবাজার ও ব্যাংক থেকে লুট হচ্ছে, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে কোনো দিকনির্দেশনা নেই বাজেটে।

মাহী বি. চৌধুরী বলেন, সারা দেশে নারীর ক্ষমতায়ন চোখে দেখার মতো। তবে দুর্নীতিতে নারীরা পিছিয়ে আছেন, এটা একটা শুভ সংবাদ। বিশাল একটি তরুণ প্রজন্ম উচ্চাভিলাষী হয়ে পড়েছে। উন্নত দেশে এটা পজেটিভ হিসেবে দেখলেও আমাদের দেশে তা নেগেটিভ হিসেবে দেখা হয়।

সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেন, সারা বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। বাজেট শুধু বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, দেশের কল্যাণে সরকারের দর্শন ফুটে ওঠে বাজেটে। তবে করের আওতা অবশ্যই সহনীয় মাত্রায় বাড়াতে হবে। অনেক মন্ত্রণালয় বাজেট বরাদ্দ কেন বাস্তবায়ন করতে পারছে না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের জন্য বাজেট আরও বাড়াতে হবে। বিচারকের বেতন-ভাতা বাড়াতে হবে। মামলাজট নিরসনে বিচারকের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে হবে। হাইকোর্টে আরও একশ’জন বিচারপতি নিয়োগ করা প্রয়োজন।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, বিএনপিসহ কথিত কিছু সুশীল ব্যক্তি প্রস্তাবিত বাজেটকে উচ্চাভিলাষী বাজেট বলেন। কিন্তু টানা ১০ বছর এমন উচ্চাভিলাষী বাজেট দিয়ে তা বাস্তবায়ন করে বর্তমান সরকার দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে স্থাপন করেছে। দেশ আজ সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে।

জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ বলেন, ঋণখেলাপির কারণে আর্থিক খাতে তারল্য সংকট সৃষ্টি করেছে। এ সংকট নিরসনে বাজেটে কোনো নির্দেশনা নেই। বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে হবে। বাজেটের ঘাটতি মোকাবেলায় প্রতিবারই ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হচ্ছে। এটা অর্থনীতির জন্য শুভ নয়। তিনি মোবাইলের ওপর কর না আরোপের দাবি জানান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×