ঋণ অবলোপনে আরও শিথিলতা চায় এবিবি

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নীতিমালা শিথিলের পরও অবলোপনকৃত মন্দমানের খেলাপি ঋণ আদায় খুব বেশি হচ্ছে না। গত বছর এ ধরণের ঋণ আদায় হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ। যা ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিু। এরপরও অবলোপন নীতিমালায় আরও শিথিলতা চায় ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন- অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)। সংগঠনটি মন্দমানের খেলাপি ঋণ অবলোপনের সুযোগ চেয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকে।

ব্যাংক ব্যবস্থায় মন্দ মানে শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণ স্থিতিপত্র (ব্যালান্স শিট) থেকে বাদ দেয়াকে ঋণ অবলোপন বলে। যদিও এ ধরনের ঋণ গ্রহীতা পুরো টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তা প্রকৃত অর্থে খেলাপি ঋণ। ২০০৩ সাল থেকে ব্যাংকগুলো ঋণ অবলোপন করে আসছে।

২০০৩ সালের নীতিমালা মেনে খেলাপি ঋণ অবলোপন হলেও এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন নীতিমালা জারি করা হয়। সার্কুলার আকারে জারিকৃত নীতিমালায় বলা হয়, অবলোপনের আগে বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রি বা গ্যারান্টার থেকে পাওনা আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। আর সংশ্লিষ্ট ঋণ থেকে স্থগিত সুদ বাদ দেয়ার পর অবশিষ্ট স্থিতির সমপরিমাণ প্রভিশন রাখতে হবে। আগে পুরো দায়ের বিপরীতে প্রভিশন করতে হতো। তবে আগের মতোই পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে।

অবলোপনের পরও ঋণ আদায়ের চেষ্টা অব্যাহত রাখা, সম্পূর্ণ দায় পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। অবলোপন করা ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন করা যাবে না। বেসরকারি ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ আদায়ে তৎপরতা বাড়ানোর বদলে অবলোপনেই বেশি আগ্রহী। কারণ এ প্রক্রিয়ায় সহজেই খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। এজন্য তারা মন্দমানের খেলাপি ঋণ বছরের যে কোনো সময় অবলোপনের সুযোগ পেতে নীতিমালা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে খেলাপি ঋণ অবলোপন নিরুৎসাহিত করার পক্ষে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ওই সব ঋণ হিসাব অবলোপন করা হয় যাদের থেকে ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা একেবারেই কমে যায়। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, এ ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোর তৎপরতা থাকবে না। আমরা নীতিমালায়ই বলে দিয়েছি, এ ঋণ আদায়ে প্রত্যেক ব্যাংককে ‘ডেট কালেকশন ইউনিট’ গঠন করতে হবে। এছাড়া অবলোপন ঋণ হিসাবের বিপরীতে দায়েরকৃত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

সূত্র জানায়, অবলোপনকৃত মন্দমানের খেলাপি ঋণ আদায়ে ভাটা পড়েছে। গত বছর অবলোপনকৃত এ খেলাপি ঋণের বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আদায়ের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ শতাংশ, যা ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিু। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ- এ তিন মাসে অবলোপন খেলাপি ঋণের বিপরীতে আদায়ের হার মাত্র দশমিক ৫০ শতাংশ। ব্যাংকগুলোর জোরালো কোনো পদক্ষেপ ও উদ্যোগ না থাকার কারণেই অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ আদায়ের এমন নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নীতিমালা অনুযায়ী, যে সব মন্দ ঋণ তিন বছরেও আদায় করা যায়নি সেসব ঋণ হিসাব ব্যাংকগুলো অবলোপন করতে পারবে। কিন্তু এ নীতিমালা জারির পর গত এপ্রিলে সেটি সংশোধনের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠায় বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)।

এবিবির আবেদনের বিষয়ে গত মাসে ব্যাংকার্স সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। সেখানে বলা হয়, অবলোপন নীতিমালায় কী ধরনের পরিবর্তন আনা যেতে পারে, সে বিষয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নীতিমালাটি তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ঋণ অবলোপন নীতিমালা তৈরির সময় অবলোপনকৃত ঋণের বিপরীতে আদায়ের হার বিবেচনায় নেয়া হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×