ভুল আসামি জাহালমের কারাবাস

এবার ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাটকল শ্রমিক জাহালমকে আসামি করা সংক্রান্ত ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুদকের ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এবার আট কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা জানাল সোনালী ব্যাংক। ব্যাংকের এক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আর ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে হলফনামা করেছে সোনালী ব্যাংক।

এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ২২ আগস্ট সোনালী ব্যাংকের হলফনামা আকারে এ প্রতিবেদন পেয়েছি। যেখানে তদন্তে ৮ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা বলা আছে। বুধবার এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য আছে। ২১ আগস্ট পাটকল শ্রমিক জাহালমকে আসামি করে ঋণ জালিয়াতির মামলার ১১ তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে বলে হাইকোর্টকে জানায় দুদক। এরপর আদালত কর্মকর্তাদের তালিকা চেয়ে কি কারণে ওইসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে তা আগামী ২৮ আগস্ট জানাতে নির্দেশ দেন। সোনালী ব্যাংকের করা হলফনামায় তারা তাদের একটি তদন্ত প্রতিবেদন যুক্ত করে। তাতে বলা হয়, জালিয়াতির ঘটনায় সম্পৃক্ত/দায়িত্ব অবহেলার জন্য মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখা ও স্থানীয় কার্যালয় ঢাকার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তারিখে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী জারি করা হয়। জারিকৃত চার্জশিট নিষ্পত্তিপূর্বক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যাংক হিসাবটি খোলার ক্ষেত্রে যথাযথভাবে পরিচিতি গ্রহণ করা হয়নি। এছাড়া সার্বিক তত্ত্বাবধানে অবহেলার জন্য সোনালী ব্যাংকের মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক আজিজুল হকের বেতন বৃদ্ধি এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। পরবর্তীকালে ২০১৩ সালে পর্ষদের ৩১৪তম সভায় তাকে শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

অস্তিত্বহীন মোবাইল মেলা নামের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৭ হাজার ৮০ হাজার টাকার জালিয়াতি হয়েছে। এ ব্যাংক হিসাবটি খোলার ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করায় এবং ক্লিয়ারিং সংক্রান্ত কাজে অননুমোদিত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রোধে ব্যর্থতা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক আখলাফুন নাহারকে একটি বেতন বৃদ্ধি এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। পরবর্তীকালে ২০১৩ সালের ২৮৩তম সভায় এ শাস্তি থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

হিসাবের লেনদেনের প্রবণতা লক্ষ্য না করে এবং চেকের ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে ৫টি চেক বই ইস্যু করা হয়েছিল, যা ৯৬টি জালিয়াতিতে ব্যবহার করা হয়। এ অভিযোগে ব্যাংকটির মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখার সাবেক সিনিয়র অফিসার নিজাম উদ্দিনকে এক বছরের জন্য নিম্নস্তরের মাসিক বেতন দেয়া হয়। শাস্তির মেয়াদকালে তার বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বন্ধ রাখা হয়। অবশ্য শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি মূল বেতনও পান।

অননুমোদিত ভাউচার আনা-নেয়া, কম্পিউটার প্রিন্ট ও ভাউচার পরিবর্তন করা ও হিসাব খোলায় সহযোগিতা, ভুয়া/জাল স্বাক্ষর এবং স্ট্যাম্প ব্যবহার করার দায়ে ক্যান্টনমেন্ট শাখার সাপোর্টিং সাব স্টাফ মো. মাইনুল হককে ২০১৪ সালে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীকালে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও অর্থ পাচারের মামলা হয়। মামলাগুলো বিচারাধীন। মো. মাইনুল হককে প্রধান কার্যালয় থেকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার দায়ে ২০১৪ সালে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সাপোর্টিং সাব স্টাফ মিজানুর রহমানের বার্ষিক দুটি প্রবৃদ্ধি দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়। অননুমোদিত ক্লিয়ারিং ভাউচার লেখা ও মাইনুল হককে সহযোগিতা করার দায়ে ২০১৪ সালে স্থানীয় কার্যালয়ের সাপোর্টিং সাব স্টাফ আজিজুল হককে কঠোরভাবে সতর্ক করে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়। শাখা থেকে ফেরত আসা নিকাশ ঘরের লাল ভাউচার টিআরএ নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা না করা ও সার্বিক ক্লিয়ারিং সংক্রান্ত কার‌্যাবলী তদারকিতে অবহেলার কারণে ২০১৪ সালে স্থানীয় কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফর রহমানকে তিরস্কার করা হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×