ব্যাংকে লেনদেনের চাপ ছুটির দিনেও

একদিনেই দুই মিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স

  হামিদ বিশ্বাস ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছুটির দিন শনিবারও ব্যাংকে ছিল লেনদেনের চাপ। এদিন রেমিটেন্স, পোশাক কারখানা এবং গরুর হাটের কাছাকাছি শাখাগুলো বিশেষ বিবেচনায় খোলা রাখা হয়েছিল। সে কারণে এ লেনদেনের উত্তাপ। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ছুটির দিনেও রেমিটেন্স ও পোশাক কারখানায় ভালো লেনদেন হয়েছে। তবে গরুর হাটের বেশির ভাগ লেনদেন বিকাশের মাধ্যমে হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অগ্রণী ব্যাংক শনিবার ১০০টি শাখা খোলা রেখেছিল রেমিটেন্স গ্রহণ ও বিতরণের জন্য। এছাড়া গরুর হাট ও পোশাক শিল্প এলাকায় আরও ২০টি শাখা খোলা ছিল।

জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস উল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, শনিবার সারা দিনে ২ মিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছে। অন্য লেনদেনও ভালো হয়েছে। ৩ হাজার ৫৩৫টি চেকের মাধ্যমে ৬০ কোটি ৬২ লাখ টাকা তুলেছেন গ্রাহকরা। পাশাপাশি ১ হাজার ৩৫১টি স্লিপে আমানত রেখেছেন ৬০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। শুধু অগ্রণী নয়, সব ব্যাংকই কিছু শাখা খোলা রেখেছে। তবে কয়েকটি ব্যাংকের অভিযোগ, পোশাক শিল্প এলাকা ও রেমিটেন্সের জন্য খোলা রাখা শাখাগুলো ছাড়া অন্য শাখা খোলা রেখে কোনো লাভ হয়নি। প্রচারের অভাবে গরুর হাটের অধিকাংশ লেনদেন ব্যাংকে হয়নি, চলে গেছে বিকাশে। জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের নয়াবাজার শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) শরিফুল হাসান খান যুগান্তরকে বলেন, শনিবার সব মিলে ২৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এটা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম। কারণ গরুর হাটের লেনদেন এখানে বেশি আসেনি। এসব লেনদেন হয়েছে বিকাশে।

এদিন রূপালী ব্যাংকের ৩৫টি শাখা খোলা ছিল। ব্যাংকটির গাবতলী হাট শাখার ম্যানেজার আশিক বলেন, শেষ কার্যদিবসে প্রায় দেড় কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। তবে গরুর লেনদেন খুব বেশি হয়নি।

এদিকে ব্যাংকে নগদ লেনদেনের চাপ বাড়লেও আন্তঃব্যাংক কলমানি সুদের হার স্বাভাবিক ছিল। গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় শেষ কার্যদিবসেও কলমানি সুদের হার ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিল। তবে শেষ কার্যদিবসে আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপো ব্যবস্থায় সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দেয়ায় কলমানিতে চাপ কম। জানা গেছে, গ্রাহকদের বাড়তি টাকার চাহিদা মেটাতে এবার ব্যাংকগুলো আন্তঃব্যাংক কলমানির পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপো ব্যবস্থায়ও অর্থ ধার নিয়েছে। শনিবার সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোকে রেপো ব্যবস্থায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ধার দেয়া হয়। এতে কলমানিতে চাপ পড়েনি। এদিন কলমানিতে লেনদেন হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগে নগদ টাকার চাহিদা বাড়ে। তাই এ সময় সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ পদক্ষেপের ফলে কলমানির সুদের হার স্বাভাবিক রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×