১ কোটি ৩৭ লাখ টাকায় খাল খনন বিফলে

রূপগঞ্জে জলাবদ্ধতায় ১৫ গ্রাম প্লাবিত

  রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ১৫ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রূপগঞ্জে জলাবদ্ধতায় ১৫ গ্রাম প্লাবিত
ফাইল ছবি

কয়েক দিনের টানা বর্ষণের কারণে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার প্রায় ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানেলের (খাল) বিভিন্ন পয়েন্টে মিল-কারখানার বর্জ্য ও স্থানীয় অসচেতন মানুষের ময়লা-আবর্জনা ফেলে পানি যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করার কারণে স্থায়ী রূপ নিচ্ছে।

গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। বাড়িঘরে পানি উঠে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী কোমড় পর্যন্ত পানিতে চলাচল করতে হচ্ছে। মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে খনন করা কোনো কাজেই আসছে না।

এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্যান্য ছোট-বড় ক্যানেল (খাল) গুলোর বিভিন্ন পয়েন্ট দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে করে ওইসব ক্যানেল (খাল) গুলো দিয়ে পানি যাতায়াত করতে পারছে না।

উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, রূপগঞ্জ উপজেলায় ছোট-বড় সব মিলিয়ে প্রায় হাজারো মিল-কারখানা রয়েছে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা লোকজন জমি ক্রয় করে গড়ে তুলেছেন শত শত নতুন ঘরবাড়ি।

এসব মিল-কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানেল ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে ক্যানেল ভরাট করে পাকা-আধা পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছে প্রভাবশালীরা। আর এ খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

খালে ময়লা-আবর্জনা ও মিল-কারখানার বর্জ্য ফেলে পানি নিষ্কাষণের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক), উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শাহজাহান ভূঁইয়া ও তখনকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) (বর্তমানে ঢাকা জেলার এডিসি) আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলামের উদ্যোগে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে খাল খননের জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়।

বানিয়াদি পাম্প হাউস থেকে আউখাব এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার খাল খনন কাজ ৭টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভাগ করে দেয়া হয়। খাল খনন করতে গিয়ে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হয়েছে।

নানা বাধা পেরিয়ে খাল খনন কাজ সমাপ্ত করা হয়। খালের পাড় দিয়ে করে দেয়া হয়েছে চলাচলের রাস্তাও। এ জন্য উদ্যোক্তাদের সাধুবাদ জানান উপকারভোগী এলাকাবাসী। কিন্তু এক শ্রেণীর মানুষ খালে ময়লা ফেলছে।

ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন মিল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য। কচুরিপানায় ভরে গেছে। কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বানিয়াদি, গোলাকান্দাইল ৫নং ক্যানেল, নাগেরবাগ, নতুন বাজার, কাটাখালী, পেরাব, ভুলতা, মিয়াবাড়ী, পাঁচাইখা, আমলাব, শিংলাব, আউখাবসহ প্রায় ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গোলাকান্দাইল খালপাড় এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানেল ভরাট করে দোকানঘর নির্মাণ করেছে মোক্তার হোসেন নামের এক ব্যক্তি, পাকাঘর নির্মাণ করেছে সোহেল মিয়া নামের আরও এক ব্যক্তি, দোকানঘর নির্মাণ করেছে ওবায়দুল, জব্বার মেম্বারসহ আরও অনেকে।

এসব অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেয়া হলেও ফের পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছে তারা। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, যারা ময়লা-আবর্জনা ফেলে বা বিষাক্ত বর্জ্য ফেলে খাল ভরাট করে পানি যাতায়াতে বাধার সৃষ্টি করছে এবং জবরদখল করে রেখেছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×