ধোনি এখন ‘নিঃস্ব’

  জ্যোতির্ময় মণ্ডল, ম্যানচেস্টার থেকে ০৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধোনি এখন ‘নিঃস্ব’

লোকেশ রাহুলের কিক করা বল আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেন এমএস ধোনি। পারলেন না। যেন তার ক্যারিয়ারের শেষবেলার প্রতীকী দৃশ্য!

সময় ফুরিয়ে এসেছে নিজেও বুঝতে পারছেন। দলকে অনেক কিছু দিয়েছেন। এখন তরুণদের কিছু দিয়ে যেতে পারলেই

স্বস্তি। ম্যানচেস্টারে আজ ভারত যদি নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে যায়, তাহলে এটাই ধোনির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়ে যেতে পারে। ভারতের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল অধিনায়ক আগের অবস্থানে নেই। দৃষ্টি এখন সবার বিরাট কোহলির দিকে। আবার কোহলির দৃষ্টি ধোনির দিকে।

ভারতীয় সাংবাদিকদের ধারণা, ধোনি এখন দলের বোঝা। কোহলির দৃষ্টি থাকার কারণেই তিনি নাকি বিশ্বকাপ খেলতে পারছেন!

অথচ ভারতকে বিশ্বকাপ এনে দেয়া এই অধিনায়ক একের পর এক দলকে সাফল্য এনে দিয়েছেন। সেই তিনি নাকি এখন দলের বোঝা!

পারফরম্যান্স আর নেতৃত্বগুণে এক দশক জনপ্রিয়তার চূড়ায় ছিলেন তিনি। তার ক্রিকেটজীবন, তার ব্যক্তিজীবন অনুকরণের উৎস। রূপকথার জীবন শেষ হয়েছে বাস্তবতার কশাঘাতে।

গত কয়েক বছর ধরে তার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই বিশ্বকাপে তাকে নিয়ে আলোচনার বেশিরভাগ নেতিবাচক। তার স্ট্রাইক রেট, ব্যাটিংয়ের ধরন, মানসিকতা- এসব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতীয় সাংবাদিকরা তো পারলে তার নাম না লিখেই খবর তৈরি করতে পছন্দ করবেন। অথচ কয়েক বছর আগেও ধোনি ছিলেন তাদের প্রথম চাহিদা। সময় হয়তো এভাবেই একদিন সবাইকে জনপ্রিয়তার নিচে নামিয়ে দেয়।

ধোনির নেতৃত্বে কোহলির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু। তার কাছ থেকেই পেয়েছেন অধিনায়কের ব্যাটন। দলের সাফল্যের জন্য ৩৮ বছরের বুড়ো ধোনির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর জন্য তাকে দলে রেখেছেন ভারতীয় অধিনায়ক।

‘এবারও হয়ে যেতে পারে’

কেন উইলিয়ামসন স্বভাবে যতটা শান্ত, ব্যাটিংয়ে ততটাই আগ্রাসী। বিরাট কোহলি আবার স্বভাবে আগ্রাসী কিন্তু ব্যাটিংয়ে ক্লাসিক ঘরানার। বিশ্বকাপে আগুনে ফর্ম নিয়ে উড়ছে ভারত।

নিউজিল্যান্ড এগোচ্ছে ধীরগতিতে। কোহলি ও উইলিয়ামসনের বন্ধুত্ব সেই ২০০৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে। ১১ বছর পর আবারও দু’জন দু’দলের অধিনায়ক হিসেবে আরেকটি বিশ্বকাপের মুখোমুখি হচ্ছেন। নিজেদের ধারাবাহিকতা ও দীর্ঘ এ পথচলাটা একই লাইনে এসে আবার মিলে গেছে। যুব বিশ্বকাপের স্মৃতি নাড়া দিচ্ছে দুই অধিনায়ককেই। তবে এবার কোহলির আগুন উইলিয়ামসন নেভাতে চান তার শীতলতা দিয়ে।

দু’জনের স্বভাব বিপরীতমুখী হলেও কাল অনেক জায়গায় তাদের মিল দেখা গেল। খুব উৎসুকভাবেই সাংবাদিকদের বিভিন্ন দাবি মেটালেন তারা। প্রায় ছয় সপ্তাহের লড়াইয়ের পর ১০ দল থেকে বিশ্বকাপে টিকে রয়েছে চার দল। আজ ছিটকে যাবে আরও একটি। বিশ্বকাপ থেকে কেউই সহজে ছিটকে যেতে চায় না, চাচ্ছেন না কোহলি কিংবা উইলিয়ামসনও। মালয়েশিয়ায় সেই যুব বিশ্বকাপের সব স্মৃতি এখন আর মনে নেই দুই অধিনায়কের। কাল সংবাদ সম্মেলনে আসার পর দু’জনকেই একই প্রশ্ন করা হল। কোহলি বললেন, ‘সব ঘটনা মনে নেই।

তবে আগামীকাল (আজ) মাঠে নামলে দু’জনেরই হয়তো অনেক কিছু মনে আসবে। আমাদের সময়ের অনেক ক্রিকেটার এখন বিশ্বকাপে খেলছে। দেশের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ এবং বড়দের বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেয়া অনেক বড় কিছু।’ উইলিয়ামসনকে সেদিন আউট করেছিলেন কোহলি। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও মনে করতে পারলেন না। ভারত অধিনায়ক বলেন, ‘তার উইকেট পেয়েছিলাম নাকি? তাহলে হয়তো এবারও হয়ে যেতে পারে!’

এদিকে কিউই অধিনায়কও এই লম্বা যাত্রাকে গর্বের বিষয় বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর পর আমরা আবারও অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে মুখোমুখি হব এটা ভালো লাগার ব্যাপার। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে সেমিফাইনালে

দেশকে নেতৃত্ব দেয়া বড় ব্যাপার। দু’দলই জয়ের জন্য মাঠে নামবে। দু’দলের খেলোয়াড়রা

চ্যালেঞ্জ নিতেও প্রস্তুত। এটা সত্যিই খুব উত্তেজনার ব্যাপার।’ আগেরদিন বৃষ্টি হয়েছে। কাল সারা দিন ম্যানচেস্টার ছিল মেঘে ঢাকা। আজও রয়েছে

বৃষ্টির সম্ভাবনা। দুই অধিনায়কের ভাবনায়ও তাই বৃষ্টি। ভেন্যু ম্যানচেস্টার হওয়ায় টসও ফল নির্ধারণ করে দিতে পারে। পরিসংখ্যান যা-ই বলুক, মাঠের ফলেই আজ বোঝা যাবে ১১ বছরে কে বেশি এগিয়েছেন- কোহলি না উইলিয়ামসন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×