দেশের ভেতর মানুষ বেদখল হয়ে যাচ্ছে : ড. কামাল

যুদ্ধাপরাধ বিচার সঠিক অর্থে হয়নি : কাদের সিদ্দিকী

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশের ভেতর আমরা বেদখল হয়ে আছি। ১৭ কোটি মানুষকে বেদখল করে রাখা যাবে না। আমরা দেশের মালিকের ভূমিকায় থাকতে চাই। সত্যিকার অর্থে নির্বাচিত সরকার চাই। তিনি বলেন, দেশে মানুষ গুম-খুন হচ্ছে। জনগণের ঐক্যের মাধ্যমে এসবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শক্তি অর্জন করতে হবে।

সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণতন্ত্রের সংগ্রাম, রাষ্ট্রভাষার আন্দোলন ও আমাদের অঙ্গীকার’-শীর্ষক এ আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন ড. কামাল হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আসম আবদুর রব, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান, বাসদ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী ও বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য দেন ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, সংবিধানে বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণ তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। আর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রথম ও প্রধান শর্ত। নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে জনগণের পক্ষে জনগণের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। এটাই গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক রাজনীতির মূল কথা।

সংবিধান প্রণেতা বলেন, কার্যকর গণতন্ত্রের অভাবে জনগণ এখনও মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য সংগ্রাম করছে। দেশব্যাপী ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন ও নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক শক্তিকে উসকে দিচ্ছে। অপরদিকে শিক্ষায় নানা প্রকার পরীক্ষা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা জাতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। কার্যকর গণতন্ত্রের মাধ্যমে দেশ, জাতি ও জনগণকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কবল থেকে মুক্ত করা সম্ভব। আশা করি রাজনৈতিক দল ও শ্রেণীপেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকার মতবিনিময়ের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হবেন।

ড. কামাল বলেন, দেশের জন্য জীবন দেয়া শহীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য জনগণের ক্ষমতা দরকার। প্রশ্নফাঁস মহামারী আকার ধারণ করেছে। প্রশ্নফাঁস বন্ধ করতে কমিশন গঠনের দাবি উঠেছে। জনগণের সরকার হলে এ দাবি করতে হতো না। দেশের মানুষ আজ পরিবর্তন চায়।

ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, দেশের সবাই ক্ষমতায় যেতে চায়। কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না। রাজনীতিতে যে বিরাট দ্বন্দ্ব চলছে তার প্রধান কারণ উচ্চ ঝুঁকির রাজনীতি। ক্ষমতায় গিয়ে আমরা দারুণ ক্ষমতা দেখাই। আমরা গ্রেফতার করতে পারি, গুম করতে পারি। আড়াই হাজার কোটি টাকার বিচার না করে আড়াই টাকার মামলায় জেলে দিতে পারি। আর অন্যদের বলা হচ্ছে ঘরে বসে রাজনীতি করতে। আর তারা মাঠে ঘাটে ঘুরে দলের পতাকা, ভোটের বাক্সের প্রতীকের প্রচার চালাচ্ছে। উচ্চ ঝুঁকির রাজনীতি না হলে ক্ষমতায় গেলে যে সম্মান এবং ক্ষমতায় না থাকলে একই সম্মান পেত সবাই। রাজনীতির মান অনেক নিচে নেমে গেছে উল্লেখ করে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমানে উচ্চ ঝুঁকির রাজনীতি নির্মূল না হলে দেশে শান্তি আসবে না। ক্ষমতায় গেলে সরকারি দল বিরোধী দলের ক্ষতি করবে না- এই নিশ্চয়তা দিতে হবে। ভারতে এই নিশ্চয়তা আছে। সভায় মনজুরুল আহসান খান বলেন, দেশের জনগণ স্বাধীন চিন্তা করতে পারছে না। দেশের পরিস্থিতি ফ্যাসিবাদের দিকে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তি যদি ঐক্যবদ্ধ না হয় তবে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তিনি আরও বলেন, মানুষ অতিষ্ঠ। দেশে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আসম আবদুর রব বলেন, দেশে আজ গণতান্ত্রিক অধিকার নেই। ঘরে থেকেও স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই। ফ্যাসিবাদকে আদেশ-উপদেশ দিয়ে স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা যাবে না। ইয়াহিয়া খান এ সরকারের কাছে শিক্ষা নিতে পারলে আন্দোলন সংগ্রাম করতে দিত না। গুলি চালাত। বলা হয়, পুলিশ জনগণের বন্ধু। ‘দেশের মালিক জনগণ’- এটা আভিধানিক কথা, বইয়ের কথা। লড়াই-সংগ্রাম ছাড়া এর আগেও স্বৈরাচারের পতন হয়নি, এখনও হবে না।

বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, গণতন্ত্রের সঙ্গে উন্নয়নের বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা প্রাণ খুলে হাসতে পারি না, কথা বলতে পারি না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter