ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলা

১৪ বছর ঝুলে আছে বিচার কাজ

দুই চিকিৎসকের নামে ওয়ারেন্ট

  হাসিব বিন শহিদ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাড়ে ৫ বছর আগে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করা হলেও শেষ হয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার বিচার কাজ। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী দুই চিকিৎসক আদালতে হাজির না হওয়ায় মূলত এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ওই দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি রয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাদের খুঁজে না পাওয়ায় চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির বিচার কাজ ঝুলে গেছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এ মামলার বিচারক কাজ শেষ হবে। নতুন করে দুই চিকিৎসকসহ ৫ জনের প্রতি অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জরি করেছেন আদালত। আর দু-একজন সাক্ষ্য দিলেই সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায় শেষ হবে।

ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ সোমবার এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিনও আদালতে সাক্ষী হাজির না হওয়ায় ২২ মার্চ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন আদালত। একই সঙ্গে এদিন ওই দুই চিকিৎসকসহ ৫ সাক্ষীর বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

জানতে চাইলে হুমায়ুন আজাদের ছোট ভাই মো. মঞ্জুর কবির যুগান্তরকে বলেন, ১৪ বছর পার হলেও কোনো বিচার পাইনি। এখন আর কিছুই বলার নেই। তবে সরকারের কাছে একটাই দাবি, হুমায়ুন আজাদের স্মৃতিগুলো যেন রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। তার কবরসহ অন্যান্য স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আবু যুগান্তরকে বলেন, মামলায় চিকিৎসক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। আমারা সাক্ষীদের বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠিয়েছি। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষের কোনো অবহেলা নেই।

হুমায়ুন আজাদ হত্যা, মামলার তদন্ত ও বিচার : ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একুশে গ্রন্থমলা থেকে বাসায় ফেরার পথে বাংলা একাডেমির উল্টোদিকে ফুটপাতে ধর্মান্ধদের হামলার শিকার হয়ে মারাত্মক আহত হন ড. হুমায়ুন আজাদ। চিকিৎসার জন্য ২২ দিন ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে থাকার পর ৪৮ দিন ব্যাংককে ছিলেন। একই বছরের আগস্টে তিনি গবেষণার জন্য জার্মানিতে যান। ১২ আগস্ট মিউনিখে নিজের ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলার পরদিন তার ভাই মঞ্জুর কবির বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে তা হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়। এছাড়া একই ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনেও অপর একটি মামলা হয়। হত্যা মামলায় ৫৮ সাক্ষীর মধ্যে ৪১ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

২০১৬ সালের ৫ জুন দুই সাক্ষী ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল ইসলাম ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) তৎকালীন সার্জিক্যাল বিশেষজ্ঞ ডা. মেজর শওকত হাসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য না দেয়ায় অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানা পুলিশ ও ২৯ জানুয়ারি ক্যান্টনম্যান্ট থানা পুলিশ ওই দুই চিকিৎসক বর্তমানে কর্মরত নেই বলে আদালতে দায়সারা প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনে স্থায়ী ঠিকানায় খোঁজ নেয়া হয়েছে কিনা উল্লেখ নেই। মামলার তদন্ত শেষে সিআইডির পরিদর্শক লুৎফর রহমান ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল ৫ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। একই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ওই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হল- জেএমবির সূরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শফিক, আনোয়ার আলম ওরফে ভাগ্নে শহিদ, হাফিজ মাহমুদ, সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ ওরফে সাবু। আসামিদের মধ্যে শেষের দু’জন পলাতক ও হাফিজ মাহমুদ মারা গেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter