স্থায়ী কমিটির বৈঠক

মিয়ানমারের কাছে নতি স্বীকার করেছে সরকার : ফখরুল

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালি ২ সেপ্টেম্বর করার সিদ্ধান্ত

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। একজন রোহিঙ্গাকেও তারা পাঠাতে পারেনি। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে পারেনি। সরকার মিয়ানমারের কাছে নতি স্বীকার করেছে। তাদেরই ফর্মুলা অনুযায়ী সরকার কাজ করেছে। শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে আইনিভাবে মোকাবেলার পাশাপাশি রাজপথে কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও বৈঠকে ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে র‌্যালি হওয়ার কথা থাকলেও তা পরিবর্তন করে ২ সেপ্টেম্বর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর বিকালে সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় স্থায়ী কমিটি।

বৈঠকে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপে যুক্ত ছিলেন। বিকেল ৫টা থেকে আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, সর্বশেষ যে সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রত্যাবাসনের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছিল তার সমাধান হয়নি অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, তাদের নিরাপত্তা, তাদের নিজের বাসভূমিতে ফিরে যাওয়া, তাদের সম্পত্তির মালিক হওয়া- এই বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়নি বলেই আস্থার অভাবে রোহিঙ্গারা চলে যায়নি। এসব ক্ষেত্রে কোনো কাজ না করে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। মিয়ারমারের ইচ্ছা পূরণে সরকার কাজ করছে বলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে আমরা মনে করি।

রোহিঙ্গা সমস্যার কিভাবে সমাধান আসতে পারে- প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা আগে বলেছিলাম যে, এই সমস্যার সমাধানে প্রথম হচ্ছে একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। প্রথমে দরকার ছিল সরকারপ্রধানের অতি দ্রুত মিয়ানমারকে যেসব দেশ সমর্থন করছে সেসব দেশ সফর করা। সেটা সরকার করে নাই, এখন পর্যন্ত তারা করে নাই। এই রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সফর বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বা সরকারের কোনো প্রতিনিধি দল করেননি। মিয়ানমার যে ফর্মুলাগুলো দিচ্ছে সেগুলো তারা নিচ্ছেন। এখানে বুঝা যায় তারা বাংলাদেশের ইন্টারেস্টটা সেভাবে দেখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্যাপক প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারণে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর কর্মসূচি। নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, বসতভিটাসহ সম্পদ ফেরত ও নিপীড়নের বিচার নিশ্চিত না হলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে না বলে আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২১ আগস্টের ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীদের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে মিথ্যাচার থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ২১ আগস্টের ঘটনা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচেয়ে নিন্দনীয় ঘটনা।

কিন্তু সরকারপ্রধান এ নিয়ে যা বলছেন তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওই ঘটনার সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে মামলায় এজাহারভুক্ত করা হয়। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে তাকে ওই মামলায় জড়ানো হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বৈঠকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আমরা মনে করি, তার চিকিৎসার উন্নতি যতটা হওয়া উচিত ছিল তা হয়নি। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থার দাবি জানাই। বৈঠকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×