ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন

কর্তৃত্ব হ্রাসের শঙ্কায় শহরের বিকেন্দ্রীকরণে বাধা দিচ্ছেন এমপিরা

  যুগান্তর ডেস্ক ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা (এমপি) তাদের কর্তৃত্ব হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কায় শহরের বিকেন্দ্রীকরণে বাধা দিচ্ছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে লন্ডনের প্রভাবশালী সাময়িকী দি ইকোনমিস্ট। গত মঙ্গলবার পত্রিকাটির এশিয়া সংস্করণে ‘লাইফ আফটার ঢাকা’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৪ সালে মাত্র ৯ শতাংশ বাংলাদেশি নগর বা শহরে বাস করতেন। বর্তমানে দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ৩৭ শতাংশ মানুষ শহুরে। আগামী কয়েক দশকে দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ শহরে বাস করবে। রাজধানী ঢাকা বেশির ভাগ গ্রামীণ অভিবাসীদের আকৃষ্ট করে। ১৯৮০ সালের ৩০ লাখ বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখে। এটি ‘ইতিমধ্যেই বিস্ফোরণোন্মুখ’, মন্তব্য করেছেন সলিমুল হক। যিনি অভিবাসীদের সহায়তা করার জন্য মোংলাসহ ৮টি জায়গায় শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর চেষ্টা করার কাজে নিয়োজিত একটি থিংক ট্যাংকের সঙ্গে যুক্ত।

ঢাকায় শ্রমিকের চাপ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছে। গত এক দশক ধরে বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি সাড়ে ছয় শতাংশ। দেশের মোট জিডিপির ৩৫ শতাংশই ঢাকার অবদান। ক্রমবর্ধিষ্ণু গার্মেন্ট শিল্প থেকেই আসছে ১১ শতাংশ জিডিপি। গার্মেন্ট বিপুলসংখ্যক অভ্যন্তরীণ অভিবাসীকে ধারণ করছে।

তবে প্রবৃদ্ধি এসেছে একটি চড়া দামে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ইনডেক্স অনুসারে, ট্র্যাফিক জ্যাম ও দূষণের জন্য কুখ্যাত ঢাকা। বিশ্বের বাস অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয়।

বাংলাদেশের থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজের (সিইউএস) মতে, প্রায় ৬০ শতাংশ বাসিন্দা অস্থায়ী কাঠামোয় বাস করেন। এই বস্তিবাসিন্দাদের অনেকেরই পরিষ্কার পানি এবং স্যানিটেশন ব্যবহারের অভাব রয়েছে এবং তারা উচ্ছেদের ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। এই পরিস্থিতিতে রোগগুলো বিশেষত পানিবাহিত রোগগুলোর বিস্তার ঘটে।

বেসরকারি সংস্থা আরবান পুওরের আবদুস শাহীন বলেছেন, ঘন ঘন অসুস্থতা, যা বস্তিবাসীদের কাজ থেকে বিরত রাখে এবং তা কার্যত তাদের দারিদ্র্যের ফাঁদে আটকে রাখে। ‘এটি অবশ্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যান্য ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করে,’ তিনি যোগ করেন।

পরিবেশগত ব্যয়ও রয়েছে। প্রতিদিন ১১ লাখ ঘনমিটার আবর্জনা নদীগুলোতে পাম্প করা হয়। শহরটি নিকটবর্তী জলাভূমিতে প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে এবং বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।

এই সমস্যাগুলো অত্যধিক কেন্দ্রীকরণ এবং উপেক্ষিত নগর পরিকল্পনার সংমিশ্রণ থেকে উদ্ভূত হয়েছে বলে বিশ্বাস করেন নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গার্মেন্ট শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটলেও সরকার তার করণীয় সম্পর্কে অসচেতন থেকেছে। গার্মেন্ট কর্মীদের স্বল্প খরচে আবাসন বা পরিষেবা দেয়ার কোনো চেষ্টাই করা হয়নি।

তবে সংসদ সদস্য, যারা তাদের কর্তৃত্ব হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা করছেন, তারা বিকেন্দ্রীকরণ প্রতিরোধ করছেন। নজরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা এতটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে, এখন এ থেকে বাঁচতে ভালো পরিকল্পনা গ্রহণ করা ছাড়া সরকারের আর কোনো উপায় নেই।

প্রায় ৩০ বছর পরে, সরকার আর সমস্যাটিকে উপেক্ষা করছে না। ডিসেম্বরে টানা তৃতীয় ৫ বছরের মেয়াদে নির্বাচিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পল্লী থেকে অভিবাসন রোধ করার চেষ্টা করছে। গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতে তারা বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেটের সংযোগসহ নগর অঞ্চলের মতো সমান সুযোগ সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করছে।

বিকেন্দ্রীকরণও এজেন্ডায় রয়েছে। সরকার নতুন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তৈরি করছে এবং তাদের উন্নয়নের জন্য আরও অর্থ প্রদান করছে। ঢাকার বাইরে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে আগামী দশকে ১০০টি শিল্প অঞ্চল তৈরি করা হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×