নৌ মন্ত্রণালয়ে ঈদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সভা

বন্যায় ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা প্রশাসনের

ঈদের ৬ দিন নিত্যপণ্য ও পশুবাহী যান ছাড়া অন্য গাড়ি ফেরিতে নয়

  যুগান্তর রিপোর্ট ২২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভোগান্তি

আসন্ন ঈদযাত্রায় বন্যার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয় প্রশাসনের। কয়েকটি জেলার ডিসি ও এসপিরা বলছেন, নদীতে স্রোতের তীব্রতা বেশি থাকায় ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

ফেরি পারাপারে অন্য সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। এতে ফেরিঘাটের দুই পারে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। ঘাটসংলগ্ন রাস্তাঘাটও ভেঙে যাচ্ছে।

এমন অবস্থা চলতে থাকলে ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন। পশুবাহী গাড়ি পারাপারে বাড়তি সময় লাগতে পারে।

রোববার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় এ শঙ্কার কথা উঠে এসেছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বাড়তি ভাড়া আদায় ও অসম প্রতিযোগিতা না করার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় ঈদের আগে ৩ দিন ও পরের ৩ দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ছাড়া অন্য কোনো ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রাতে সব ধরনের মালবাহী জাহাজ, বালুবাহী বাল্কহেড ঈদের আগে ৫ দিন ও পরে ৫ দিন বন্ধ থাকবে।

নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে দেশে বন্যা হচ্ছে। সামনের দিনে বন্যার মাত্রা বাড়বে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে অতিরিক্ত স্রোতের কারণে গাড়ি পারাপার বিঘ্নিত হচ্ছে। ফেরিগুলো অনেক পুরনো হওয়ায় এগুলো স্রোতের তীব্রতায় চলতে পারছে না। তিনি বলেন, যাত্রী ও পশু পারাপারে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যত ফেরি চাওয়া হয়েছে তা দিতে পারব না।

কিছুটা ঘাটতি থাকবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুস সামাদ বলেন, বিআইডব্লিউটিসির পক্ষ থেকে শিমুলিয়া ও পাটুরিয়া ফেরিঘাটে সর্বোচ্চসংখ্যক ফেরি দেয়ার চেষ্টা করব। কিন্তু আমাদের ৬০-৭০ বছরের পুরনো ফেরিও আছে। আল্লাহ মাফ করুক, একটা ফেরিও যদি দুর্ঘটনায় ডুবে যায়, তাহলে প্রতিমন্ত্রী ও আমার চাকরি থাকবে না। দুর্ঘটনার কথা চিন্তা করে আমাদের জাহাজ ও ফেরি চালাতে হবে। তিনি বলেন, এবার বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানি মধ্যাঞ্চলে জমা হবে। এসব মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। সচিব বলেন, ঈদে একটি দুর্ঘটনা মহাবিপদ ডেকে আনবে।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর এম মাহবুব-উল ইসলাম বলেন, এবার ঈদে আমাদের ৫০ লাখ যাত্রী এবং প্রায় ৭০ লাখ কোরবানির পশু স্থানান্তর করতে হবে। এটা খুব স্বল্প সময়ে করতে হবে। আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে।

বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তি বিশ্বাস বলেন, তীব্র স্রোতের কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি পরিচালনায় বিঘœ ঘটছে। আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।

নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম বলেন, ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের সময় অতিরিক্ত লাইফ সেভিং ইকুইপমেন্ট রাখার দায়-দায়িত্ব লঞ্চমালিকদের নিতে হবে। লঞ্চমালিক সমিতির সহসভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, নদীপথে চর এলাকায় অতিসত্বর বাতি দিতে হবে।

স্রোত যখন নামে তখন লঞ্চও খুব দ্রুত চলে, তখন কোনো কারণে চরে লঞ্চ ঠেকে গেলে তা উল্টে যেতে পারে। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভূঁইয়া বলেন, এবার ভরা বর্ষায় ঈদ। এ সময়ে চাঁদপুরে ঘূর্ণিস্রোত হয়। পানির স্রোত এত বেশি যে, অনেক বড় নৌযানকেও উজানে ঠেলে আসা অত্যন্ত কষ্টকর।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার বলেন, শনিবার রাজবাড়ীতে ৪ কিলোমিটার যানজট ছিল। ফেরির খুব সংকট। কিছু ফেরি বসে আছে, তারা স্রোতের প্রতিকূলে যেতে পারে না। এ কারণে কখনও অপেক্ষমাণ যানবাহনের সারি ৬-৭ কিলোমিটার পর্যন্ত চলে যায়। ফেরি না থাকলে আমাদের কিছু করার থাকে না। ফেরি বাড়াতেই হবে।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক বলেন, গত বৃহস্পতিবারের তথ্য অনুযায়ী, ১৬টি ফেরির মধ্যে তিনটি ফেরি চালু রয়েছে। স্রোতের কারণে নাব্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে আরেকটি চ্যানেল প্রস্তুত করার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি দৃষ্টিতে আনা উচিত। মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার বলেন, ঢাকা থেকে শিমুলিয়ায় যাওয়ার পথ ভালো। তবে কোথাও কোথাও সেতুর কাজ চলায় এক লাইনে গাড়ি চলে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×