আশুলিয়ায় ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি

আশুলিয়া ডিইপিজেড ঘেঁষা পশ্চিম ভাদাইল এলাকা একটু বৃষ্টি হলেই চলাচলের একমাত্র রাস্তা ও পুরো এলাকার বাসাবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে দুর্ভোগের শিকার এলাকার ইপিজেডের পোশাক শ্রমিকসহ ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লক্ষাধিক মানুষ।

ভাদাইল এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বাড়ির ব্যবহৃত ময়লা পানি বাড়িতেই আটকে থাকে।

এসব ময়লা পানির দুর্গন্ধে এলাকাবাসীর মধ্যে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বসবাসরতরা আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। এ এলাকার বৃষ্টির পানি, ময়লা বর্জ্যপানি ইপিজেড পূর্বজোনের ড্রেনের মধ্য দিয়ে বংশাই নদীতে যেত।

প্রায় ৪ মাস আগে ডিইপিজেড কর্তৃপক্ষ ভাদাইল পশ্চিম পাড়ার পানি বের হওয়ার ওই ড্রেনটি আটকিয়ে পানি প্রবাহে বাঁধা দেয়। ফলে ভাদাইলবাসীর পানি কোথাও নামতে বা বের হতে না পারায় বাসাবাড়ি তলিয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার। এ বছরের ১৫ জুন বাসার অভ্যন্তরের বদ্ধপানিতে ডুবে প্রাণ দিয়েছিল দেড় বছরের একটি শিশু।

ডিইপিজেডের পূর্ব জোনের উল্লিখিত ড্রেনটি খুলে দেয়ার দাবিতে ডিইপিজেডসহ বিভিন্ন দফতরে এলাকাবাসীর পক্ষে সাধারণ জনতা আবেদন করেছেন। তবে কেউই এগিয়ে আসেনি তাদের পানিবন্দি জীবদ্দশা থেকে উত্তরণের জন্য। এ ব্যাপারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান ভুইয়া জানান, ভাদাইল পশ্চিমপাড়া এলাকাটি ময়লা পানির ওপর ভাসছে। ডিইপিজেডের জিএম সোবাহান মিয়া পশ্চিমপাড়ার পানি নিষ্কাশনের ড্রেনটি আটকে দিয়েছেন।

যার ফলে এলাকার ময়লা আবর্জনাময় ও বৃষ্টির পানি একাকার হয়ে দুর্গন্ধময় বদ্ধপানির সঙ্গী হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস করতে হচ্ছে এসব পরিবারের সদস্যদের। তাছাড়া দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে সৃষ্টি হওয়ায় বর্তমানে ওই এলাকায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে বলেও তিনি জানান।

সরজমিনে দেখা যায়, এলাকাটিতে ময়লা আবর্জনায় পরিপূর্ণ। ময়লা পানি আর আবর্জনার কারণে পা ফেলার জায়গা নেই বাসা-বাড়ির মাঝে। এলাকাবাসী জানান, ব্যাংক লোন করে ভাদাইল পশ্চিমপাড়ায় বহুতল ভবন করেছেন অনেকে। পানি আটকে থাকার কারণে ভাড়াটিয়া চলে যাচ্ছে, ভাড়াটিয়ারা চলে গেলে ব্যাংক লোনের টাকা কি করে তারা পরিশোধ করবেন এ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

ডিইপিজেডের চেয়ারম্যানের কাছে এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ইপিজেড পূর্ব জোনের ড্রেনটি যাতে খুলে দেয়ার আদেশ দেন তিনি। একমাত্র ডিইপিজেড চেয়ারম্যানের আদেশই পারে ভাদাইল পশ্চিম পাড়ার ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি জীবদ্দশা থেকে মুক্তি পেয়ে আবার সচল হয়ে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারে। এছাড়া ভাদাইলের এক মাত্র চলাচলের রাস্তাটি ড্রেন না থাকায় সব সময় হাঁটুপানি থাকে। ফলে ভাদাইলবাসীর দুঃখ চরমে পৌঁছেছে।